মানসম্মত কৈশোর বান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে একসঙ্গে কাজ করতে হবে

প্রকাশিত: ৪:৫১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২৭, ২০১৯

প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীদের অধিকার। এই বয়সে স্বাস্থ্যসেবা খুবই গুরুত্বপূর্ণ হলেও সচেতনতার অভাব, গোপনীয়তার প্রবণতা ইত্যাদি কারণে তারা পর্যাপ্ত সেবা পায় না। তাছাড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও এই সংক্রান্ত পাঠদান বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে চিকিৎসার ও পরার্মশ দেওয়ার ওপর সরকারের নির্দেশনা থাকলেও মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রয়েছে গড়িমসি। তারুণ্যের কণ্ঠস্বর নামে যুব প্লাটফর্মের মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণে এসব অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে এসেছে।

মঙ্গলবার বরিশাল শহরের একটি অভিজাত হোটেলের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের যৌন প্রজনন স্বাস্থ্য অধিকার সুরক্ষা, আমাদের করণীয়’ বিষয়ক গণশুনানিতে তুলে তা তুলে ধরে এর প্রতিকার চাওয়া হয়েছে।

গণশুনানিতে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক এস এম অজিয়র রহমান। তারুণ্যের কণ্ঠস্বর প্লাটফর্মের বিভাগীয় সমন্বয়কারী শাকিলা ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য অফিসের সহকারি পরিচালক ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মন্ডল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ শোয়েব ফারুক, জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের সহকারী উপ-পরিচালক মো: শহিদুল ইসলাম, ইউনিসেফের বরিশাল বিভাগীয় প্রধান এ এইচ তৌফিক আহম্মেদ, বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটির পরিচালক প্রোগ্রাম মো. ফসিউল আহসান, নারীপক্ষের প্রকল্প সমন্বয়কারী সামিয়া আফরীন এবং বরিশাল মহিলা কল্যাণ সংস্থার (বিএমকেএস) পরিচালক কাওসার পারভীন প্রমুখ।

অধিকার এখানে, এখনই প্রকল্প সম্পর্কে ধারণামূলক বক্তব্য দেন সারাবান তহুরা জামান। অনুষ্ঠানে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের পাঠ্যক্রমে কিশোর-কিশোরী এবং যুবকদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং অধিকার বিষয়ক নীতিমালা বাস্তবায়নে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতি আহ্বান জানান আয়োজকরা।

গণশুনানিতে প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কিশোর-কিশোরী বা তরুণদের অধিকার নিয়ে মাঠ পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপনসহ নানা প্রস্তাবনা তুলে ধরেন প্লাটফর্মটির ঝালকাঠি জেলা শাখার সমন্বয়ক সোহানুর রহমান।

গণশুনানিতে বরিশালের বিভিন্ন জেলায় শাখায় কর্মরত তারুণ্যের কন্ঠস্বর প্লাটফর্মের সদস্যরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, কিশোর কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু হতাশার বিষয় হচ্ছে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে। মা ও শিশু কল্যাণ বা ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর অধিকাংশে এই ধরণের মানস্মত সেবা দেওয়ার কোন উদাহরণ নেই বললেই চলে।

এমনকি শিক্ষপ্রতিষ্ঠানে পাঠ্যবইতে এই সংক্রান্ত একটি অধ্যয় থাকলেও শিক্ষকেরা বিষয়টি গুরুত্ব দেন না আর পরীক্ষায়ও আসে না। ফলে তরুণ ও কিশোর-কিশোরীরা যৌন প্রজনন স্বাস্থ্যশিক্ষা সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান লাভ করতে পারছে না। এতে যেমন তরুণ ও কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ছে, তেমনি সরকারের উদ্যোগও ভেস্তে যাচ্ছে। এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার পাশাপাশি কিশোর কিশোরীদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যবস্থাপনা কমিটিগুলো সক্রিয় করে মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার জোরালো সুপারিশ রেখেছে ‘তারুণ্যের কণ্ঠস্বর’ প্লাটফর্ম।

অবশ্য সংস্থাটির এই সুপারিশকে ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করে বরিশালের বিভাগের প্রতিটি জেলার মা ও শিশু কল্যাণ এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে কিশোর-কিশোরী বা তরুণ-তরুণীদের প্রজনন ও যৌন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার কমিশনার মুহাম্মদ ইয়ামিন চৌধুরী। একইভাবে এই উদ্যোগ বরিশাল জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র বাস্তবায়নেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি জেলা প্রশাসক মো. অজিয়র রহমান।

গনশুনানিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমাদের সমাজের পরিবারগুলো অনেক সময় কিশোর-কিশোরীদের বয়সজনিত সমস্যার কথা শুনতে অভ্যস্থ নয়। আবার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এই সংক্রান্ত পাঠ দান করান না সামাজিকতার ভয়ে। সন্তানদের সাথে যেভাবে কথা বলার প্রয়োজন আমরা সেভাবে তাদের সাথে কথা বলতে পারি না। চিকিৎসকরাও গোপনীয়তা রক্ষা করতে পারেন না।

বিভাগীয় কমিশনার আরও বলেন, আগে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এমনভাবে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে শিক্ষা দেয়া হত যেন বিষয়টি খুবই গোপনীয়। এটা সঠিক নয়। শিক্ষার মাধ্যমেই তরুণদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং এই লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তারুণ্যের কণ্ঠস্বর প্লাটফর্মের এই আয়োজনকে বাস্তবায়নে সার্বিক সহায়তা দিয়েছে নারীপক্ষ ও অধিকার এখানে, এখনই প্লাটফর্ম বাংলাদেশ।গণশুনানিতে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের প্রতিনিধি, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও উন্নয়নকর্মীরা অংশ নেন।