কৃষিতে নতুন উদ্যোগ; ঝালকাঠিতে বাড়ির ছাদে ছাগল পালন

প্রকাশিত: ৭:৪০ অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৯ | আপডেট: ৭:৪০:অপরাহ্ণ, জুলাই ২৪, ২০১৯

ছাদ কৃষির পরে এবার ঝালকাঠিতে বাড়ীর ছাদে ছাগল লালন পালন শুরু করেছেন একটি পরিবার। ঝালকাঠি সদর উপজেলার বিনয়কাঠী ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চল মানপাশা গ্রামের বাসিন্দা প্রকৌশলী রেজাউল করিম তার বসত বাড়ীর পাকা ভবনের ছাদে ব্ল্যাক বেঙ্গল জাতের ছাগলের খামার করেছেন। তার স্ত্রী মানপাশা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক সৈয়দা আফরোজা বেগম এই কাজে স্বামীকে উৎসাহ প্রদান ও সহযোগিতা করছেন। মাসুদ নামের এক যুবক এই পরিবারের ছাগল লালন পালনের কাজ আন্তরিকতার সাথে তদারকি ও পরিচর্যা করেন।
সৈয়দা আফরোজা বেগম জানান, ৪ বছর পূর্বে বেঙ্গল জাতের ছাগলের ২টি বাচ্চা দিয়ে এ প্রকল্প শুরু হয়। বর্তমানে এই খামারে ১৮টি ছাগল রয়েছে এবং ইতিমধ্যেই প্রাপ্ত বয়স্ক ২৫-৩০ হাজার টাকা দামে ১৮টি খাসি বিক্রি করেছেন। এখানে লালন-পালন করা এই জাতের ছাগলগুলো জন্মের পর থেকে মাটিতে পা দেয়নি। প্রতিদিন তাদের চাহিদা মোতাবেক খাবার, পানি ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ছাদে ছাগলের জন্য এক কোনে টিনের ঘর করে তাদের মধ্যে ৩ তলা বিশিষ্ট পাটাতন করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টি বাদলের দিনে ও প্রখর রোদে ছাগলগুলি তাদের পছন্দমত জায়গায় অবস্থান নিতে পারে।
ছাগল আশে পাশের মানুষের কৃষি থেকে নানা ধরনের ফসলাদি নষ্ট করে। কিন্তু ছাদে ছাগল লালন-পালনের কারণে কারো কোন তি হয় না। বাড়ির ছাদটির জায়গায় উৎপাদনশীল ও আর্থিক ভাবে সহায়ক প্রকল্প হিসেবে বাড়তি আয় পাওয়া যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়াও প্রকৌশলীর ওই বসতবাড়ীর ২য় তলায় নানা জাতের কবুতর ও সৌখিন জাতের পাখি লালন পালন করা হচ্ছে। বসত ভবনের সামনে আলাদা করে হাস-মুরগীর জন্য খামার করা হয়েছে। এখানে হাস, মুরগী, রাজহাস এবং টারকি জাতের মুরগী লালন পালন করা হচ্ছে। বাড়ীর সামনে, ১০-১২টি গবাদী পশু নিয়ে দুগ্ধ খামার গড়ে তোলা হয়েছে এবং পারিবারিক পুকুরটিতেও মাছ চাষ করা হয়েছে। বাড়িটি জুড়ে, বিভিন্ন ধরনের ফল-ফলাদি গাছ লাগিয়ে সবুজ বনায়ন করা হয়েছে। গরু প্রতিদিন এখান থেকে ১০ লিটার দুধ উৎপাদন হচ্ছে এবং পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে। গবাধি পশুর বর্জ (গোবর) দিয়ে বায়ো গ্যাসের প্লান্ট করা হয়েছে। এই প্লান্ট দিয়ে বায়োগ্যাস ব্যবহার করে রান্নাবান্না কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।