বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে “রোহিঙ্গা সংকট ও ঐতিহাসিক শেকড় সন্ধান এবং সমকালীন বাস্তবতা” শীর্ষক সেমিনার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৫৬ অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৫৬:অপরাহ্ণ, সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৯

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইতিহাস ও সভ্যতা বিভাগের আয়োজনে জীবনানন্দ দাশ কনফারেন্স অডিটোরিয়ামে “রোহিঙ্গা সংকট ও ঐতিহাসিক শেকড় সন্ধান এবং সমকালীন বাস্তবতা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

৫ই সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় ইতিহাস বিভাগের সভাপতি ড.আব্দুল বাতেন চৌধুরীর সভাপতিতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ ও পরিচিতি করার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য) ড.এ কে এম মাহবুব হাসান,প্রধান বক্তা ঢাবির ইতিহাসের অধ্যাপক ড.মেসবাহ কামাল,বিশেষ অতিথি ববির ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড.মোঃ মহসিন উদ্দীন,ইতিহাস বিভাগের চেয়ারম্যান ড.আব্দুল বাতেন চৌধুরীসহ অন্যান্য শিক্ষকমন্ডলীরা।

অনুষ্ঠানে শুরুতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার (দায়িত্বপ্রাপ্ত উপাচার্য) অধ্যাপক ড.এ কে এম মাহবুব হাসান রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বলেন,বর্তমান রোহিঙ্গা সমস্যা একটি বিরল সমস্যা যা দেশের অর্থনীতির উপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে এবং এই সমস্যা নিরোসন করতে না পারলে দেশের ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন।বর্তমান সরকার এই রোহিঙ্গা সমস্যা নিরোসন করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে যা প্রশংসার দাবিদার।

প্রধান বক্তা ঢাবির ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড.মেসবাহ কামাল বলেন,রোহিঙ্গা সমস্যা পৃথিবীর একটি বড় সমস্যা।কারণ ১৮লক্ষ রোহিঙ্গা বিভিন্ন দেশে বিদ্যমান তার মধ্যে বাংলাদেশে ১১-১২ লক্ষ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে।রোহিঙ্গারা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এবং তাদের যে নাগরিকত্ব দেওয়া হয়েছিলো মায়ানমারে,সেটি পরে প্রত্যাখ্যান করে তাদেরকে বিতাড়িত করার জন্য হত্যা,ধর্ষণ,ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন নির্যাতন করে আসছে দেশটি।মায়ানমার সরকারের উদ্দেশ্য সংখ্যালঘু (অধিকাংশ মুসলিম) রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করে ভূমি দখল করা।

তিনি আরো বলেন,,পাকিস্তান যেমন আমাদের উপর খুন,ধর্ষণ ও নির্যাতন চালাতো তারা ভূমি দখল করার জন্য ঠিক তেমনি মায়ানমারও ভূমি দখল করার জন্য রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন করেছে।বাংলাদেশেকে প্রশংসা করে বলেন,২০১০ সালের মোট ২৪টি জাতিকে স্বীকৃত প্রদান করেন পরবর্তীতে অর্থাৎ ২০১৫ সালে স্বীকৃত দেন ৫০টি জাতিকে যা এক মহান দৃষ্টান্ত কিন্তু মায়ানমার ১৩৫টি জাতির মধ্যে মাত্র ৮টি জাতিকে স্বীকৃত দেন যা একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে কখনো কাম্য নই।তিনি বলেন একটি দেশে নানা জাতি,ধর্মের মানুষ বসবাস করতেই পারে তাতে সাম্প্রদায়িকতার স্থান দেওয়া ঠিকনা,অসম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী হয়ে সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।তিনি সকল শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে বলেন, সকল সমস্যা নিরোসন করার জন্য ছাত্রদের গবেষণা ও সচেতন হতে হবে তাহলে সমস্যার সমাধান করার প্রত্যয় গ্রহণ করা যাবে।
অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান ড.মুহাম্মদ মুহাসিন উদ্দীন,ইতিহাস বিভাগের প্রভাষক হাবিবুল্লাহ মিলন ও সুরাইয়া আক্তারসহ প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে অধ্যাপক ড.মেসবাহ কামালকে সম্মাননা স্মারক প্রদান ও উন্মুক্ত প্রশ্ন করার মধ্য দিয়ে পরিসমাপ্তি ঘটে।