জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয় : প্রধানমন্ত্রী

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭ | আপডেট: ১২:৩৮:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৮, ২০১৭
জেরুজালেম নিয়ে ট্রাম্পের স্বীকৃতি গ্রহণযোগ্য নয় : প্রধানমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে যে স্বীকৃতি দিয়েছেন, তা বাংলাদেশের কাছেও গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বৃহস্পতিবার গণভবনে কম্বোডিয়া সফর সম্পর্কে জানাতে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমেরিকার রাষ্ট্রপতি সুয়োমোটো যে ঘোষণা দিয়েছেন, আমার কাছে মনে হয় এটা ইসলামিক ওয়ার্ল্ডে কারও কাছে গ্রহণযোগ্য না। কারণ এখানে জাতিসংঘের রেজুলেশন রয়েছে। রেজুলেশন অনুযায়ী কিন্তু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। জাতিসংঘের রেজুলেশনকে এভাবে অগ্রাহ্য করা কিন্তু কেউ মেনে নেবে না। ফিলিস্তিনের বিষয়ে এটা আমার বক্তব্য।’

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমরা মনে করি, ফিলিস্তিনের একটা অধিকার রয়েছে। তাদের একটা নিজস্ব রাষ্ট্রের স্বীকৃতি অবশ্যই দিতে হবে। ১৯৬৭ সালের যুদ্ধের (আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ) পরে তাদের যে ভূখণ্ডটা এবং যে সীমানাটা তাদের ছিল, যেটা তাদের রাজধানী হওয়ার কথা, সেটাই থাকা উচিৎ।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানে এভাবে একতরফাভাবে করা মানে, অশান্তি সৃষ্টি করা এবং যে শান্তি প্রক্রিয়া, যেটা আমেরিকাই শুরু করেছিল, সেটার জন্য নোবেল প্রাইজও দেওয়া হল। একবার তারা নিজেরাই শুরু করল, এই ঘোষণায় এখন অশান্তির পথে ঠেলে দেওয়া সেটা কোনভাবেই কাম্য নয়।’

ফিলিস্তিনের জনগণ যাতে তাদের ন্যায্য অধিকার পায়, সে ব্যাপারে সকল মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

মুসলিম, খ্রিস্টান ও ইহুদি সব ধর্মের অনুসারীদের কাছেই জেরুজালেম একটি পবিত্র নগরী। ইসরায়েল বরাবরই জেরুজালেমকে তাদের রাজধানী বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে পূর্ব জেরুজালেমকে ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী করতে চান ফিলিস্তিনের নেতারা।

বুধবার হোয়াইট হাউজে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এক ভাষণে বলেন, জেরুজালেমকে তিনি ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তর করতে পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিচ্ছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ইতোমধ্যেই প্রত্যাখ্যান করেছে আরব ও ইউরোপীয় বিভিন্ন দেশ এবং জাতিসংঘ।