ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২৪ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ | আপডেট: ৯:২৪:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র পদে নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসি

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে উপ-নির্বাচন আয়োজনে প্রস্তুত হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই সিটিতে ১৮টি ওয়ার্ড সংযুক্ত করা হলেও নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় কোনো আইনী জটিলতা নেই বলে মনে করছে কমিশন। তবে তফসিল ঘোষণার আগে তথ্য-উপাত্ত সংক্রান্ত যাবতীয় ওয়ার্কিংপেপার প্রস্তুত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

সোমবার বিকালে সিইসির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এ নির্দেশ দেয়া হয়। এই নির্দেশনা দিয়ে আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় সিইসি শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন বিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগদানের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। ফিরবেন আগামী শুক্রবার। দেশে ফিরেই তফসিল ঘোষণা করতে পারেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ইত্তেফাককে বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাচন আয়োজনের চিঠিপত্র পেয়েছি। তথ্য-উপাত্তসহ নির্বাচন সংক্রান্ত ওয়ার্কিংপেপার প্রস্তুত করার নির্দেশনা দিয়েছেন সিইসি। তবে কবে কখন নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে সিইসি দেশে ফিরলে চূড়ান্ত হবে।

গত ৪ ডিসেম্বর সদ্য প্রয়াত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হকের পদটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। গেজেটে ১ ডিসেম্বর থেকেই মেয়র পদ শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। আইনে আসন শূন্য হওয়ার নব্বই দিনের মধ্যে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে ২৮ ফেব্রুয়ারি সময় পূর্ণ হবে। গত ৩০ নভেম্বর রাতে আনিসুল হক লন্ডনে চিকিত্সারত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা সিটি করপোরেশনের পার্শ্ববর্তী ১৬টি ইউনিয়ন পরিষদ ভেঙ্গে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৮টি করে মোট ৩৬টি ওয়ার্ডে যুক্ত করা হয়। গত আগস্টে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় চিঠি দিয়ে নির্বাচন আয়োজনের অনুরোধ করলেও এ সংক্রান্ত কোনো নীতিমালা না থাকায় নির্বাচন করতে পারেনি ইসি। ঢাকার দুই সিটিতে নির্বাচন আড়াই বছরে বেশি সময় পার হয়েছে। এই অবস্থায় উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র পদ শূন্য হয়েছে। এখন ডিএনসিসিতে সংযুক্ত নতুন ১৮টি ওয়ার্ডে কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে, নাকি শুধু মেয়র পদে নির্বাচন হবে তা স্পষ্ট নয়। তাছাড়াও ভোটার হালনাগাদ কার্যক্রমও চলছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি ভোটার তালিকা চূড়ান্ত হবে। তবে আইনানুযায়ী চূড়ান্ত ভোটার তালিকার আগেই ডিএনসিসির মেয়র পদে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে হবে। পুরাতন ভোটার তালিকা দিয়ে ভোট আয়োজন করতে হবে। এতে জটিলতা হতে পারে। অন্যদিকে নবগঠিত ওয়ার্ডে নির্বাচন আয়োজনের জন্য আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে।

সিইসির সভাপতিত্বে অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে বিভিন্ন জটিলতার বিষয়টি আলোচনায় প্রাধান্য পায়। তবে বৈঠকে উপস্থিত সংশ্লিষ্টদের মতো, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে না। তবে শুধু মেয়র পদে নাকি কাউন্সিলর পদে নির্বাচন হবে তা কমিশন সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। নির্বাচনের পর মেয়র বা ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের মেয়াদ নিয়ে কোনো জটিলতা হলে সেটি ইসির এখতিয়ারভুক্ত নয়।

২০১৫ সালের ২৮ এপ্রিল ঢাকা উত্তর, দক্ষিণ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোট হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৩৬টি সাধারণ ও ১২টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ভোট হয়। পরে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ দুই সিটি করপোরেশনের পার্শ্ববর্তী ৮টি করে মোট ১৬টি ইউনিয়ন ভেঙ্গে সিটি করপোরেশনের এলাকাভুক্ত করে গত ২৬ জুলাই গেজেট প্রকাশ করে। এতে ঢাকা উত্তরের সাথে নতুন করে ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত করা হয়। নবগঠিত এলাকা নিয়ে এ সিটিতে মোট সাধারণ ওয়ার্ড সংখ্যা এখন ৫৪টি এবং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের সংখ্যা ১৮টি। দক্ষিণের সাথে নতুন ১৮টি ওয়ার্ড যুক্ত হওয়ায় এ সিটিতে এখন মোট সাধারণ ওয়ার্ড ৭৫টি ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সংখ্যা ২৫টি।

  • ইত্তেফাক