রাখাইনে সেনাবাহিনীর ধর্ষণ পরিকল্পিত

মার্কিন বার্তা সংস্থা এপির অনুসন্ধানী প্রতিবেদন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ | আপডেট: ৯:২২:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
রাখাইনে সেনাবাহিনীর ধর্ষণ পরিকল্পিত
রোহিঙ্গা নারীদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর যৌন নিপীড়নের ঘটনা অনুসন্ধান করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ও পরিকল্পিত ধর্ষণের আলামত পেয়েছে একটি মার্কিন বার্তা সংস্থা। এক অসুন্ধানী প্রতিবেদনে তারা জানিয়েছে, কখনো সামনে স্বামীকে বেঁধে রেখে, কখনো আবার স্বামী-সন্তানকে হত্যার পর ধর্ষণ করা হয় ওই নারীদের। ধর্ষণের আগে-পরে রোহিঙ্গা নারীদের গোপনাঙ্গে বন্দুকের নল ঢুকিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও জানতে পেরেছে প্রতিবেদক। বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত ২৯ রোহিঙ্গা নারীর সঙ্গে পৃথক পৃথক সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। খবর ওয়াশিংটন পোস্টের।
২৫ আগস্টের পর রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের চিত্র উঠে আসে সবার সামনে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর নিধনযজ্ঞ থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে ছয় লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা। তাদের মুখে উঠে আসে সেনাবাহিনীর বর্বরতার চিত্র। ২০১৬ অক্টোবর থেকে চলতি বছর সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত এই নিপীড়ন চলে। পৃথকভাবে তাদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হলেও সবার ঘটনা প্রায় একই বলে জানায় তারা। প্রত্যেকেই নিজের নামের প্রথম অক্ষর বলতে রাজি হয়েছেন।

জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী বলে চিহ্নিত করেছে। রোহিঙ্গাদের বেশিরভাগেরই বসবাস এখন বাংলাদেশে। ‘এফ’ নামে একজন বলেন, জুন মাসের এক রাতে ঘুমাচ্ছিলেন তিনি ও তার স্বামী। হঠাৎ মাঝ রাতে তাদের দরজা ভেঙে ঢুকে পড়ে সাতজন সেনা। তখনই বুঝে যান কি ঘটতে চলেছে তার সঙ্গে। তার বাবা-মা ও ভাই খুন হয়েছে এই সেনা সদস্যদের হাতে। আর এবার আসলো তার জন্য। এসেই তার স্বামীকে বেঁধে ফেলে, মুখে কাপড় গুঁজে দেয়। অসহায় হয়ে পড়ে দুজনই। এরপর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন ওই নারী। একইসঙ্গে চলতে থাকে বেত্রাঘাত। একটা সময় মুখের কাপড় ফেলে চিত্কার করতে সক্ষম হয় তার স্বামী। কিন্তু তখনই সেনারা গুলি করেন। একজন কেটে ফেলেন গলা। আর ধর্ষণের পর তাকে বাইরে এনে পুড়িয়ে দেন বাড়ি। দুই মাস পর এফ জানতে পারেন তিনি গর্ভবতী।

নিপীড়নের শিকার প্রত্যেক নারীই বলেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর একদল কর্মী এই কাজে যুক্ত ছিল। একজন বাদে প্রত্যেক নারীই বলেছেন যে হামলাকারীদের পরনে সেনাবাহিনীর মতো ইউনিফর্ম ছিল। যেই একজন বলেছিলেন যে হামলাকারী সামরিক পোশাকে ছিলেন না তাকেও সেনাঘাঁটিতে দেখেছেন প্রতিবেশীরা। অনেক নারী জানান, হামলাকারীদের পোশাকে তারা, তীর কিংবা সামরিক বাহিনীর অন্যান্য চিহ্ন দেখতে পেয়েছেন। ‘এফ’ এর মতোই ধর্ষণের শিকার হয়েছেন প্রায় সবাই। প্রথমে পুরুষদের কাছ থেকে তাদের আলাদা করে ফেলা হয়। এরপর অন্য কোথাও নিয়ে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় তাকে।

ধর্ষণের শিকার নারীরা জানান, চোখের সামনেই হত্যা করা হয় তাদের সন্তানদের। স্বামীকে গুলি করে বা পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়। প্রিয়জনকে মাটি দিয়ে রাতের অন্ধকারেই পালিয়ে আসতে হয় সবাইকে। নিপীড়নের কথা বলতেই থাকেন নারীরা। সেই কষ্ট নিয়েই পায়ে হেঁটে লম্বা পথ পাড়ি দিয়ে আসেন বাংলাদেশে। ‘এন’ নামে একজন বলেন, তিনি ধর্ষণের পর বেঁচে গেছেন। কিন্তু নিজের স্বামী, দেশ ও শান্তি হারিয়েছেন। তারপরও তিনি কথা বলেন হয়তো কেউ তার কথা শুনবেন। তিনি বলেন, ‘আমার কিছুই নেই। আমি শুধু কথাই বলতে পারি।’
  • ইত্তেফাক