১১ বছর ধরে থমকে আছে বস্তি উন্নয়ন

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৩১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ | আপডেট: ৩:৩১:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭
১১ বছর ধরে থমকে আছে বস্তি উন্নয়ন

১১ বছর ধরে থমকে আছে রাজধানীর বস্তি উন্নয়ন। প্রকল্প থাকলেও তেমন কাজ না থাকায় গল্প-গুজব করে সময় পার করছেন সিটি কর্পোরেশনের ‘বস্তি উন্নয়ন’ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) ও ইউনিসেফর অনুদানের ওপর নির্ভরশীল থাকলেও দীর্ঘ ১১ বছরে এ শাখাটিতে তেমন কাজ নেই।

জানা গেছে, ২০০১ সালে ইউএনডিপি ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় সিটি কর্পোরেশন বস্তি উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়ে তা ২০০৬ সালে শেষ হয়ে যায়। এরপর এ শাখাটিতে তেমন কোনো কাজ নেই। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ‘বস্তি উন্নয়ন’ শাখায় একজন অফিসার ও দুইজন অফিস সহায়ক রয়েছেন। কাজ না থাকায় অফিস সহায়ক দুজনই খোশগল্প করে সময় কাটাচ্ছেন। এ ব্যাপারে অফিস সহকারী মজিবুর রহমান গল্পের ফাঁকে এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রকল্প চলাকালীন সময়ে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করলেও দীর্ঘ ১১ বছর ধরে অফিসে তেমন কোনো কাজ নেই। অফিসে এসে কাজ না থাকায় বেকার থাকার মতোই মনে হচ্ছে। দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা এ. কে. এম লুৎফুর রহমান সিদ্দীক (উপ-সচিব) আমার সংবাদকে বলেন, আগে ইউএনডিপি ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় বস্তিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা থাকলেও এখন নেই। তবে ২০১৮ সালে বস্তি উন্নয়নে একটি প্রকল্প নেয়া হবে। তিনি বলেন, বস্তি উন্নয়ন শাখায় ৩ জন অফিসার থাকলেও কাজ না থাকায় এখন ১ জন অফিসার রয়েছেন। অপরাজেয় বাংলা ও ব্র্যাকের মতো যেসব এনজিও বস্তিবাসীর পাশে দাঁড়াত এখন সেসব রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়াবে। এতে বস্তিবাসীরা বিদেশি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে বলে আশঙ্কা করছেন এ কর্মকর্তা। রাজধানীতে বস্তির সংখ্যা কমলেও রাজশাহী, রংপুর, চট্টগ্রামের মতো শহরগুলোতে বস্তির সংখ্যা বাড়ছে কিন্তু এসব বস্তিবাসীর উপার্জন সংকট, অভাব-অনটন আর নোংরা পরিবেশে দুঃসহ জীবনযাপনের গ্লানি থেকে কিছুতেই মুক্তি পাচ্ছে না। পোকামাকড়ের সাথেই তাদের বসবাস। অনিয়মের কারণে এ জনগোষ্ঠী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতেও তেমন কাজে আসছে না।

ইউপিপিআর মতে, ছিন্নমূল, ভূমিহীন ও বেকার মানুষ জীবিকার সন্ধানে প্রতিনিয়তই গ্রাম ছেড়ে আসে শহরে। এসব মানুষ রাজধানীতে এসে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে আশ্রয় নেয় বস্তিতে। ঢাকা দক্ষিণের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খান মোহাম্মদ বিলাল বলেন, সরকার বিভিন্ন জায়গায় তাদের আবাসনের একটি চেষ্টা চালাচ্ছে। সেভাবে পরিকল্পনাও নেয়া হয়েছে। বস্তির উন্নয়ন আটকে থাকায় চরম দুর্ভোগ ও কষ্টে দিন যাচ্ছে বস্তিবাসীর। তাদের একজন কড়াইল বস্তির আশরাফুল ইসলাম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- বস্তিবাসীদের কথা কোনো সরকার ভাবে না। লাইন ধরে গোসল, পানি ও টয়লেট করতে হয়। ৩ হাজার মানুষের জন্য একটি পানির লাইন। সেখানে রাত জেগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে খাওয়ার পানি সংগ্রহ করতে হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ বস্তিশুমারি অনুযায়ী দেশের ২২ লাখ ৩২ হাজার মানুষ বস্তিতে বাস করে। এরমধ্যে ১১ লাখ ৪৩ হাজার পুরুষ এবং নারী ১০ লাখ ৮৬ হাজার। বস্তির সংখ্যা ১৩ হাজার ৯৩৫টি যা ১৯৯৭ সালে ছিল ২৯৯১টি। -আমার সংবাদ