ধর্ষি’ত হলেও প্রতিবাদ করবেন না, মার খেয়ে মরবেন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:৩০ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ২:৩০:অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৯

মেনে নিন নয়তো দেশ ছেড়ে চলে যান। এদেশে আপনার চোখের সামনে আপনার মা, বোন অথবা ব’উ ধর্ষি’ত হলেও প্রতিবাদ করবেন না, আশেপাশে কাউকে পাবেন না। মার খেয়ে মরবেন।

কারণ আপনি একটা জানোয়ার, আমিও একটা জানোয়ার, জানোয়ারে ভরা স’মাজ আমাদের। আজকের ঘটনাটা সংক্ষেপে বলি। সাহেব বাজার মনিচত্তর এর মত জনবহুল এলাকাতেও আমার ব’উ যৌন হয়রানির শিকার হয়। এক পাল ছেলের মধ্যে একজন আমার ব’উকে পিছন থেকে কয়েকবার ইচ্ছাকৃত ধাক্কা দেয়। দুই-তিনবার সহ্য করলেও পরেরবার প্রতিবাদ করি। ব্যাস, সোনার ছেলেদের দাপট শুরু। শেষে আ’মাকে সোনা-দীঘি মসজিদের সামনে ৫-৭ মিলে ঘিরে ধরে মারা শুরু করে। এই পর্যন্তও না হয় মেনে নিলাম। কিন্তু ওখানে কম করে হলেও ৫০ জন আমার মার খাওয়া দেখছিল।

একজনও এ’গিয়ে আসেনি। মার খাওয়ার এক পর্যায়ে আমি দর্শকদের উদ্দেশ্যে বলি, “বাঁচান আ’মাকে”, কোন সাড়া পাইনি। একজন মোটরসাইকেল থামিয়ে আমার মার খাওয়া দেখছিল, আমি হেল্প চাওয়ার সাথে সাথে মোটরসাইকেল চালিয়ে চলে গেল। মার খেয়ে কাপুরুষ আমি দর্শকদের বলি, “আপনারা আজ এ’গিয়ে এলেন না, একদিন আপনার ব’উ এর সাথে এমন হলেও কেউ এ’গিয়ে আসবে না। ও আমার ব’উ, গার্লফ্রেন্ড না, কাবীন’নামা দেখাতে হবে আপনাদের?” একজন ভিড়ের মধ্য থেকে বলে বসলো, “হ্যাঁ, কাবীন’নামা নিয়েই চলাফেরা করতে হবে”। তখন আবার মনে পড়লো আমি জানোয়ারের সমাজে বাস করি, এমন উত্তরই আমার প্রাপ্য। ধরেন, দ্বিতীয়বার আক্রমণে ওরা আ’মাকে মেরে ফেলল।

কি করবেন? ফেইসবুকে কান্নাকাটি? জাত গেল জাত গেল রব তুলবেন? কোনটাই করবেন না দয়া করে, এতে কিছু আসে যাই না। আর যারা করবে, তাদের গিয়ে থুথু দিয়ে আসবেন। ধরেই নিয়েছিলাম, পিএইচডি শেষ করে দেশে ফিরব, মা বাবা চান না বাইরে স্যাটেল করি। এই ঘটনার পর দ্বিতীয়বার ভাববো অবশ্যই। লেখক: রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শিক্ষক । -সূত্র: আমার দেশ