আজ কথাসাহিত্যিক তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুবার্ষিকী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ১০:১৪:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১৪, ২০১৯

তানজিদ শুভ্রঃ

পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলার লাভপুর গ্রামে ১৮৯৮ সালে একটি জমিদার পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন বাংলা সাহিত্যের প্রখ্যাত ঔপন্যাসিক তারাশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়। বাবা হরিদাস বন্দ্যোপাধ্যায় ও মা প্রভাবতী দেবী। তারা মায়ের আশির্বাদে ছেলেকে পেয়েছেন বলে বিশ্বাস করতেন এ দম্পতি, তাই ছেলের নাম রাখেন তারাশঙ্কর। ছোটবেলায় মাদুলি, তাবিচ-কবচ ও বহু সংস্কারের গন্ডিতে বড় হয়েছিলেন তারাশংকর। তবে পরবর্তী জীবনে এ সব বিশ্বাস নিয়ে অনেক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ও জিজ্ঞাসা তার মনকে আলোড়িত করে তোলে। প্রগতিশীল চিন্তার শরিক হন তিনি। জীবন হয়ে ওঠে ঘটনাবহুল।

 

তারাশঙ্করের ছোটবেলা কেটেছিলো গ্রামের পরিবেশেই। পড়াশোনা শুরু হয় গ্রামের স্কুল থেকে। ছোটবেলায় পিতাকে হারান তিনি। বড় হতে থাকেন মা এবং বিধবা পিসিমার আদর-যত্নে। সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ-এ ইন্টারমিডিয়েট পড়ার জন্য ভর্তি হয়েছিলেন তারাশংকর। তখন যোগ দেন অসহযোগ আন্দোলনে। ভারতীয় স্বাধীনতা আন্দোলনের সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার কারণে কারাবরণ করতে হয় তাকে।

 

রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করা সম্ভব হয় নি তাঁর পক্ষে। ১৯৩০ সালে এক বছর কারাবাসের পর কিছু দিন গ্রামে কাটান তিনি। পরে কলকাতায় ফিরে পুরোপুরি সাহিত্যচর্চায় মনোনিবেশ করেন।

 

নিজে জমিদারবংশের সন্তান হওয়ার কারণে তারাশংকর কাছ থেকে দেখেছিলেন কীভাবে জমিদারি ক্রমশ বিলুপ্ত হয় ও নব্য ধনিক শ্রেণির উদ্ভব ঘটে। সে সময় দিকে দিকে কল-কারখানা ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে শুরু করে, একদিকে চলতে থাকে গ্রাম্য সমাজের ভাঙন, অন্যদিকে শহরজীবনের বিকাশ। সমাজের এ নীরব পরিবর্তন তাঁর রচনায় নিখুঁতভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তারাশঙ্করের রচনার আর একটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য-তিনি পরম যত্নের সঙ্গে মানুষের মহত্ত্বকে তুলে ধরেছেন।

১৯৭১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেছিলেন এ শক্তিমান কথাসাহিত্যিক।