ঢাবিতে ‘ঘৃণা কর্মসূচি’ এরশাদকে স্বৈরাচার দাবি করে

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৫৩ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৫৩:অপরাহ্ণ, জুলাই ১৪, ২০১৯

অপরাজনীতিকে দায়ী করেছে বাংলদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। এছাড়াও আজ রবিবার স্বৈরাচার সরকার হোসাইন মোহাম্মদ এরশাদের স্বাভাবিক মৃত্যুতে ঘৃণা প্রকাশ করেছে ছাত্র ইউনিয়ন।

রবিবার বিকাল সাড়ে পাঁচটায় সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যে তারা এই ঘৃণা প্রদর্শন করেন। তাদের দাবি, হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশ একজন কুখ্যাত স্বৈরাচার শাসক। তার মতো স্বৈরাচার সরকার এরশাদের মৃত্যু হওয়ার কথা ছিল ফাঁসির দড়িতে কিন্তু তার হলো স্বাভাবিক মৃত্যু।

যা শহীদদের জন্য অপমানজনক। তার স্বাভাবিক মৃত্যুতে শহীদ ডাক্তার মিলন, রাউফুন বসুনিয়া, জয়নাল এর মত শহীদদেওে প্রতি অবিচার করা হয়েছে। তার স্বাভাবিক মৃত্যুর জন্য দায়ী বাংলাদেশের অপরাজনীতি। বাংলাদেশের এমন অপ রাজনীতির কারণেই তিনি আজ স্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেছেন।

ঘৃনা প্রদর্শনীতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সভাপতি মেহেদি হাসান নোবেল, সাধারণ সম্পাদক অনিক রায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতি ফযলে উল্লাহসহ ছাত্র ইউনিয়নের অনেক কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় নেতৃবৃন্দ।

ঘৃণা প্রদর্শনে ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল বলেন, আপনারা জানেন, এরশাদ বাংলাদেশের একজন কুখ্যাত স্বৈরাচার। তার হাতে ক্ষমতা থাকার সময় ছাত্রদের উপর অনেক গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। তাজুল এর কথা আমরা জানি তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে। শুধুমাত্র ঢাকা শহরের না, সারা দেশেই এরশাদের গুন্ডা ও সেনাবাহিনীর হাতে অগণিত মানুষ মৃত্যুবরণ করেছেন।

তিনি আরো বলেন,আমরা মনে করি,একজন স্বৈরশাসক আজকে যে মর্যাদার সাথে মৃত্যুবরণ করলেন এটা তার সাথে হওয়ার কথা ছিল না। তাকে জেলখানা বা ফাঁসির কাষ্টে ঝুলে মৃত্যুবরণ করার কথা ছিল। কিন্তু বাংলাদেশের অপ রাজনীতির কারণে তিনি আজ রাষ্ট্রীয় ভাবে সম্মান পাচ্ছেন। তাই আমরা মনে করি এটি শহীদদের সাথে একটি প্রতারণা।

ডাক্তার মিলন, রাউফুন বসুনিয়া, জয়নাল এর প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আজকে আমরা এখানে ঘৃণা প্রদর্শন করছি। আজকের শহীদদের রক্তের সাথে প্রতারনা করা হয়েছে। তার সাথে স্বাভাবিক মৃত্যু কাম্য নয়।

ছাত্র ইউনিয়নের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক আব্দুল করিম বলেন, স্বৈরাচার সরকার এরশাদের বিরুদ্ধে আজকে আমাদের এই নীরব প্রতিবাদ। আজকে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে যাদের মৃত্যু হয়েছে তাদের বিচার হয় না। কিন্তু যারা অপরাধী তাদের আজ স্বাভাবিক মৃত্যু হয়।

এরশাদ শ্রমিক আন্দোলন, ছাত্র আন্দোলন সব জায়গায় হামলা চালিয়েছে তার পুলিশ বানিয়ে দিবে এবং আমাদের অনেক ভাই শহীদ হয়েছে। যাদের এখন পর্যন্ত আমরা হত্যার বিচার পাই নাই। তার স্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের কাছে একটা দুঃখজনক বিষয়। তাই আমরা তার প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করতে এখানে দাঁড়িয়ে আছি।

তিনি আরো বলেন, এরশাদের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা অংশ নিয়েছিল, তাদের বিচার না করে এই এরশাদের মৃত্যুতে সরকার শোক জানাচ্ছে। এটা খুবই দুঃখজনক।

এ সময় তারা এরশাদের প্রতি ঘৃণা প্রদর্শন করে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড গলায় ঝুলিয়ে প্রদর্শন করে। প্ল্যাকার্ডে লিখা হয়, ‘আমি নূর হোসেন,এরশাদ আমার খুনি’ ‘আমি দিপালী সাহা .এরশাদ আমার খুনি’ ‘ আমি জয়নাল,এরশাদের স্বাভাবিক মৃত্যু আমার রক্তের সাথে প্রতারণা’ ‘আমি তাজুল ইসলাম,আমার খুনি এরশাদের বিচারহীন স্বাভাবিক মৃত্যু আমি চাইনি’ ‘আমি রাউফুন বসুনিয়া,আমার হত্যাকারীর বিচার কই’।