জীবনে ২য় সাফল্য ওদের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়কে আরও দৃঢ় করেছে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৪৭ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪৮:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৭, ২০১৯

চিলমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের চিলমারীতে দুই অদম্য মেধাবী শিক্ষার্থী এবারের এইচ এসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে চিলমারীবাসীকে তাক লাগিয়ে স্ব-স্ব দুঃখি পরিবারের মুখে এনে দিয়েছে সুখের হাসি। দারিদ্রতা ওদের থামিয়ে রাখতে পারেনি।

শিক্ষা জীবনে ২য় সাফল্য ওদের এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়কে আরও দৃঢ় করেছে। তারপরও ভাল কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ নিয়ে ওরা হতাশাগ্রস্থ। এখন কি হবের তাদের ভবিষ্যৎ, কে যোগান দিবে তাদের উচ্চ শিক্ষার খরচ ? তা নিয়ে চিন্তিত এসব মেধাবী শিক্ষার্থীর পরিবার।

মোছাঃ মিতা আক্তারঃ ২০১৯ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে অবস্থিত গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজের বিএম শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মিতা আক্তার। পাশ্ববর্তী উলিপুর উপজেলার দঃ সাদুল্লাহ তেলিপাড়া এলাকার মৃত-মোহাব্বত আলী ও গৃহিণী মোছাঃ রাবেয়া বেগমের মেয়ে মিতা আক্তার।

পিতার মৃত্যুতে বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ দিন মজুরের কাজ করে ২ ভাইবোন ও মায়ের খরচ চালান। তার উপর ভাই বোনদের লেখা-পড়ার ব্যায় বহন করা আবুল কালামের জন্য অসম্ভব। নিজ চেষ্টায় খেয়ে না খেয়ে মিতা আক্তার ২০১৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়ে কলেজে ভর্তি হয়। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায়ও অভাবনিয় ফলাফল অর্জন করে মিতা। পরিবারের সাধ্য না থাকলেও মিতা আক্তারের ইচ্ছা উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে দেশের মানুষের সেবা করা।

মোছাঃ মুন্নি আক্তারঃ এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কুড়িগ্রাম জেলার চিলমারীতে অবস্থিত গোলাম হাবিব মহিলা ডিগ্রী কলেজের বিএম শাখা থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোছাঃ মুন্নি আক্তার। উপজেলার মুদাফৎথানা সরকারপাড়া এলাকার মৃত-রফিকুল ইসলাম ও গৃহিণী মোছাঃ মাহমুদা বেগমের একমাত্র মেয়ে মুন্নি আক্তার। পিতার মৃত্যুর পর ২বছরের মুন্নিকে রেখে মা মাহমুদা বেগম অন্যত্র বিয়ে করে।

নানী-মামাদের অভাবী সংসারে বেড়ে ওঠা মুন্নি নিজ চেষ্টায় লেখা-পড়া করে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। কোথায় পাবে সুযোগ? কিভাবে জুটবে লেখা-পড়ার খরচ? সে চিন্তা সব সময় মুন্নিকে ভর করে রাখে। বাবা-মা ছাড়া মুন্নির উচ্চ শিক্ষার ব্যায় বহনের তেমন কোন উপায় না থাকলেও লেখা-পড়া করে দেশের মানুষের সেবা করতে চায় মুন্নি।