ঝালকাঠি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক শাহাদাত

প্রকাশিত: ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩৬:পূর্বাহ্ণ, জুন ২২, ২০১৯

দলীয় বিশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরের পদ স্থগিত করে জ্যেষ্ঠতার ক্রমানুসারে সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব দিয়েছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বারিত এক পত্রে অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি জানাগেছে।
পত্রে উলে­খ করা হয়, ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদকের পদ স্থগিত হওয়ায় পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত ঝালকাঠি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক হিসেবে নির্দেশক্রমে আপনাকে (শাহাদাত) দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে আপনি (শাহাদাত) দলকে আরো সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করতে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করবেন বলে দল আশা করে।
উলে­খ্য, গত ১৬ এপ্রিলে শহরের ব্র্যাক মোড়স্থ একটি কমউিনিটি সেন্টারে সাধারন সভা শেষে দলীয় কয়েকজন প্রবীণ নেতাকে নাজেহালের অভিযোগ ওঠে বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় বিএনপি তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় ১ জুন। দলীয় পদ স্থগিত করা হয় ১৯ জুন। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী স্বারিত কারণ দর্শানোর নোটিশে উলে­খ করা হয়, বিগত ১৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে জেলা বিএনপির সাধারন সভা শেষে হাঙ্গামা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে আপনি (নুপুর) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। এ বিষয়ে কেন্দ্র কর্তৃক গঠিত তদন্ত টিমের প্রতিবেদনের প্রেেিত আপনাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়া হয়। আপনার (নুপুর) জবাব প্রাপ্তির পর জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক পদ পরবর্তি নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১ জুন জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানো নোটিশ দেয় কেন্দ্রীয় বিএনপি। এতে উলে­খ করা হয়েছিলো, গত ১৬ এপ্রিল ১৯ তারিখে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির এক সাধারন সভা শেষে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম গিয়াসকে সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। যা তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ইহা সম্পুর্ণভাবে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ড। সে ক্ষেত্রে কেন আপনার (সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর) বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার কারণ দর্শিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত প্রতিবেদন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।
মনিরুল ইসলাম নূপুর বলেন,‘১৯ জুন সিনিয়র মহাসচিব স্বারিত পত্রটি আমি হাতে পেয়েছি। গত ১৬ এপ্রিল কেন্দ্রিয় কমিটির প্রতিনিধির উপস্থিতিতেই ঝালকাঠিতে দলীয় সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভাশেষে নিজেদের মধ্যে সামান্য বাকবিতন্ডা হয়েছে মাত্র। কোন প্রকার হামলা বা বিশৃংখলার ঘটনা ঘটেনি। গত নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে ঢাকায় বসে একটি গ্র“প স্থানীয় সুবিধাবাদী বিএনপির একটি অংশকে ব্যবহার করে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করেছে। কেন্দ্রের নির্দেশে আমি স্থাগিতাদেশের ব্যাপারে আমার বক্তব্য পেশ করব।’ ঝালকাঠি জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনের চিঠি প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন বলেন,‘দল আমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পণ করেছে তা আমি যথাযথ ভাবে পালন করব।’ প্রসঙ্গত, দীর্ঘ বছর ধরে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নিয়ে স্থানীয় পর্যায় এমনকী কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যেও মেরুকরণ ও দ্ব›দ্ব-বিবাদ চলে আসছিলো। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ঝালকাঠি জেলা বিএনপিতে দলীয় এ কোন্দল আরও বড় আকার ধারণ করে। অভ্যন্তরীন এ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ভাড়ায় থাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক অফিস ঘরটিও কয়েক মাস আগে উঠিয়ে নেয়া হয়।