আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি শারীরিক অবস্থা ভালোনা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৩২ পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৩৯:পূর্বাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯

মিন্নি অ’সুস্থ…
বরগুনার আ’লোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলার প্রধান সাক্ষী থেকে আ’সামি বনে যাওয়ার পর জামিনে মুক্ত রিফাতের স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। বর্তমানে তিনি অ’সুস্থ। বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তার। মিন্নির পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, তার উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু মা’মলার পরবর্তী তারিখ হাতের নাগালে থাকায় তাকে ভালো কোনো হাসপাতা*লে ভর্তি করা যাচ্ছে না।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়ে বাড়িতে অবস্থান করছেন মিন্নি। স্মৃ’তিকাতর ও বিষণ্নতা নিয়ে বরগুনা পৌরসভা’র মাইঠা এলাকার বাবার বাড়িতে বাবা মোজ্জাম্মেল হোসেন কি’শোরের জিম্মায় রয়েছেন তিনি। কারামুক্ত মিন্নির সঙ্গী এখন শারীরিক অ’সুস্থতা। একপ্রকার মানসিক ভা’রসাম্যহীন হিসেবে বাবার বাড়িতে জীবনযাপন করছেন তিনি।

মিন্নির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে মিন্নি ছিল সদা হাস্যোজ্জ্বল, চঞ্চল ও স্বজনদের সঙ্গে সদালাপী। অনেক স্বজনের মাঝেও এখন সেই মিন্নি ভুগছেন একাকিত্বে। শারীরিকভাবে অ’সুস্থ মিন্নি এখন স্বামী রিফাত শরীফের স্মৃ’তিতে কাতর। একরাশ বিষণ্নতা নিয়ে একাকি ঘরে দিন কাটে মিন্নির। তবে মিন্নির এমন জীবনযাপনে চিন্তিত স্বজনরা। উদ্বিগ্ন তার বাবা-মা।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কি’শোর বলেন, দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে মিন্নির। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। খেতে চায় না কিছুই। নিজের ঘরে সবসময় চুপচাপ থাকে সে। কখনো কখনো কাঁদে মিন্নি। যে ঘরে মিন্নি থাকে সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃ’তি। এসব স্মৃ’তি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চি’ৎকার করে মিন্নি।

মোজাম্মেল হোসেন কি’শোর আরও বলেন, মিন্নি অনেক অ’সুস্থ। তার উন্নত চিকিৎসা দরকার। আম’রা মিন্নির আইনজীবীর পরাম’র্শ নিয়েছি। কয়েকদিন পর রিফাত হ’ত্যা মা’মলার ধার্য তারিখ রয়েছে। ওই তারিখে মিন্নিকে আ’দালতে হাজির হতে হবে। ওই তারিখের পরে মিন্নির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। আপাতত চিকিৎসকের পরাম’র্শে বাড়িতে মিন্নির চিকিৎসা চলছে।

মিন্নির চাচা মো. আবু সালেহ বলেন, মিন্নির খাওয়া-দাওয়া নেই, ঘুম নেই; আছে শুধু বিষণ্নতা। উদাসীনভাবে একেক সময় একেক দিকে তাকিয়ে থাকে মিন্নি। তার সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তার পেটে এবং বুকে ব্যথা। আম’রা মিন্নিকে নিয়ে চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন।

চাচা আবু সালেহ আরও বলেন, মিন্নির জামিনে কারামুক্ত থাকার ব্যাপারে আ’দালতের কিছু নির্দেশনা রয়েছে। আম’রা সেসব নির্দেশনা মেনে অ’তি দ্রুত মিন্নির উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করব। মিন্নির স্বাভাবিক জীবনযাপন ও চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটে এমন কাজ থেকে উৎসুক মানুষকে বিরত থাকার অনুরোধ জানাই আম’রা।

মিন্নির অ’সুস্থতার বিষয়ে জানতে চাইলে মিন্নির আইনজীবী মাহবুবুল বারী আসলাম বলেন, মিন্নির অ’সুস্থতার বিষয়টি আমি জানি। এ বিষয়ে উচ্চ আ’দালতে মিন্নির আইনজীবী জেড আই খান পান্নার সঙ্গে কথা বলেছি আমি। মিন্নির চিকিৎসার জন্য আমি মিন্নির বাবাকে পারাম’র্শ দিয়েছি। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর রিফাত হ’ত্যা মা’মলার ধার্য তারিখ রয়েছে। তার আগেই মিন্নিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য যেকোনো যায়গায় নেয়া যাবে। তবে ধার্য তারিখে মিন্নিকে আ’দালতে উপস্থিত থাকতে হবে।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতা*লে তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহবার উদ্দীন বলেন, মিন্নি মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। তার স্বল্প বয়সের জীবনে যা ঘটেছে, গণমাধ্যমে তা দেখে আম’রাই ঘাবড়ে গেছি। তার সুন্দর জীবন লন্ডভন্ড করে দিয়েছে একটি ঘটনা। জীবনে ঘটে এসব ঘটনা যখন তার মনে পড়ে, সেসব দৃশ্য যখন তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন তার স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। এসব কারণে মূলত মিন্নি উদাসীন, বিষণ্ন ও স্মৃ’তিকাতর।

চিকিৎসক মো. সোহবার উদ্দীন আরও বলেন, সময় নষ্ট না করে মিন্নিকে কাউন্সিলিংয়ের পাশাপাশি একজন মানসিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা করানো দরকার। এতে মিন্নি স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে। পাশাপাশি মিন্নির শারীরিক অন্য কোনো অ’সুস্থতা থাকলে তারও চিকিৎসা করানো দরকার।

প্রসঙ্গত, বরগুনার আ’লোচিত রিফাত শরীফ হ’ত্যা মা’মলায় স্ত্রী’ আয়শা সিদ্দিকা মিন্নিকে দুই শর্তে জামিন মঞ্জুর করে রায় দেন হাই’কোর্ট। যে দুই শর্তে মিন্নিকে জামিন দেয়া হয়েছে তা হলো- মিন্নি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে পারবেন না ও তাকে তার বাবার জিম্মায় থাকতে হবে।

২৯ আগস্ট হাই’কোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এ আদেশ দেন। জামিনে থাকা অবস্থায় মিন্নি গণমাধ্যমের সাথে কথা বললে তার জামিন বাতিল হবে বলেও আদেশে উল্লেখ করেন আ’দালত।