ঝালকাঠির পেয়ারা যাচ্ছে সারাদেশে, পথে পথে চাঁদাবাজির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:৫৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৫৭:অপরাহ্ণ, জুলাই ৩০, ২০১৯

দণিাঞ্চলের ঝালকাঠি  জেলা জুড়ে এখন বর্ষা মৌসুমে পেয়ারার বেচাকেনা জমে উঠেছে। বাংলার আপেল খ্যাত বিষ মুক্ত পেয়ারা উৎপাদন হয় বরিশাল বিভাগের বরিশাল, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর এই তিন জেলার ৫৫টি গ্রামে। বিষ মুক্ত দেশীয় এ ফলটি সড়ক ও নৌপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে গেলেও পরিবহনে পথে পথে ব্যাপক চাঁদাবাজির কারণে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে পৌছে পেয়ারার দাম কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে। এমন অভিযোগ স্থানীয় পেয়ারার পাইকার ও পরিবহন চালকদের। বর্তমানে পেয়ারার ভরা মৌসুমে দেিণর জেলা বরিশাল,ঝালকাঠি ও পিরোজপুরের পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা ৫ থেকে ৭ টাকায় বিক্রি হলেও ঢাকার খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৭০ টাকায়। তবে পণ্য পরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধে পুলিশ কাজ করছে বলে দাবি ঝালকাঠি জেলা পুলিশের। দণিাঞ্চলের জেলা ঝালকাঠির ভিমরুলী, শতদাশকাঠি বিভিন্ন গ্রামের গ্রামের ভাসমান হাটগুলো থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ সারা দেশে সুমিষ্ট জাতের এ দেশি পেয়ারা সরবরাহ হচ্ছে। দূর-দূরান্তের পাইকাররা সড়ক ও নৌ-পথে এখান থেকে পেয়ারা কিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় পাইকারি বাজারগুলোতে বিক্রি করছেন। কিন্তু বরিশালের বানারীপাড়া, পিরোজপুরের আটঘর এবং ঝালকাঠির ভীমরুলীসহ পেয়ারা হাটে আসা পাইকার ও ট্রাক চালকদের অভিযোগ, পেয়ারা পরিবহনে বরিশালের ভূরঘাটা থেকে পথে পথে চলে চাঁদাবাজি। সড়কে পুলিশকে ১’শ থেকে ৫’শ টাকা পর্যন্ত বিটমানি কিংবা চাঁদা দিতে হয়। ফেরিঘাটেও চাঁদা দিতে হয় স্থানীয় দালালদের। ফলে দুই থেকে তিন’শ টাকা মণ দরে গ্রামের হাটের পেয়ারা ঢাকা-চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে বিক্রি হয় হাজার টাকায়। পিকআপ চালক সুশান্ত দাস বলেন, যেমন গাড়ি চালাই পুলিশের অত্যাচারও তেমন বেশি। কম টাকা তারা নিতে চান না। ১’শ টাকা দিলে হয় না। তাদের দিতে হয় ৫’শ টাকা ।
তবে জেলা পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তা জানালেন, ঝালকাঠি জেলার সীমানায় পেয়ারাসহ অন্যান্য পণ্য পরিবহনে কঠোরভাবে ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। এ জেলায় কোনোভাবেই কেউ হয়রানি হয় না। ঝালকাঠি সীমানায় পণ্য পরিবহনের ব্যাপারে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার অভিযোগ নেই। তবে অন্য জেলার সীমানায় কোনো অভিযোগ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কাছে জানাতে পরামর্শ দেন তিনি।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার ফাতিহা ইয়াসমিন বলেন, ট্রাফিক পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে। ঝালকাঠি থেকে পেয়ার পরিবহনে কেউ কোনো সমস্যায় পড়বেন না। বরিশাল বিভাগে মোট ৩ হাজার ৩২০ হেক্টর জমিতে দেশি জাতের পেয়ারার চাষ হয়। এবারের মৌসুমে শ্রাবণ ও ভাদ্র এই দু’মাসে সাড়ে ৩৯ হাজার মেট্রিক টন পেয়ারার উৎপাদন হবে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।