মুলাদীতে অধ্যক্ষ-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বের বলি ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী

পাঁচ মাস ধরে অচল চরকালেখান কামিল মাদরাসা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২৬ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০১৯ | আপডেট: ১০:২৬:অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০১৯

মুলাদী প্রতিনিধি ॥

মুলাদীতে অধ্যক্ষ-শিক্ষকদের দ্বন্দ্বে দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে অচল চরকালেখান নেছারিয়া কামিল মাদরাসা। অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমেদের নির্দেশে এক শিক্ষকের ওপর হামলার পর অধ্যক্ষের অপসারণের দাবীতে গত ১১ মার্চ থেকে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করায় মাদরাসায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। অধ্যক্ষ-শিক্ষকদের বেতন-ভাতা সচল থাকলেও মাদরাসায় কোনো প্রকার পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গেছে। বছরের মাঝা-মাঝি এসে প্রতিষ্ঠানটিতে এধরণের অচলাবস্থা সৃষ্টি হওয়ায় ছয় শতাধিক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। আগামী ইবতেদায়ী সমাপনী, জেডিসি, দাখিল, আলিম, ফাযিল ও কামিল পরীক্ষার্থীদের কী হবে তা নিয়ে শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা শংকিত হয়ে পড়েছেন। শিক্ষাবর্ষের মাঝামাঝি এসে প্রতিষ্ঠান পরিবর্তন করা সম্ভব না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা ভেস্তে যেতে বসেছে। মাদরাসার সহকারী শিক্ষক সাইদুল হক জানান চলতি বছর ৯ মার্চ চরকালেখান নেছারিয়া কামিল মাদরাসার পার্শ্ববতী বাড়ির দাওয়াত খেতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমেদের নির্দেশে মাদরাসার ভোকেশনাল বিভাগের ল্যাব সহকারী গোলাম রসুল সহকারী শিক্ষক মাহে আলমের ওপর হামলা চালায়।

মাহে আলমকে রক্ষা করতে গিয়ে শিক্ষক সাইদুল হকসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হয়। ওই ঘটনার পর পরই শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা অধ্যক্ষের অপসারণের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল করলে মহিউদ্দীন আহমেদ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সংবাদ পেয়ে মুলাদী থানা পুলিশ, গভর্নিং বডির সভাপতি ও সদস্যরা মাদরাসায় পৌছে অধ্যক্ষের বিচারের আশ্বাস দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে ১১ মার্চ সালিশ-বৈঠকের আহ্বান করে। ওই বৈঠকে অধ্যক্ষকে সাময়িক বহিস্কারের কথা হলেও গভর্ণিং বডি রেজুলেশন না করেই মাদরাসা ত্যাগ করলে শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করে অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেন। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ ও গভর্নিং বডির সভাপতি নামমাত্র রেজুলেশন করে সহকারী শিক্ষক সাইদুল হককে সাময়িক বরখাস্ত এবং উপাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ আল মামুনসহ ৫ শিক্ষককে কারণ দর্শাণোর নোটিশ প্রদান করেন। ন্যায় বিচার না পেয়ে উল্টো নোটিশ পাওয়ায় শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন অব্যহত রাখে এবং গত ১ আগস্ট পর্যন্ত মাদরাসায় কোনো ক্লাস হয়নি। স্থানীয় শিক্ষার্থী অভিভাবক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান শিক্ষকরা মাদরাসায় এসে সহি-স্বাক্ষর দিয়ে বেতন ভাতা তুলে নিচ্ছেন, আর মাদরাসার অধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠানে না এসেই নিয়মিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। এতে অধ্যক্ষ-শিক্ষকদের কোনো সমস্যা না হলেও শিক্ষার্থীরা চরম ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। অবিলম্বে মাদরাসায় ক্লাস শুরু করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এই অভিভাবক। মাদরাসার উপাধ্যক্ষ মুহাম্মাদ আল মামুন জানান অধ্যক্ষ মাওলানা মহিউদ্দীন আহমেদ হজ্ব পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব অবস্থান করছেন। তিনি ফিরলে সমঝোতা হতে পারে। হজ্বে যাওয়ার পূর্বে মাওলানা মহিউদ্দীন আহমেদ সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন মাদরাসার কতিপয় শিক্ষক চরকালেখান নেছারিয়া কামিল মাদরাসার সুনাম ক্ষুন্ন করতে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ আবদুস সালাম জানান মাদরাসার শিক্ষকদের দাবী পূরণের আশ্বস দিয়ে ক্লাসে ফেরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাকির হোসেন জানান মাদরাসার শিক্ষক-কর্মচারীদের সাথে গভর্ণিং বডির আলোচনায় ৩আগস্ট থেকে ক্লাস শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। অধ্যক্ষ হজ্ব পালন শেষে ফেরার পরে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।