কোর্ট ম্যারেজ এর আড়াই বছর পর স্ত্রীর মর্যাদা চেয়ে তরুণী অনশন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৫৬ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৫৬:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৮, ২০১৯

স্ত্রীর মর্যাদার দাবিতে এক প্রেমিকা প্রেমিকের বাড়িতে তিনদিন ধরে অনশন করছেন। এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক জল্পনা কল্পনা চলছে। ঘটনাটি শুক্রবার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা থেকে জালালিয়া গ্রামে ওই তরুণী স্ত্রীর মর্যাদা দেয়ার দাবিতে অনশন শুরু করেন। রবিবার (২৮ জুলাই) রাত ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত মেয়েটি ওই বাড়িতেই অবস্থান করছে বলে খবর পাওয়া গেছে।

জানা যায়, জালালিয়া গ্রামের মৃত মোবারক আলীর ছেলে দুবাই প্রবাসী ইয়াওর আলীর সাথে নরসিংদী জেলার খালারচর ইউনিয়নের মানারাকান্দি গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের মেয়ের (রিমা আক্তার) সাথে মধ্যপ্রাচ্যের দুবাইয়ে একই কোম্পানিতে দুজন কর্মরত থাকা অবস্থায় প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দুইজন দেশে এসে নরসিংদী আদালতে কোর্ট ম্যারেজ এর মাধ্যমে ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই তাদের বিয়ে হয়। এর পর প্রায় দেড় মাস নরসিংদীতে প্রেমিক একটি বাসা ভাড়া করে সংসার শুরু করে পূনরায় দুজন বিদেশ চলে যান।

অনশনকারী রিমা আক্তার জানান, বিদেশে যাওয়ার পর রোজগারের প্রায় ১৪ লক্ষ টাকা নিয়ে পরিপ‚র্ণ স্ত্রীর মর্যাদা দিয়ে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বাড়িতে নেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে দেশে পাঠিয়ে দেয়। রিমা আক্তার আরও জানায় সরল বিশ্বাসে দেশে আসার পরে বার বার চেষ্টা করে তার সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারিনি। পরে অনেক দুবাইয়ের কোম্পানির অন্যান্য লোক মারফত জানা যায় বিদেশ থেকে কিছুদিন আগে দেশে এসেছে। এ খবর পেয়ে পূর্ণ স্ত্রীর মর্যাদার জন্য তার বাড়িতে উঠেছি। ইয়াওর আলী গত ৬ মাস আগে পাশের মথুরাপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করে আরেক মেয়েকে নিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য হায়দার আলীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেয়ের সাথে থাকা কাগজপত্র দেখে বার বার বিষয়টি সমাধান করার জন্য ইয়াওর আলীর পরিবারকে অনুরোধ করা হলেও তা হয়নি। অনশনকারী মেয়ে রিমা জানায়, আমার স্বামীর বাড়ী চিনে এসেছি। ছেলের মা’সহ বাড়ির অন্যান্য লোকজন তাকে চলে যাওয়ার জন্য হুমকি দিচ্ছে। এতে আমার জীবন হুমকিতে রয়েছে। পালিয়ে যাওয়ায় প্রবাসী ইয়াওর আলীর মোবাইলে একাধিকবার কল দিলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানায় কোন ধরনের লিখিত অভিযোগ কেউ করেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।