বরিশালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষনে বাধা প্রদানের দাবী মুক্তিযোদ্ধাদের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৫০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ | আপডেট: ৯:৫০:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭
বরিশালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষনে বাধা প্রদানের দাবী মুক্তিযোদ্ধাদের

বরিশাল : বরিশালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত পাকিস্তানী হানাদার বাহীনির টর্চারসেল ও চারটি বাঙ্কার সংরক্ষনের দাবী জানিয়েছে বরিশাল মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ড। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় নগরের বগুরারোডস্থ বরিশাল বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে বরিশাল জেলা কমান্ড এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। সংবাদ সম্মেলনে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ড এর মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার (সাংগঠনিক) এনায়েত হোসেন চৌধুরী জানান, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত পানি উন্নয়ন বোর্ড কলোনীতে পাকিস্তানী হানাদার বাহীনির সৈণ্যদের টর্চারসেল ও চারটি বাঙ্কার সংরক্ষনের জন্য স্থানীয় সরকারের কাছে প্রস্তাব করা হয়।১৯৯২ সালে করা প্রস্তাবের পেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয় থেকে ২০১৬ সালে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য। বর্তমান সরকার বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (ওয়াপদা কলোনী) কম্পাউন্ডে থাকা দুটি টর্চারসেল ও চারটি বাঙ্কার সংরক্ষন ও সীমানা প্রাচীর নির্মান, রাস্তা, সেড র্নিমান ও আলোকসজ্জার জন্য সাড়ে তিন কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্থানীয় সরকারের এই বরাদ্দ বরিশাল সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার আহবান করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ পায়। কিন্তু টর্চারসেল ও বাঙ্কার স্মৃতি বাস্তবায়ন প্রকল্পের কাজ করতে গেলে টালবাহানা শুরু করে পানি উন্নয়ন বোর্ড  কতৃপক্ষ । তাদের বিভিন্ন অজুহাত কাজ শুরু করতে না পারায় ২০১৯ সালে ভৌত অবকাঠামো এবং সৌন্দয্যবর্ধন শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কাজটি শেষ হওয়া শঙ্কা দেখা দিয়েছে। চিঠি চালাচালির পরও প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য কাজ শুরু করলেও পানি উন্নয়ন বোর্ড এক মাত্র বাধা হয়ে দাড়িয়েছে।তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও চাচ্ছে। এবিষয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী লুৎফর রহমান জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য ২০১৬ সালে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।নিয়ম অনুযায়ী ২০১৭ সালের ২০ জুন কাজ শুরু হওয়ার কথা। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন অজুহাতে ৫ মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও কাজটি শুরু করা যাচ্ছেনা। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান জাহানারা এন্টারপ্রাইজের সত্বাধিকারী মোস্তাক আহম্মেদ আহম্মেদ জানান, টেন্ডার পাওয়ার পর আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের কম্পাউন্ডে কাজ করতে গেলে তারা আমাদের বাধা দেয়।পরবর্তীতে এ অব্দি কাজটি আর শুরু করা সম্ভব হয়নি।  এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা বীর বীক্রম আব্দুল হক জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একমাত্র পানি উন্নয়ন বোর্ড গড়িমসি করছে। তারা আমাদের কাছে টাকাও দাবী করেছে। আমরা ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের পর বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেয়া হবে।এরপরও যদি কাজ না হয় তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঘেরাও কর্মসূচী দেয়া হবে। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বাঙ্কার ও টর্চারসেলসহ মহান মুক্তিযুদ্ধ বিজরিত স্মৃতিগুলো পানি উন্নয়ন বোর্ড সংরক্ষন করে আসছে। এটি সংস্কারের জন্য বরিশাল সিটি কর্পোরেশন যে উদ্যোগ নিয়েছিলো, তা আমাদের জানা ছিলো না। বিষয়টি জানার পরে আমাদের মন্ত্রনালয়ে জানানো হলে সেখান থেকে কোন সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। আর আর্থিক লেনদের বিষয়ে তিনি জানান, এরকম কোন বিষয় নেই, তবে তাদের এ কাজটি আমরা (ডিপার্টমেন্টাল ওয়ার্ক) করার দাবী জানিয়েছি। সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা কমান্ডার শেখ কুতুব উদ্দিন, মহানগর কমান্ডার মোখলেচুর রহমান, বরিশাল মহানগরের ডেপুটি কমান্ডার শাহজাহান হাওলাদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা এ এমজি কবীর ভুলু সহ অন্যারা।