কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে ববি ভিসির দায়িত্বে ট্রেজারার!

প্রকাশিত: ১২:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯ | আপডেট: ১২:৪৪:অপরাহ্ণ, জুন ২৬, ২০১৯

শফিক মুন্সি, বিশেষ প্রতিবেদক

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল রাখার স্বার্থে উপাচার্য নিয়োগের আগ পর্যন্ত মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির নির্দেশক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানকে উপাচার্যের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।গতকাল ২৫ জুন ২০১৯ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব জনাব হাবিবুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে এ নির্দেশ জারি করা হয়। এ ব্যাপারে অধ্যাপক ড. এ কে এম মাহবুব হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নির্দেশের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন,” বিশ্ববিদ্যালয়ের রুটিন ওয়ার্ক পরিচালনা করার জন্য আমাকে এ দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক – শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য সবার যে দাবি – দাওয়া আছে সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য আমার পক্ষে যা যা করার আমি করবো “। তিনি এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন। প্রায় দুই মাসের উপাচার্য বিরোধী আন্দোলন ও উপাচার্য শূন্যতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম থমকে গিয়েছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষার্থীরা পুনরায় নিয়মিত পড়াশোনায় ফিরতে পারবেন বলে মনে করছেন সেখানকার শিক্ষকবৃন্দ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জনাব আবু জাফর মিয়া বলেন, “এটা খুব ভাল সিদ্ধান্ত কেননা বিশ্ববিদ্যালয় এ মূহুর্তে একদম অচল ও স্থবির হয়ে আছে। উপাচার্য ছাড়া কোন কাজ করা যাচ্ছিল না। এ সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় আবারো প্রাণ ফিরে পেল। সময়োপযোগী এ সিদ্ধান্ত নেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।” উপাচার্য শূন্যতার ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাজে অচলায়তন সৃষ্টি হয়েছিল। রুটিন ওয়ার্ক পালনের দায়িত্ব ট্রেজারার মহোদয়কে দেবার পর এই অচলায়তন কাটবে বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তারা। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা আন্দোলনের সংগঠক ও বর্তমানে কর্মরত কর্মকর্তা জনাব বাহাউদ্দীন গোলাপ বলেন, ” বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান প্রক্রিয়ায় যে অচলায়তন সৃষ্টি হয়েছিল সেটা এই সিদ্ধান্তের কারণে কেটে যাবে। আমি সকল কর্মকর্তা – কর্মচারীদের পক্ষ থেকে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানাই”। আজ দুপুরে এই চিঠির খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে আসে।বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগ নেতা মহিউদ্দিন আহমেদ সিফাত বলেন, ” আমাদের ভিসিবিরোধী আন্দোলনের ফলে যখন সাবেক ভিসি মহোদয় বাধ্যতামূলক ছুটিতে যায় তখনও রুটিন দায়িত্ব পালনকালে মাননীয় ট্রেজারার স্যার কিছু ছাত্রবান্ধব প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাকে পুনরায় দায়িত্ব দেওয়ার ফলে শিক্ষার্থীদের সমস্যাগুলো সমাধানে তিনি দ্রুত পদক্ষেপ নিবেন বলেই আমি মনে করি। ” তবে উপাচার্যের রুটিন ওয়ার্ক সচল রাখার সিদ্ধান্তকে এই মুহূর্তে সময়োপযোগী মনে করলেও পূর্ণাঙ্গ উপাচার্য নিয়োগের দাবি থেকে সরে আসছে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সেখানকার সাবেক ভিসি বিরোধী আন্দোলনের ছাত্রনেতা লোকমান হোসেনের মতে,”শুধুমাত্র রুটিন দায়িত্ব পেয়েছেন এ কে এম মাহবুব স্যার। আমরা আশাকরি ক্যাম্পাসের যে স্থবিরতা ছিল সেটা এখন কেটে যাবে এবং সকল কার্যক্রম সচল থাকবে।তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমাদের বিচক্ষণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দ্রুত নতুন উপাচার্য নিয়োগ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে দেবেন”।