কালিগঞ্জে দুই ইউনিয়নেই নৌকা প্রতীকের প্রার্থীদের ভরাডুবি

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৭:২৭ পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ৭:২৭:পূর্বাহ্ণ, জুলাই ২৬, ২০১৯

কালিগঞ্জে পাঁচটি ইউনিয়নে কঠোর নিরাপত্তায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে কুশুলিয়া ও মৌতলা ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এছাড়াও বিষ্ণুপুর ইউপি’র একটি ও তারালী ইউপি’র একটিতে সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে এবং কৃষ্ণনগর ইউপি’র একটি ওয়ার্ডে সাধারণ সদস্য পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

মোট ২৫টি কেন্দ্রের মধ্যে অল্প কয়েকটি ছাড়া অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি ছিল অনেক কম। নির্বাচনের দিন সকাল ৭টার দিকে কঠোর নিরাপত্তায় ব্যালট পেপার কেন্দ্রে পৌছানো হয়। সকাল ৯টায় শুরু হয়ে বিরতিহীন ভাবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলে। পাঁচটি ইউনিয়নে উপ-নির্বাচন হলেও মূলত কুশুলিয়া ও মৌতলা ইউনিয়নে কারা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হচ্ছেন সেটা দেখার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন সবাই।

সকালে ও বিকেলে দু’দফায় কুশুলিয়া ইউপি’র গোবিন্দপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ভদ্রখালী প্রাথমিক বিদ্যালয়, মহৎপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলার সদরের নাসরুল উলুম মাদ্রাসা ও কালিগঞ্জ পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় যেয়ে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে এক প্রকার ভোটারশূন্য দেখা যায়। কোথাও ভোটরদের লাইন কিংবা জটলা দেখা যায়নি। বিকেল ৫টার কিছুক্ষণ আগে উপজেলা সদরের পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মনোজিত কুমার মন্ডল তার কেন্দ্রে প্রায় ৩০ শতাংশ ভোট পড়েছে জানান। অপরদিকে মৌতলা ইউনিয়নের শিমু-রেজা এমপি কলেজ, নামাজগড় প্রাথমিক বিদ্যালয়, উভাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোটারশূন্য দেখা গেলেও এসব কেন্দ্রে প্রিজাইডিং আফিসাররা ৪৫ থেকে ৬০ শতাংশ ভোট পড়েছে বলে দাবি করেন। দুপুরের পূর্বেই ৪০ শতাংশের বেশি ভোটারের ভোট প্রদান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তারা।

প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য মোতায়েন ছিল। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে র‌্যাব ও বিজিবি সদস্যরা সার্বক্ষণিক টহল দিয়েছে। কালিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন, কালিগঞ্জ সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামিরুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাচন অফিসার জমিরুল হায়দারসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের তৎপরতা ছিল লক্ষ্য করার মতো। মৌতলা ইউপি’র একটি কেন্দ্রে সামান্য বিশৃঙ্খলা ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনী এলাকা থেকে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, ৫নং কুশুলিয়া ইউনিয়নের ৯ টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিল ১৮ হাজার ১২৪ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৮ হাজার ৪১১জন। ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার ৪৬ দশমিক ৪১।মোট ৩৮৬ টি ব্যালট বাতিল হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ এবাদুল ইসলাম ঘোড়া প্রতীকে ৬ হাজার ৮৮২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ইউনিয়নে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ মোজাহার হোসেন কান্টু নৌকা প্রতীকে পেয়েছেন ১ হাজার ১৪৩ ভোট।

অপরদিকে মৌতলা ইউনিয়নে ৯ টি কেন্দ্রে মাট ভোটার ছিল ১৫ হাজার ১১১ জন। এর মধ্যে ভোট প্রদান করেছেন ৭ হাজার ৬১৭ জন। ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার ৫০ দশমিক ৪১। বাতিল হয়েছে ৪৮ ভোট। মৌতলা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম বাটুল আনারস প্রতীকে ৪ হাজার ৮৩৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী শেখ মাহবুবর রহমান সুমন পেয়েছেন ২ হাজার ৭৩২ ভোট।

বিষ্ণুপুর ইউপি’র ৪,৫ ও ৬ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদে ১ হাজার ৩০৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন বই প্রতীকের প্রার্থী পূর্ণিমা রাণী মন্ডল। অপর প্রার্থী সুফিয়া খাতুন (সূর্যমুখী ফুল প্রতীক) পেয়েছেন ৪২৭ ভোট। এখানে ৫ হাজার ১৮৬ জন ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৮৩০ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল হয় ৯৯ টি ব্যালট। ভোট প্রদানের শতকরা হার ৩৫ দশমিক ২৯।

তারালী ইউপি’র ১,২ ও ৩ নং সংরক্ষিত ওয়ার্ডের মহিলা সদস্য পদে তালগাছ প্রতীকের প্রার্থী মোছাঃ লিপিয়া খাতুন ১ হাজার ৫৮৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জেবুন্নাহার জেবু সূর্যমুখী ফুল প্রতীকে পেয়েছেন ৫৯১ ভোট। অপর প্রার্থী মোছাঃ শাহানারা খাতুন কলম প্রতীকে পেয়েছেন ৩২৬ ভোট। এখানে ৫ হাজার ৭৭৪ জন ভোটারের মধ্যে ২ হাজার ৫৪২ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বাতিল হয়েছে ৪১ টি ভোট। ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার ৪৪ দশমিক ০২।

কৃষ্ণনগর ইউপি’র ৬নং ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য পদের নির্বাচনে তপন রায় মোরগ প্রতীকে ৯০৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি মোঃ নূর হোসেন তালা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫৮ ভোট। অপর প্রার্থী কবিরুল ইসলাম ক্রিকেট ব্যাট প্রতীকে ৭৩ ভোট এবং রামপ্রসাদ হালদার ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৯২ ভোট। এখানে ২ হাজার ৪১১ ভোটারের মধ্যে ১ হাজার ৮২৬ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। বাতিল হয়েছে ৯৬ ভোট। ভোটার উপস্থিতির শতকরা হার ৭৫ দশমিক ৭৪।