সংগীতশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের অনুদান গ্রহণ এবং এস ও এস শিশু পল্লী

এ আল মামুন এ আল মামুন

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৭:৪৮ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৫০:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

এ আল মামুন, বিনোদন প্রতিবেদক: একটি শিশু যখন পিতা-মাতা, পরিজন হারায়, তখন তার কী মনে হয়? খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের মত মৌলিক চাহিদাগুলো তো আসবেই, কিন্তু তারচাইতেও গভীরে সে অনুভব করে আরো একটি অভাব। মায়ের অভাব। নিজের একটি পরিবারের অভাব। অনাথ, আশ্রয়হীন শিশুদের জন্য উষ্ণ ভালোবাসার অভাব পূরণ করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠান হলো এসওএস শিশুপল্লী।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর, ১৯১৯ সালে অস্ট্রিয়ায় জন্ম নেয় একটি শিশু; নাম রাখা হয় হারম্যান মেইনার। মাত্র পাঁচ বছর বয়সেই মাকে হারিয়ে অনাথ হন তিনি। ভাই-বোনদের আদরেই বড় হয়ে উঠেন।
১৯৭৯ সালে আন্তর্জাতিক শিশু বর্ষে রাজশাহীর তেরখাদিয়ায় রাজশাহী উন্নয়ন কতৃপক্ষ কতৃক প্রদত্ত জমির উপর ২য় এস ও এস শিশু পল্লী স্থাপিত হয়। এটি এস ও এস শিশু পল্লী রাজশাহী। ১৫ টি বাড়ি, কমিউনিটি সেন্টারও কিন্ডারগার্টেন নিয়ে গড়ে ওঠা এই শিশু পল্লীতে ১৫০ জন ছেলেমেয়ে একসাথে বসবাস করতে পারে। এই পল্লী প্রতিষ্ঠায় অর্থ যোগান দেয় নরওয়ে এস ও এস শিশু পল্লীর স্পন্সর বন্ধুরা।
ফেসবুক বন্ধুদের অনেকই জানেন না এস ওএস শিশু পল্লী রাজশাহীতেই আজকের এই জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পীর বেড়ে ওঠা। একজন এতিম অনাথ মানুষকে প্রধান মন্ত্রী অনুদান দিতেই পারেন। এন্ড্রু কিশোরের জীবনীতে কোথাও খুঁজে পাবেন না তার পিতা বা মাতার নাম। জন্ম রাজশাহী! কিন্তুু রাজশাহীর কোথায় সেটাও কোন খানে উল্লেখ নেই। পাবেন তার সন্তান সহধর্মিণীর নাম। আমরা উপরে উঠে গেলে অতীত ভুলে যাই। এটাই চরম বাস্তব। ৮০ দশকে রাজশাহীর এই এস ও এস শিশু পল্লীর পাশেই আমি দীর্ঘ ৪/৫ কাটিয়েছে। রাজশাহীর এই শিশু পল্লী নিয়ে সে সময় রাজশাহীর দৈনিক বার্তা ও বগুড়ার দৈনিক করতোয়া পএিকায় রিপোর্ট ও করেছি।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ভয়াবহ যে ধ্বংসযজ্ঞ শুরু হয়েছিলো, সেসব দেখে হারম্যান মেইনারের হৃদয় ব্যথায় জর্জরিত হয়। তিনি উপলব্ধি করেন, যুদ্ধ রোধ করার ক্ষমতা তার হাতে নেই, কিন্তু হয়তো যুদ্ধে স্বজন হারানো মানুষদের পুনর্বাসনে কিছু করতে পারবেন। তিনি লক্ষ করেন যে, যুদ্ধে স্বজন হারানো মানুষদের মাঝে সবথেকে অসহায় অবস্থায় থাকে শিশুরা। বাবা-মা, পরিবার-পরিজনকে হারিয়ে শিশুদের এই অসহায়ত্ব দেখে তিনি সিদ্ধান্ত নেন যে, এই গৃহহীন-পরিবারহীন শিশুদের জন্যই তাকে কিছু করতে হবে।
অভিনব কিছু করার আশায় হারম্যান মেইনার পকেটে মাত্র ৬০০ অস্ট্রিয়ান শিলিং (তৎকালীন মূল্যমান প্রায় ৪০ ডলার) নিয়ে ১৯৪৯ সালে অস্ট্রিয়ার ইমস্ট নামক শহরে গড়ে তোলেন ভিন্নধর্মী একটি গ্রাম। বিশাল জায়গা জুড়ে গড়ে ওঠা গ্রামটিতে তৈরি করা হয় আবাসিক এলাকার ন্যায় ছোট ছোট বাসা। সেই বাসাগুলোকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠে পৃথক পরিবার, প্রতি পরিবারেই নির্দিষ্ট সংখ্যা হিসেবে স্থান পায় অনাথ শিশুরা। একটি পরিবারে যে আদর-মমতায় একটি শিশুর বেড়ে উঠবার কথা ছিলো, সেসবকিছুই মাথায় রেখে পরিকল্পনা সাজান হারম্যান মেইনার।
তার এই অভিনব ও নতুন ধাঁচের গ্রামের কথা দ্রুত জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে বিশ্বমণ্ডলে, আসতে থাকে অনেক অনেক অনুদান। তার হাত ধরে বাড়তে থাকে গ্রামের সংখ্যাও। মৃত্যুকালে হারম্যান মেইনারের প্রতিষ্ঠিত গ্রামের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ২৩০-এ। মৃত্যুর মধ্য দিয়েও থেমে যায় না তার এ কাজ। তার পল্লীতেই বড় হয়ে ওঠা হেলমুট কুটিন দায়িত্ব নেন এই প্রাণের সংগঠনটির। দ্রুত গতিতে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে পড়তে থাকে এই সংগঠনটির অভিনব গ্রামগুলো।
আজকে আমার এই দীর্ঘ লেখার পিছনে কারন হলো জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোর কেনো প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে চিকিৎসার জন্য অনুদান নিলেন? এমন প্রশ্ন এখন দেশের সবার মনে, ফেইসবুক বন্ধুরাও পিছিয়ে নেই তার সমালোচনা করতে।
কিন্তু ফেসবুক বন্ধুদের অনেকই জানেন না এস ওএস শিশু পল্লী রাজশাহীতেই আজকের এই জনপ্রিয় কণ্ঠ শিল্পীর বেড়ে ওঠা। একজন এতিম অনাথ মানুষকে প্রধান মন্ত্রী অনুদান দিতেই পারেন। এন্ড্রু কিশোরের জীবনীতে কোথাও খুঁজে পাবেন না তার পিতা বা মাতার নাম। জন্ম রাজশাহী! কিন্তুু রাজশাহীর কোথায় সেটাও কোন খানে উল্লেখ নেই। পাবেন তার সন্তান সহধর্মিণীর নাম। আমরা উপরে উঠে গেলে অতীত ভুলে যাই। এটাই চরম বাস্তব।
মানুষের ভিতরের অনেক খবরই হয়তো আমরা রাখিনা, বাহিরটা দেখেই অনেক মন্তব্য করে থাকি, তাই অনুরোধ আগে জানুন তারপর নাহয় মন্তব্য করুন।
লিখেছেন, সাংবাদিক ও অভিনেতা আহাম্মেদ সাব্বির রোমিও।