কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও, দুজন কারাগারে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৪৮ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ | আপডেট: ১১:৪৮:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭
কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও, দুজন কারাগারে

রাজশাহী নগরীর একটি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির কার্যালয়ে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ করে ভিডিও ধারণের ঘটনায় দুজনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ সোমবার দুপুরে রাজশাহীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

গতকাল রোববার রাতে দুজনকে আটক করে পুলিশ। তাঁরা হলেন জয়পুরহাট জেলার সতিঘাটা এলাকার সোহেল রানা ওরফে একরাম (২৫) ও বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর এলাকার জয়নাল আবেদীন (৩৬)।

এঁদের মধ্যে জয়নাল আবেদীন প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির লিমিটেডের রাজশাহী রিজিওনাল কো-অর্ডিনেটর ও ইসলামী তাকাফুল বীমা ডিভিশনের রাজশাহীর ইনচার্জ পদে কর্মরত। একরাম নগরীর অলোকার মোড়ে প্রগতি লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের রাজশাহী রিজিওনাল অফিসের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বসবাস করেন।

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে একরামের সঙ্গে ওই কলেজছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের প্রলোভন দিয়ে একরাম ওই ছাত্রীকে নিয়ে নগরীতে ঘুরে বেড়াতেন। বিষয়টি ওই কলেজছাত্রীর পরিবারের লোকজন জানতে পেরে একরামকে নানাভাবে সতর্ক করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় এক ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছেও মেয়েটির পরিবার একরামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে।

আরো জানা যায়, এ নিয়ে গত ১০ আগস্ট একরামকে ওই ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে শাসানো হয়। পাশাপাশি তাঁর কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। তাতে সাক্ষী হিসেবে সই করেন ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীন। এরপর একরাম ওই কলেজছাত্রীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ইন্স্যুরেন্স অফিসে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেন এবং তা মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করেন।

পুলিশ জানায়, ধর্ষণের ভিডিও একরাম পরবর্তী সময়ে তাঁর বন্ধু ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে দেখান এবং তাঁর মোবাইলে রাখেন। বিষয়টি গত শনিবার মেয়ের পরিবারের লোকজন জানতে পারলে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করে।

অভিযোগটি তদন্ত করতে গিয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বোয়ালিয়া মডেল থানার এসআই নাছির আহম্মেদ ঘটনার সত্যতা পান এবং গোপনে সেই ভিডিও ক্লিপটি সংগ্রহ করেন। এরপর রোববার রাতে ধর্ষণের অভিযোগে একরাম ও ধর্ষণের ঘটনায় সহায়তাকারী হিসেবে ইন্স্যুরেন্স কর্মকর্তা জয়নাল আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমান উল্লাহ জানান, কলেজছাত্রীকে ধর্ষণ এবং সেই দৃশ্য ভিডিও ধারণের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় মেয়েটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মেয়েটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়েছে।

  • এনটিভি