র‍্যাবের অভিযানে চাঞ্চল্যকর ধর্ষন ও হত্যার মূল হোতা গ্রেফতার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:০৪ অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯ | আপডেট: ২:৩৪:অপরাহ্ণ, জুলাই ২০, ২০১৯

নাজমুল হক, মাদারীপুর।

মাদারীপুরে আলোচিত মাদ্রাসার শিক্ষার্থী সানজিদা দিপ্তী (১৫) কে ধর্ষন শেষে হত্যার মূল হোতাকে গ্রেফতার করলো র‍্যাব-৮ শনিবার সকালে মাদারীপুর র‍্যাব- ৮ সংবাদ সম্মেলন করে সাংবাদিকদের জানান, ঘটনার পর থেকেই রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেফতার করতে র‍্যাব-৮ এর একটি চৌকষ দল ছায়া তদন্ত শুরু করে। যে পুকুর থেকে দিপ্তীর লাশটি উদ্ধার করা হয় সেটি তল্লাশী করে একটি সিমেন্টের বস্তা পাওয়া যায়, যেটিতে দিপ্তীর ব্যবহ্নত জামা, বোরখা, জুতা ছিলো। এই আলামতের সুত্র ধরে অটোচালক সাজ্জাদ খান (৪০) কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। মাদারীপুর সদর থানাধীন পূর্ব খাকদি এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলাম খানের ছেলে সজ্জাত হোসেন খান।

উর্ধতন কর্মকর্তা আতিকা ইসলাম বিপিএম,সিও র‍্যাব-৮ বলেন, র‍্যাবের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ইজিবাইক চালক সাজ্জাদ স্বীকার করে যে, গত ১১ জুলাই বৃহস্পতিবার মুসলধারে বৃষ্টি চলাকালীন সময় বিকাল ৬টার সময় মাদারীপুর শহরের ইটেরপুল থেকে বোরখা পড়া একমাত্র কিশোরী যাত্রীকে নিয়ে চরমুগুরিয়ায় উদ্দেশ্য রওনা দেয়। ইজিবাইক চালক অন্য কোন যাত্রী না থাকায় তার মাথায় কুবুদ্ধি চেপে বসে এবং চরমুগুরিয়া রাস্তায় না গিয়ে পূর্ব খাকদির দিকে চলতে থাকে। এ সময় যাত্রী দিপ্তী কারণ জানতে চাইলে চালক সাজ্জাদ বলেন পাশেই অবস্থিত তার বাসায় জরুরী একটু কাজ আছে। কিছু বুঝে উঠার আগেই চালক রাস্তার পাশেই তার বাসার সামনে চলে আসে। মেয়েটি চিৎকার করলে তার গলাটিপি ধরা হয়, এতে মেয়েটি অজ্ঞান হয়ে পড়ে। অজ্ঞান অবস্থায় মেয়েটিকে সাজ্জাদ নিজের রুমে নিয়ে ধর্ষন করে। এক পর্যায়ে মেয়েটি পুরোপুরি নিস্তেজ হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। সাজ্জাদের স্ত্রী ও সন্তানরা শশুর বাড়ি অবস্থান করায় বাড়িটি পুরোপুরি নির্জন ছিলো। লাশটি গুম করার জন্য সাজ্জাদ রাতের জন্য অপেক্ষা করে। এসময় মেয়েটির গায়ের সমস্ত কাপড় জুতা একটা সিমেন্টের বস্তায় ভরে রাখে। নিহতের উলঙ্গ শরীরের পেটে চাকু দিয়ে কেটে দিয়ে শরীরের সাথে কয়েকটা ইট বেধে দেয়। রাত আনুমানিক ১১টার দিকে পাশের পরিত্যক্ত পুকুরে লাশ ও কাপড়ের বস্তা ডুবিয়ে রাখে।
দুদিন পড়ে শনিবার বিকালে ঐ লাশ ভেসে উঠলে অন্যান্য উৎসুক জনতার মতো অভিযুক্ত সাজ্জাদ নিজেও ওই লাশ দেখতে যায়।
এর আগেও ১৯৯২ সালে সাত বছরের এক শিশুর কানের গহনা চুরির উদ্দেশ্যে শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করার অপরাধে যাবজ্জীবন (১৮ বছর) কারাভোগ করে ২০১১ সালে মুক্তি পায়।

অভিযুক্ত ইজিবাইক চালক সাজ্জাদ কে উদ্ধারকৃত আলামত সহ মাদারীপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়। দিপ্তীর বাবা মজিবর ফকির বিলাপ করে বলেন, আমার এতটুকু মেয়ের সাথে অনেক বড় অন্যায় করা হয়েছে, সরকারের কাছে আমি আসামির ফাঁসির দাবি জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য ; নিখোঁজের দুইদিন পর শনিবার সন্ধ্যায় শহরের পাদকী এলাকা থেকে এক কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এলাকাবাসী পুকুরে এক কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ দেখতে পেয়ে থানায় খবর দিলে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। প্রথম দিন মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। রবিবার তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। নিহত কিশোরী মাদারীপুর সদর উপজেলার চরনাচনা গ্রামের মজিবর ফকিরের মেয়ে সানজিদা আক্তার দীপ্তি (১৫)। দিপ্তী স্থানীয় একটি মাদ্রাসার দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলো।

স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিপ্তী বুধবার সকালে মাদারীপুর শহরের তরমুগুরিয়া এলাকায় তার বোনের বাড়ি বেড়াতে আসে। বৃহস্পতিবার দুপুরে বোনের বাড়ি থেকে চাচার বাসায় যাবার কথা বলে রওনা হয় । এর পর থেকেই সে নিখোঁজ ছিলো। শনিবার বিকালে শহরের পাকদী এলাকার একটি পুকুর থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে স্বজনরা রবিবার সকালে মাদারীপুর সদর হাসপাতাল মর্গে এসে লাশ সনাক্ত করেন। নিহত কিশোরীর শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। পেটে উপর ছুড়িকাঘাত করা রয়েছে। লাশটি ছিলো বিবস্ত্র।

নিহতের চাচা হাবিব ফকির বলেন, ‘দিপ্তী বুধবার বোনের বাড়ি বেড়াতে এসেছিল। বৃহস্পতিবার বেড়ানো শেষে আমার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। এরপর থেকে সে নিখোঁজ ছিলো। পরে আমরা খবর পাই একটি মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার হাসপাতালের মর্গে এসে লাশ দেখে তার পরিচয় নিশ্চিত করি। আমরা ধারণা করছি দিপ্তীকে অপহরণ করে প্রথমে ধর্ষন পড়ে হত্যা করা হয়েছে ।

১৪ জুলাই দিপ্তীর বাবা মাদারীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।