ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় মাদ্রাসা অধ্যরে বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের প্রতিবেদন

প্রকাশিত: ৮:১১ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১১:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৯, ২০১৯

মাদ্রাসার অধ্যরে বিরুদ্ধে গৃহপরিচারিকা ৮ম শ্রেণীর ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা উর্ধ্বতন কর্তৃপকে অবহিত করতে প্রতিবেদন দিয়েছেন ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক। সোমবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মোঃ জোহর আলী মন্ত্রী পরিষদ বিভাগ সচিব, জননিরাপত্তা বিভাগ সচিব ও বিভাগীয় কমিশনারের কাছে এ লিখিত প্রতিবেদন প্রেরণ করেন।
প্রতিবেদনে উলে­খ করা হয়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার তেরো আনা শাহ মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্য মাওলানা এস এম কামাল হোসেন’র বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজ করা ওই মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অধ্য কামালের মেঝো ভাইয়ের বাসা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে। সদর হাসপাতালে ভিকটিমের স্বাস্থ্য পরীা করা হয়। যা জাতীয় ও স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে বলেও তিনি প্রতিবেদনে উলে­খ করেছেন। জেলা প্রশাসনের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
অনুসন্ধানে জানাগেছে, ঝালকাঠি শহর থেকে ১০ কিঃমিঃ দুরে তের আনা গ্রামে শাহ্ মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসা। এই মাদ্রাসার অধ্য এস এম কামাল উদ্দিন হোসাইন বিশাল অট্টোলিকা বাড়ি নির্মাণ করে সেখানে বসবাস করেন৷ এই অধ্যরে বিরুদ্ধে গৃহ পরিচারিকা এবং ওই মাদ্রাসার ৮ম শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন নির্যাতন ও ধর্ষণের অভিযোগে মামলা (নং-১২/১৯) হয়েছে।
ঝালকাঠি সদর উপজেলার তের আনা গ্রামের সৈয়দ জালাল হোসাইনের ছেলে শাহ্ মাহমুদিয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্য মাওলানা এস এম কামাল হোসাইন এর বাসায় ১৫ আগস্ট দুপুরে গৃহ পরিচালিকা এবং ওই মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠায় অধ্য কামাল হোসাইন এলাকা থেকে পলাতক রয়েছেন। এমনকি ওই তার ব্যবহৃত মোবাইলটিও বন্ধ রেখেছেন। তার রাজনৈতিক পরিচয় সুবিধাবাদী। যখন যে দল মতায় থাকেন তখন তিনি সেই দলের লেজুরবৃত্তি করেন। বর্তমানে তিনি সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জমিয়াতে হিজবুল­াহ (ছারছিনা) গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়ন শাখার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।
এ বিষয় মামলার নথি পত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ঝালকাঠি সদর থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) শোনিত কুমার গায়েন জানান, ৫ বছর ধরে ৮ম শ্রেণি পড়–য়া ঐ ছাত্রী লেখাপড়ার পাশাপাশি অভিযুক্ত অধ্য এসএম কামাল হোসেনের বাসায় গৃহপরিচালিকার কাজ করতো। গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে খবর পেয়ে পুলিশ অধ্য কামালের মেঝ ভাই জামালের বসত ঘর থেকে ছাত্রীকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়। নির্যাতনের শিকার ওই ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীা ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরও জানান, গত ১৫ আগস্ট দুপুরে কামাল হোসাইনের বাড়িতে ওই ছাত্রী সর্বশেষ ধর্ষণের শিকার হলে তার স্ত্রী দেখে ফেলায় ঘটনাটি এলাকায় জানা জানি হয়। পরে অধ্য কামাল নিজে আত্মগোপন করে। অপরদিকে ছাত্রীটিকে কামালের মেঝ ভাই জামাল উদ্দিনের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। আর সেখান থেকেই পুলিশ গিয়ে তাকে উদ্ধার করে। মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে রোববার দুপুরে অধ্যক্ষ কামালের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা (নং-১২/১৯) দায়ের করেন। অধ্য পালিয়ে গেলেও তাকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে বলেও জানান ওসি শোনিত কুমার গায়েন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে জানান, চরম দরিদ্র পরিবারের মেয়েটিকে বাসায় কাজে রেখে দীর্ঘদিন থেকে অধ্য কামাল হোসাইন শারীরিক সর্ম্পক করে আসছিলেন। ১৫ আগস্ট শুক্রবার দুপুরে এ ঘটনা অধ্যরে স্ত্রী দেখে ফেললে বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। এ সময় তার স্ত্রী ডাক চিৎকার দিয়ে স্বামী কামাল উদ্দিনসহ ধর্ষিতা কিশোরীকে জুতাপেটা করে। স্ত্রী ঘটনাটি পাড়া প্রতিবেশীর কাছে জানিয়ে দেয়। এলাকায় ঘটনাটি জানাজানি হলে অবস্থা বেগতিক দেখে ধর্ষক কামাল উদ্দিন তার স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে পালিয়ে যান। পরে সন্তান নিয়ে স্ত্রী বাসায় চলে আসে।
এলাকাবাসী আরো জানায়, অধ্য কামাল সুবিধাবাদী রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকায় বর্তমান সরকারের আমলেও অত্যন্ত প্রভাবশালী অবস্থানে থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে মুখ খোলার সাহস রাখে না। এই লম্পট কামাল উদ্দিন এর পূর্বেও নিজ মাদ্রাসার আলিম শাখার এক ছাত্রীকে ধর্ষণ করে ধরা পড়লেও স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হস্তেেপ তখন বিষয়টি ধামাচাপা দিতে সম হন। তারও আগে এই মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রকে বলৎকারের ঘটনা ঘটনালেও কেউ প্রতিবাদ করেনি বলেও এলাকাবাসী জানায়।
এ ব্যাপারে কামাল উদ্দিনের ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে ( ০১৭১৬৯৫৮২৭৮) একাধিক বার কল করলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। এদিকে মাদ্রাসা অধ্য কর্তৃক নিজ ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় এলাকায় ােভ বিরাজ করছে।