বিয়ে, ডিভোর্স, নিষিদ্ধ-তবুও শীর্ষে শাকিব খান

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৩ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭ | আপডেট: ১০:০৪:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ১১, ২০১৭

ঢালিউড পাড়ায় ইতিবাচক ও নেতিবাচক- দু’ভাবেই এবছর সবচেয়ে আলোচিত ছিলেন শাকিব খান। বেশ কিছু সফল সিনেমার নায়ক হয়ে এ বছর যেমন প্রসংশিত হয়েছেন, তেমনি ব্যক্তি শাকিব নানা কর্মকাণ্ডের কারণে সমালোচিতও কম হননি।

এ বছর তিনি নায়িকা অপু বিশ্বাসকে সন্তানসহ স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে নিতে বাধ্য হন। আবার বছরের শেষ লগ্নে স্ত্রীকে তালাকও দিয়ে আলোচনার শীর্ষে উঠে আসেন। এছাড়া বছরজুড়ে নিজের ক্যারিয়ারে বার বার নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন, উৎরেও গিয়েছেন এই জনপ্রিয় অভিনেতা।

তাই নায়ক শাকিবের শীর্ষ ঘটন-অঘটনের বিষয়গুলো নিয়ে এবার আমাদের বিশেষ আয়োজন।

অপু বিশ্বাসকে সন্তানসহ স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতি

১০ এপ্রিল, আট মাস নিরুদ্দেশ থাকার পর হুট করেই নিউজ টুয়েন্টিফোর’র পর্দায় ছেলে আব্রাম খান জয়সহ হাজির হন অপু বিশ্বাস। ফাঁস করে দেন শাকিব খানের সাথে তার বিয়ের খবর।

তিনি জানান, ২০০৮ সালের ১৮ এপ্রিল তাদের বিয়ে হয়েছিল। শাকিব প্রথমে ছেলেকে স্বীকৃতি দিলেও পরে মিডিয়া ও চলচ্চিত্রের মানুষদের চাপে পড়ে অপু বিশ্বাসকেও স্ত্রী হিসেবে স্বীকার করে নেন।

সন্তান নিয়ে থানা-পুলিশ

১৭ নভেম্বর থাইলান্ড থেকে ‘মাস্ক’ ছবির শুটিং থেকে ফিরে ছেলে আব্রাম খান জয়কে দেখতে যান শাকিব খান। সেখানে মা অপু বিশ্বাসের বাসায় সন্তান তালাবদ্ধ আছে বলে তিনি গুলশান থানায় অভিযোগ করেন এবং তাকে উদ্ধারের জন্য সহায়তা চান। কিন্তু পুলিশ তাকে সাফ জানিয়ে দেয়, এ ক্ষেত্রে আইন ‘কর্মজীবী মায়ের পক্ষে’ এবং ‘আদালতের অনুমতি ব্যতীত পুলিশের কিছু করার ক্ষমতা নেই’। এরপর ২০ নভেম্বর খবর রটে শাকিব সন্তানের অধিকার চেয়ে আদালতে যাচ্ছেন। যদিও নানাধিক বিবেচনায় তিনি শেষ পর্যন্ত বিরত থাকেন।

বিচ্ছেদ গুঞ্জন

নভেম্বর মাসের পুরোটা জুড়েই ছিল শাকিব খান অপু বিশ্বাসকে ডিভোর্স দিচ্ছেন। কারণ হিসেবে শোনা যাচ্ছিল- অপুর ‘কাঙাল’ ও ‘কানাগলি’তে চুক্তিবদ্ধ হওয়া এবং শাকিব খানের শক্রদের সাথে সখ্য বজায় রাখা। এরমধ্যে ১৬ নভেম্বর অপু বিশ্বাস বাথরুমে পড়ে গিয়ে আহত হন। চিকিৎসার জন্য কলকাতায় চলে যান পরদিনই। দুদিন পর ঢাকায় অপু ‘ডাক্তারের পরামর্শে তিন-চার মাস বিশ্রামে থাকা’ এবং ‘চুক্তিবদ্ধ’ ছবি দুটি ছেড়ে দেওয়ার ঘোষণা দিলে আপাতত বিচ্ছেদ গুঞ্জন থামে।

অপুকে ডিভোর্স

২৮ নভেম্বর আইনজীবীর মাধ্যমে অপু বিশ্বাসের বাসার ঠিকানায় অপু বিশ্বাসকে নোটিশ পাঠান শাকিব খান। ৪ নভেম্বর নোটিশটি হাতে পান অপু বিশ্বাস। আইনজীবী সিরাজুল ইসলামের মাধ্যমে অপুর কাছে ডিভোর্স লেটার পাঠান শাকিব।

নোটিশে শাকিব খান অভিযোগ করেছেন, ‘অপু তার ছেলেকে কাজের লোকের কাছে রেখে কথিত বয়ফ্রেন্ডকে নিয়ে ভারতে বেড়াতে গিয়েছেন। আর অপু তার কোনো নির্দেশই মেনে চলেন না। তাই তিনি বিবাহ বিচ্ছেদ চান।’

তবে ডিভোর্স লেটারের কোনো উত্তর দেননি অপু। শিগগির সংবাদ সম্মেলন করে অপু এ বিষয়ে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

বার বার বয়কটের শিকার

প্রথমে একটি জাতীয় দৈনিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পরিচালকদের ‘বেকার’ বলার অপরাধে শাকিব খানের সাথে কাজ না করার সিদ্ধান্ত নেয় চলচ্চিত্র ঐক্যজোটের ব্যানারে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৩টি সংগঠন। ২৯ এপ্রিল নেওয়া বয়কটের সিদ্ধান্ত নায়ক আলমগীর ও সোহেল রানার মধ্যস্থতায় ১ মে তুলে নেওয়া হয়।

এর মধ্যে শুরু হয় ‘চলচ্চিত্র পরিবার’র ব্যানারে ‘যৌথ প্রযোজনা’ বিরুদ্ধে আন্দোলন। অনিশ্চিত হয়ে যায় শাকিব অভিনিত ‘নবাব’। কিন্তু শাকিব খান ‘যৌথ প্রযোজনা’র সমর্থনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মলেনে সিনিয়র নায়ক ফারুককে উদ্দেশ করে ‘স্টুপিড’ বলেন। যদিও শাকিব তাকে উদ্দেশ করে কিছু বলেননি বলে বার বার বলে আসছেন। কিন্তু ‘চলচ্চিত্র পরিবার’ শাকিব খানকে ২৩ জুন এবং পরবর্তীতে ১৮ জুলাই বয়কট করে। একই সাথে শিল্পী সমিতি তার সাথে কাজ করতে শিল্পীদের নিষেধ করে। যদিও পরবর্তীতে চলচ্চিত্র মৌখিকভাবে তার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়।

এফডিসিতে প্রহৃত ও নির্বাচনে সমর্থিত প্যানেলের পরাজয়

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির পর পর দু’মেয়াদের নির্বাচিত সভাপতি ছিলেন। এবারের নির্বাচনে প্রার্থী না হলেও ওমর সানী-অমিত হাসান প্যানেলকে সমর্থন জানান। ৫ মে দিবাগত রাত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবার ফলাফল প্রকাশের দেরি দেখে ভোট গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করেন শাকিব খান।

এ সময় জায়েদ খান-মিশা সওদাগর প্যানেলের কিছু কর্মী দ্বারা লাঞ্ছিত হন। মিশা সওদাগরের সহায়তায় দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করলেও এর দুদিন পর অর্থাৎ ৮ মে রমনা থানায় জিডি করেন। এ ঘটনায় নায়ক সাইমন, নৃত্য পরিচালক সাইফ খান কালু ও খলনায়ক জিয়ার বিরুদ্ধে জিডিতে তাকে হামলার অভিযোগ করেন। যদিও পুলিশি তদন্তে তাদের অব্যহতি দেওয়া হয়।

শিল্পী সমিতির নির্বাচনে তার সমর্থিত প্যানেল থেকে বলার মত প্রার্থী বলতে ফেরদৌস ও মৌসুমী জয় লাভ করে। অনেক বছর পর শাকিব সাম্রাজের কিছুটা ছন্দপতন বলা যায় শিল্পী সমিতির নির্বাচন।

চলচ্চিত্র ফোরাম গঠনে উদ্যমী ভূমিকা

চলচ্চিত্র পরিবারসহ চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নানান সংগঠনের নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে শাকিব খান বছরের মাঝামাঝি সময়ে বেশ কোণঠাসা অবস্থায় ছিলেন। এ সময় তিনি তার ক্যারিয়ার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে নানা ছক আঁকতে থাকেন। তার মত যারা নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছেন তাদের নিয়ে গঠন করেন ‘চলচ্চিত্র ফোরাম’। মজার ব্যাপার হচ্ছে ২ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করা সংগঠনটিতে শাকিব খান সাংগাঠনিকভাবে বড় কোনো পদ না নিয়ে নিয়েছেন ‘কার্যনির্বাহী সদস্য’ এর পদ।

শুটিংয়ে বাধা

পাবনায় ‘রংবাজ’ ছবির শুটিং চলাকালীন সময়ে ২৭ এপ্রিল সেটে পুলিশ গিয়ে হাজির। অভিযোগ ভারতীয় অভিনেতা রজতাভ দত্তের ‘ওয়ার্ক পারমিট’ নেই। এরপর আবার সমস্যা বাঁধলো ছবিটির পরিচালক শামীম আহমেদ রনির উপর পরিচালক সমিতির নিষেধাজ্ঞার কারণে শুটিং করতে না পারা। রনি বার বার সমিতিতে ধর্ণা দিলেও তার বদলে অন্য পরিচালককে দিয়ে ‘রংবাজ’ শেষ করতে হয়।

অন্যদিকে লন্ডনে ‘চালবাজ’র শুটিং আটকে যায় ‘ফেডারেশন অব সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অব ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’র বাধায়। তাও এক বার না দুই দুইবার।

এছাড়া ‘আমি নেতা হব’র প্রযোজকও এফডিসি থেকে সঠিক সময়ে ক্যামেরা ও লাইট সরবরাহ না করার কারণে শুটিং করতে না পারার অভিযোগ করেছেন বেশ কয়েকবার।

তৃতীয়বারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তি

২০১৫ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে এস এ হক অলিক পরিচালিত ‘আরো ভালোবাসবো তোমায়’ এর জন্য ‘শ্রেষ্ঠ অভিনেতা’ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পান। এটি তার তৃতীয়াবারের মত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তি। এর আগে ২০১২ সালে জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালোবাসলেই ঘর বাধা যায় না’ এবং ২০১৪ সালে শাহীন সুমন পরিচালিত ‘খোদার পরে মা’র জন্য পুরস্কার পান।

ভক্তের ৫০ লাখ টাকার মানহানি মামলা

ঈদুল ফিতরে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘রাজনীতি’ ছবিতে বিনা অনুমিতে মোবাইল নাম্বার ব্যবহার করার কারণে শাকিব খানসহ ছবির পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস ও প্রযোজক আশফাক আহমেদের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও ৫০ লাখ টাকা মানহানি মামলা করেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের ইজাজুল মিয়া। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন।

প্রযোজনায় ফেরা

২০১৪ সালে ‘হিরো দ্য সুপারস্টার’ প্রযোজনা করেন নিজের প্রযোজনা সংস্থা এসকে ফিল্মস থেকে। তিন বছর পর এ বছরের ৮ নভেম্বর ‘প্রিয়তমা’র ঘোষণা। প্রয়াত ফারুক হোসেনের গল্পে ছবিটি শুটিং হবে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি কিংবা মার্চে। নায়িকা কে হচ্ছেন তা এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসলেও নায়িকা বুবলিকেই মনে করা হচ্ছে।

  • সূত্র : পরিবর্তন ডটকম