মাদারীপুরে প্রতিবন্ধী কিশোরীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ১১:৫৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৫৪:অপরাহ্ণ, আগস্ট ৯, ২০১৯

মাদারীপুরে বাক প্রতিবন্ধী এক কিশোরী (১৬)কে গণধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার দুপুরে ধর্ষিতাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। থানায় মামলা করায় ওই কিশোরীর বাবাকে হত্যার হুমকি দিচ্ছে বখাটের দল। যে কারণে তিনি বাড়ি থেকে বের হতে পারছেন না।
পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরে সদর উপজেলার ঘটমাঝি ইউনিয়নের চোকদার ব্রিজ এলাকার ওই বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী গোসল করার জন্য পাশের নিম্নকুমার নদের দিকে যায়। পথিমধ্যে একই এলাকার করিম চোকদারের ছেলে তন্ময় চোকদার (২২), টুলু চোকদারের ছেলে জিশান চোকদার (১৮) এবং সানু মোল্লার ছেলে হাসান মোল্লা (২১) তাকে জোর করে তুলে পাশের একটি ঝোঁপের মধ্যে নিয়ে যায়। বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী কথা বলতে না পারার সুযোগ নিয়ে তারা কিশোরীকে উলঙ্গ করে গণধর্ষণ করে। এসময় তার মা মেয়ের গোসল করতে দেরি দেখে নদীর দিকে যেতে থাকে। ঝোঁপের মধ্যে ধস্তধস্তির শব্দ পেয়ে এগিয়ে গেলে দু‘জন পালিয়ে যায় এবং তন্ময়কে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে চিৎকার দিলে সেও পালিয়ে যায়। তার মা মেয়েকে উলঙ্গ অবস্থায় উদ্ধার করে গায়ে কাপড়-চোপড় জড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে যায়। রাতে এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালীস বসে। সালীসদাররা ঘটনাটি মীমাংসাযোগ্য নয় বলে চলে যায়। শুক্রবার সকালে ওই তিন ধর্ষক ছ্যান-দা নিয়ে মেয়ের বাবাকে হত্যার হুমকি দিয়ে যায় বলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন। নির্য়াতিতার বাবা শুক্রবার দুপুরে স্থানীয়দের সহায়তায় ধর্ষিতাকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে দুপুরে ৩জনকে আসামী করে মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা করেন।
নির্যাতিতার পিতা বলেন, ‘আমার বোবা মেয়েকে গণধর্ষণ করেছে ৩ বখাটে। উলঙ্গ অবস্থায় আমার স্ত্রী তাকে উদ্ধার করে। মামলা করার পর থেকে বখাটেরা আমাকে হত্যার হুমকি দিয়ে শাসিয়ে বেড়াচ্ছে। ওরা বলছে, মামলা করে কি করবি, পুলিশকে টাকা দিয়ে মামলা শেষ করে তোকে দেখে নিবো, কিভাবে এলাকায় থাকিস। আমি এখন বাড়ি থেকে বের হতে পাছি না। ভয় হয় রাতে ওরা আবার আমার বাড়িতে হামলা না করে। আমি ওই বখাটেদের উপযুক্ত বিচার চাই।’

মাদারীপুর সদর হাসপাতালে আরএমও ডা. শশাংক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘ধর্ষণের অভিযোগে এক প্রতিবন্ধী কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে । আমরা আলামত সংগ্রহ করেছি এবং যথাযথ চিকিৎসা দিয়েছি।’

এ ব্যপারে মাদারীপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ সওগাতুল আলম বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনায় থানায় ৩জনকে আসামী করে একটি মামলা করেছেন ওই কিশোরীর পিতা। পুলিশ আসামীদের ধরতে মাঠে নেমেছে।’