নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই স্কুল ছাত্রকে ন্যাড়া করে নির্যাতন

প্রকাশিত: ৬:৩৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৩৮:অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

ঝালকাঠির নলছিটিতে কবুতর চুরির অভিযোগে দুই স্কুল ছাত্রকে গাছের সাথে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলামকে গ্রোপ্তার করে মঙ্গল দুপুরে ঝালকাঠি আদালতে প্রেরণ করা হয়।
নির্যাতনের শিকার সজিব হোসেন খান বাকেরগঞ্জের তবিরকাঠি গ্রামের খলিলুর রহমানের ছেলে এবং রিফাত হোসেন জয় একই গ্রামের আবদুল ক্দ্দুুস হাওলাদারের ছেলে। তাঁরা দুজনেই স্থানীয় জেড এ ভূট্টো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র। এ ঘটনায় জয়ের বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে নলছিটি থানায় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলমসহ ৮ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
নির্যাতনের শিকার দুই ছাত্রের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা য়ায়, নলছিটি উপজেলার সিদ্ধকাঠি ইউনিয়নের চৌদ্দবুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল অভিযোগ কেন্দ্র কর্মরত পুলিশ কনস্টেবল মো. শাহ আলমের বাড়ি থেকে শনিবার রাতে কবুতর চুরি হয়। রোববার সকালে পার্শ্ববর্তী বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার তবিরকাঠি গ্রামের মো. সজিব হোসেন খান (১৪) ও রিফাত হোসেন জয় (১৪) নামে দুই শিশুকে আটক করে শাহ আলম। পরে সিদ্ধকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের নয় নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রফিকুল ইসলাম বিচার বসিয়ে তাদের ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও নির্যাতনের নির্দেশ দেন। এসময় পুলিশ কনস্টেবল শাহ আলম ব্লেড দিয়ে জয় নামে এক স্কুলছাত্রের মাথার মাঝখান থেকে চুল কেটে দেয়। পুরো ঘটনা স্থানীয় লোকজনদাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখে। চুল কাটা ও গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের চিত্র ভিডিও করে এবং ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
নির্যাতনের শিকার স্কুলছাত্র জয় সাংবাদিকদের জানায়, গত রোববার রাত থেকে পরের দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত তাদের আটকে রেখে দফায় দফায় নির্যাতন করা হয়েছে। পরে পুলিশ সদস্য শাহআলম ব্লেড দিয়ে তাদের মাথা ন্যাড়া করে দেয়। জয়ের বাবা আবদুল কুদ্দুস জানান,‘আমার ছেলের নামে কবুতর চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মারধর করে চুল কেটে দিয়েছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই। আমি জরিমানার টাকা দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে এনেছি।’
সিদ্ধাকাঠি ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও যুবলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম বলেন,‘ছেলে দুটি আমাদের গ্রামে এসে কবুতর চুরি করেছে। এর আগেও তারা কয়েকজনের বাসা থেকে কবুতর নিয়ে গেছে। আমি তাদের আটক করিনি কিংবা মারধরও করিনি। আমি ঘটনাটি শুনেছি মাত্র। এলাকার প্রতিপক্ষরা আমাকে ফাঁসানোর জন্য এ অপপ্রচার চালাচ্ছে।’
নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাখাওয়াত হোসেন জানান,‘নির্যাতনকারীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। নির্যাতনের শিকার জয়ের বাবা মামলা দায়ের করলে ইতোমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।এ ঘটনায় জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করা হবে।’