মাদারীপুরে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী ॥ শঙ্কায় সাধারণ ভোটাররা

মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ ॥ ওসি ও ২ ইন্সপেক্টরকে বদলির নির্দেশ

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৮:৫০ অপরাহ্ণ, জুন ১৪, ২০১৯ | আপডেট: ১১:৩৯:পূর্বাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৯

নাজমুল হক, মাদারীপুর ॥

মাদারীপুর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে‘র বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এড. ওবাইদুর রহমান কালু খান। ইতোমধ্যে এই দুই প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে একাধিক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে দলীয় প্রার্থীর প্রতীক নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগ জেলা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ২২ নেতাকে শোকজ করা হয়েছে। এতে নির্বাচনী মাঠ আরো উত্তপ্ত হয়ে উঠছে।

ফলে সাধারণ ভোটাররা বিশেষ করে সংখ্যালঘুরা শঙ্কায় রয়েছে। অন্য দিকে সদর থানার ওসিসহ ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে (ইন্সপেক্টর) অন্যত্র বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই এ আশঙ্কা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে‘র বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান এমপির ছোট ভাই এড. ওবাইদুর রহমান কালু খান। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্র“পের মধ্যে প্রায় দিনই ঘটছে হামলা পাল্টা হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম শহরের কুকরাইলস্থ তার বাসভবনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘একটি মহল নৌকার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে ১৮ জুনের নির্বাচনে বিশৃঙ্খলা করার চেষ্টা করছে। আর যে সকল জনপ্রতিনিধি নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হয়েছে; তাদের কেউ কেউ নৌকার বিরুদ্ধে কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮ জুন সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পাভেলুর রহমান শফিক খান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে এবং সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খানের ছোট ভাই ওবাইদুর রহমান কালূ খান আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। কিন্তু কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজল কৃষ্ণ দে‘কে মনোনয়ন দেয়। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গিয়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী বিক্ষোভ করেন।

সেই সঙ্গে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে‘র বিরুদ্ধে ওবাইদুর রহমান কালু খানকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নেন। অন্যদিকে মনোনয়ন না পেয়ে বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পাভেলুর রহমান শফিক খান কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কাজল কৃষ্ণ দে‘র পক্ষে নির্বাচনী প্রচারনায় অংশ নেন। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক এমপি আফম বাহাউদ্দিন নাছিম গ্র“প শাজাহান খান এমপি গ্র“প দু‘ভাগে বিভক্ত হয়ে নির্বাচনের প্রচারনায় অংশগ্রহণ করছে ।

এদিকে সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নৌকা প্রতীক এর বিপক্ষে অবস্থান নেওয়া ও পক্ষপাতের অভিযোগে সদর থানার ওসি কামরুল হাসান, এসআই শ্যামল ঘোষ ও আঙ্গুলকাটা তদস্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ কাজী রমজানুল হককে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ক‘দিন আগে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নির্বাচনকে প্রভাবিত করার অভিযোগ উত্থাপন করে বেশ ক‘জন পুলিশ কর্মকর্তাকে (ইন্সপেক্টর) প্রত্যাহারের জন্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর আবেদন করেন। বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশন ওই ৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলির নির্দেশ দেন।

মাদারীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ বদরুল আলম মোল্লা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন সদর থানার ওসি ও দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বদলির নির্দেশ দিয়েছে। কমিশন পুলিশ হেড কোয়ার্টারে চিঠি দিয়েছে। এক্ষেত্রে হেডকোয়ার্টার থেকে আমাদের যে নির্দেশনা দিবে আমরা সেভাবে সিদ্ধান্ত নেব।’

এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ মোল্লা বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদককে নৌকা প্রতীক দিয়েছেন। কিন্তু সাবেক নৌ-মন্ত্রী শাজাহান খান নিজে নৌকার এমপি হয়েও তার ছোট ভাইকে নৌকার বিরুদ্ধে প্রার্থী করেছেন, যা জনগণের মাঝে নানা প্রশ্নের জম্ম দিয়েছে। কিন্তু দল ও দলের অঙ্গ সংগঠনের অধিকাংশ নেতা-কর্মী দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন। আশা করছি নৌকার প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন।