ধর্ষকের ফাঁসি দাবিতে ফেইসবুক তোলপাড়

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৪:১১ অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৩৫:অপরাহ্ণ, জুলাই ১০, ২০১৯

নাজমুল হক, মাদারীপুর:

রাজধানীর ওয়ারীর বাসায় শিশু সামিয়া আক্তার সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় গতকাল শনিবার সকালে শিশুটির বাবা আবদুস সালাম অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে ওয়ারী থানায় মামলা করেন।
বিভিন্ন মিডিয়াতে ঘটনা প্রাকাশ হওয়ার পরে তোলপাড় শুরু হয়ে যায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে।

Samim Mia তার স্ট্যাটাস লেখে ” ধর্ষণ এবং হত্যা দুটির বিচার ক্রসফায়র চাই ”
Khan Sahin এর স্ট্যাটাস ” শিশু ধর্ষণ জাতির লজ্জা, এই লজ্জা লুকানোর কোন জায়গা নেই, সায়মার ধর্ষণ ও হত্যাকারির ফাঁসি চাই ”
Sabbir Hossain Riyad Khan লিখেছেন “প্রধান মন্ত্রীর কাছে আকুল আবেদন, এই রকম কুকুরদের জনসম্মুখে গুলি করে মারা হউক।
অপেক্ষার প্রহর লিখেছেন ” মুখে রক্ত ঠোঁটে কামড়ের দাগ,ক্ষতবিক্ষত যৌনাঙ্গ এ কেমন স্বাধীন বাংলাদেশ।
Sumon molla লিখেছেন “ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদন্ড করা হউক ”

মাদারীপুরে ধর্ষকের শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার দাবিতে মানববন্ধন করা হয়, এসময় মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক ওয়াহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন

উল্লেখ্য ; দুই ছেলে দুই মেয়ের মধ্যে সবার ছোট সামিয়া আক্তার সায়মা। ওয়ারী সিলভারডেল স্কুলের নার্সারিতে পড়ত সে। গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকার ওয়ারি এলাকায় বহুতল ভবনের সবচেয়ে উপর তলার একটি শূন্য ফ্ল্যাটের রান্নাঘরে সায়মার রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়।

বাবা-মার সঙ্গে সায়মা ওই ফ্ল্যাটেরই ষষ্ঠ তলায় থাকতো। ওপর তলার একটি ফ্ল্যাটে প্রায় প্রতিদিনের মত ওই দিন বিকেলে খেলতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে লাপাত্তা হয়ে যায় সাত বছরের সায়মা। সন্ধ্যার পরও ঘরে না ফিরলে খোঁজাখুঁজি করতে গিয়ে রাত আটটা সময় শিশুটির রক্তাক্ত মৃতদেহ পাওয়া যায়।

সায়মার বাবা আব্দুস সালাম নবাবপুরের একজন ব্যবসায়ী। গত ফেব্রুয়ারিতে ওই ভবনে ফ্ল্যাট কেনার পর তিনি পরিবার নিয়ে সেখানে ওঠেন

পুলিশ বলছে, হারুনই ভবনের অন্য একটি ফাঁকা ফ্ল্যাটে নিয়ে সায়মাকে হত্যা করেছে। ফাঁকা ফ্ল্যাটটিতে নির্মাণকাজ চলছিল। এ কারণে সেখানে কেউ বসবাস করছিল না।

শনিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ময়নাতদন্তের পর ডাক্তাররা তাদের রিপোর্টে বলেছেন, শিশুটিকে জবরদস্তি করে ধর্ষণ করা হয়েছে। তারপর গলায় রশি পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, শনিবার সকালে শিশুর বাবা আব্দুস সালাম বাদি হয়ে ওয়ারি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা করেছেন। পুলিশ তদন্ত করছে। ভবনের আশপাশের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হয়েছে। সন্দেহে কয়েকজনকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়। এরপর ঘাতক হারুনুর রশীদকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়।