সিলেট সদর আসনে জিয়া পরিবারেই আগ্রহ বিএনপিতে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:০২ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭ | আপডেট: ১২:০২:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১২, ২০১৭
সিলেট সদর আসনে জিয়া পরিবারেই আগ্রহ বিএনপিতে

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট সদরের মর্যাদাপূর্ণ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হিসেবে কে লড়বেন? বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে সেই আলোচনা। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বা তার পুত্রবধূ ডা. জোবাইদা রহমানকে ঘিরেই নেতাকর্মীরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন। তবে জিয়া পরিবার থেকে কেউ প্রার্থী না হলে সেক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরীকেও এই আসনে মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে। সেখানকার বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে এমন আভাস মিলেছে।

দলটির স্থানীয় নেতাকর্মীরা মনে করছেন, সিলেট সদর আসনটি ম্যাজিক আসন বলা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে বিজয়ী দলই প্রতিবার সরকার গঠন করেছে। বিএনপি যে কয়বার ক্ষমতায় এসেছে প্রতিবারই সেখানে বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। সর্বশেষ ২০০১ সালে নির্বাচনেও প্রয়াত অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান এই আসনে জয়ী হন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রয়াত সাইফুর রহমান আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে পরাজিত হন। এসব বিবেচনায় প্রতিবারই আওয়ামী লীগ- বিএনপি তাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সেখানে মনোনয়ন দিয়ে থাকেন।

আগামী নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইন বলেন, ‘ভোটের লড়াইয়ে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট সদরের নির্বাচনী এলাকা। আমরা চাই জিয়া পরিবারের কেউ সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করুক। চেয়ারপারসন নির্বাচন করলে ভালো হয়। অন্যদিকে সিলেটের মেয়ে হিসেবে আমাদের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী যদি এখান থেকে নির্বাচন করেন তাহলে সেটি হবে সোনায় সোহাগা। আমরা অধীর হয়ে তার জন্য অপেক্ষা করছি।’

সিলেট মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি ড. নাজমুল ইসলামও একই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘জাতীয় ও স্থানীয় রাজনীতির বিবেচনায় সিলেট-১ আসনে ভোটাররা শক্তিশালী প্রার্থী চান। এই আসনে চেয়ারপারসন বা জিয়া পরিবারের কেউ এলে দলের নেতাকর্মীসহ সবাই সাদরে গ্রহণ করবে। তবে এর বাইরে কাউকে প্রার্থী করা হলে সেক্ষেত্রে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী দলের জন্য ইতিবাচক ফল আনতে পারবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অতীতে সিলেট সদর থেকে প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী ও বিএনপির প্রয়াত সাইফুর রহমানের মতো যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হয়েছেন। সে হিসেবে ইনাম আহমেদের বিকল্প কোনো প্রার্থী আছে বলে আমরা মনে করি না।

তাদের বাইরেও বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণের মুখে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা খন্দকার আবদুল মোক্তাদির ও নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর স্ত্রী তাহমিনা রুশদী লুনার নাম আলোচনায় রয়েছে।

তবে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ইনাম আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘সবদিক বিবেচনা করে জিয়া পরিবারের কাউকে মনোনয়ন দেওয়া হলে আসনটি বিএনপি নিশ্চিত পুনরুদ্ধার করতে পারবে। এর বাইরে দল থেকে যাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তাকে বিজয়ী করতে সবাই ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করবে।’

অন্যদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য খন্দকার আবদুল মোক্তাদির বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন সিলেট-১ আসন থেকে প্রার্থী হওয়ার খবর আমরা শুনছি। যদিও বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তিনি প্রার্থী হওয়ার খবরে সিলেটের মানুষের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। আর তিনি সিলেটে প্রার্থী হলে অভিভাবক হিসেবে আমরা সরাসরি দলীয় প্রধানকে পাবো। এর চেয়ে খুশির খবর আর কিছুই হতে পারে না।’

এদিকে বিএনপির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া না হলেও আগামী নির্বাচনের জন্য ভিতরে পুরোদমে প্রস্তুতি নিচ্ছে দলটি। ইতোমধ্যে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব একটি খসড়া প্রার্থী তালিকা প্রস্তুত করেছে। সেই তালিকাতেও সিলেট সদর আসনে জিয়া পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম রয়েছে। যার মধ্যে তারেক রহমানের স্ত্রী সিলেটের মেয়ে ডা. জোবাইদা রহমানের নাম রয়েছে।

সিলেট সদর আসনে বিএনপির প্রার্থীর বিষয়ে চিন্তা-ভাবনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থায়ী কমিটির প্রথম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘আমরা যে নির্বাচনে যাবো সেখানে আগে দেখতে হবে দেশের কি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। কারণ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি আদায়ে আমরা আন্দোলন করছি। এসব দাবি পূরণ হলেই বিএনপি নির্বাচনে যাবে। সেরকম পরিবেশ পরিস্থিতিতে কখন কোথায় কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে তখনই সিদ্ধান্ত হতে পারে।’

আর বিএনপি চেয়ারপারসন কোথায় কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন সেটিও তখন তার সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হবে বলেন খন্দকার মোশাররফ।

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমদ আযম খান বলেন, ‘ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) অতীতে দেশের যেকোনো আসন থেকে নির্বাচন করে সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জয়ী হয়েছেন। একমাত্র নেত্রী হিসেবে তিনিই সব আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু হলে তিনি (খালেদা জিয়া) যেকোনো আসনে নির্বাচনের চ্যালেঞ্জ নিলে সেখানেও জয়ী হবেন।’

আর ভোটের রাজনীতিতে ‘মিথ’ আছে- ‘সিলেট-১ আসন যার, ক্ষমতা তার’। স্বাধীনতার পর থেকে এই আসনে যে দলের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন তারাই সরকার গঠন করেছে। এ কারণে আগামী নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিশেষ নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলের। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মালিক, তৃতীয় ও চতুর্থ সংসদ নির্বাচনে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী, পঞ্চম ও ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খন্দকার আবদুল মালিক, ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী এবং অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এম সাইফুর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। সর্বশেষ নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন বর্তমান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এর মধ্যে খন্দকার আবদুল মালিক ছাড়া সবাই এই আসন থেকে মন্ত্রী হয়েছিলেন। নির্বাচিত এসব সংসদ সদস্যের দলই সে সময় সরকার গঠন করে।

  • আজকালের খবর