লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশেই জজ মিয়া নাটক

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:৩৭ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৭ | আপডেট: ৭:২৯:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৭

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন অব্যাহত রয়েছে।

বুধবার ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিনের আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলি সৈয়দ রেজাউর রহমান এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।

যুক্তিতর্ক শেষ না হওয়ায় বিচারক আগামী ১৮, ১৯ ও ২০ ডিসেম্বর মামলার পরবর্তী যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন।

এ দিন জজ মিয়া, তার মা জাবেদা খাতুন ও তার বোন খোরশেদা আক্তারের দেয়া সাক্ষ্যের ভিত্তিতে আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, জজ মিয়াকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখানো হয়েছে। তাকে রাজসাক্ষী করা ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখানো হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যদেরও এসব প্রলোভন দেখিয়ে এবং তাদের খরচ দিয়ে জজ মিয়ার কাছ থেকে এ মামলায় তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ম্যাজিস্ট্রেটকে দিয়ে অসত্য স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করানো হয়।

সৈয়দ রেজাউর রহমান বলেন, এ মামলার অপর সাক্ষী অতিরিক্ত আইজিপি মো. শামসুল ইসলাম যখন সিআইডিতে কর্মরত ছিলেন, তখন এ মামলার আসামি রুহুল আমিন তাকে বলেছিলেন- তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর বলেছেন- জজ মিয়াকে দিয়ে স্বীকারোক্তি করানোর জন্য। এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, তা করতে হবে।

রাষ্ট্রপক্ষে প্রধান কৌঁসুলির সঙ্গে ছিলেন মো. আকরাম উদ্দিন, আবুল কালাম আজাদ, আবু আব্দুল্লাহ ভূইয়া, ইমানুর রহমান, ফারহানা রেজা, আমিনুর রহমান, আবুল হাসনাত, আশরাফ হোসেন প্রমুখ।

আদালত সূত্র জানায়, গ্রেনেড হামলার ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলা দুটির বিচারকাজ একসঙ্গে চলছে।

হত্যা মামলায় মোট আসামি ৫২ জন ও বিস্ফোরকদ্রব্য আইনের মামলায় আসামি ৪১ জন।

সর্বমোট ৫২ আসামির মধ্যে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

এদের মধ্যে ৮ জন আসামি জামিনে এবং ২৩ জন কারাগারে আছেন।

এছাড়া তিন আসামির ফাঁসি কার্যকর হয়েছে।

বাকি ১৮ পলাতক আসামির অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চলছে। একইসঙ্গে পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টাও অব্যাহত আছে।

আলোচিত এই মামলায় মোট ৪৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২৫ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে।

এছাড়া মামলায় গত ১২ জুন মামলায় ৩১ আসামির আত্মপক্ষ শুনানি শেষ হয়।

বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৮ জন আসামি পলাতক থাকায় তারা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাননি।

  • যুগান্তর