কুয়াকাটা-বরিশাল সড়কে বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য যাত্রীদের সাথে প্রতারণা

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:৪৮ অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯ | আপডেট: ৪:৪৮:অপরাহ্ণ, জুন ১১, ২০১৯

রাসেল কবির মুরাদ , কলাপাড়া(পটুয়াখালী)প্রতিনিধি ঃ

কলাপাড়ায় পর্যটকসহ যাত্রীদের সাথে দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিকদের প্রতারণা এখন নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার হয়ে দাড়িয়েছে। বরিশাল,পটুয়াখালী ও বরগুনা লোকাল বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য ক্রমে বেড়েই চলছে। বরিশাল ও পটুয়াখালী থেকে পর্যটকদের কুয়াকাটার কথা বলে বাসে উঠিয়ে নামিয়ে দেয়া হচ্ছে পথিমধ্যে। অচেনা অজানা এ পথে পর্যটকসহ যাত্রীদের প্রতিদিন এমন ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

এধরনের প্রতারণার কেউ কেউ প্রতিবাদ করলেও তাদের পড়তে হয় বাস শ্রমিকদের রোসানালে। এসব অনিয়ম ও প্রতারণার প্রতিবাদকারীদের বাস শ্রমিকদের দ্বারা লাঞ্চিতসহ শারীরীক ভাবেও হেনস্তা হতে হয়। এ পথে চলাচলকারী পর্যটক ও যাত্রীরা জানান দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিকদের এমন নৈরাজ্য দেশের আর কোথাও দেখা যায় না। সূর্যোদয় সূর্যাস্তে বেলাভূমি কুয়াকাটার সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের দক্ষিনাঞ্চলের বাস শ্রমিকদের প্রতি প্রতিনিয়ত নেতিবাচক ধারণা তৈরী হচ্ছে। আর এর প্রভাব পড়ছে কুয়াকাটার উপর। পটুয়াখালী,বরিশাল ও বরগুনা বাস শ্রমিক ও মালিক সিন্ডিকেট এর এমন প্রতারণা দীর্ঘদিন যাবত চলে আসছে।

উল্লেখ্য ৮ মে আমতলী থেকে কুয়াকাটার কথা বলে বাসে তোলেন পর্যটক রতন খান, নুর আলম, সুমন, মাঈনউদ্দিন, শফিকুল ইসলামসহ আরো অনেককে। কলাপাড়া ব্রীজের কাছে এসে গাড়ী নষ্ট হয়েছে বলে পর্যটকদের অন্য পরিবহনে উঠিয়ে দেয়া হয়। এসময় বলে দেয়া হয় ভাড়া দেয়া লাগবে না। ভাড়া নিয়ে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে চলন্ত বাসে অবস্থানকালে পর্যটকসহ যাত্রীদের ওপর বাসের চালক, সুপারভাইজর, হেল্পারসহ শ্রমিকরা হামলা ও রোলার দিয়ে বেধড়ক মারধর করেছে। এ ঘটনায় উল্লেখিত যাত্রীরা আহত হয়েছে। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে।

পটুয়াখালী জেলা বাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক বলেন, সড়কের আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রনে থাকা ট্রাফিক পুলিশ ও জেলা পুলিশকে দুষলেন, সড়কে পুলিশের দ্বায়িত্বহীনতার জন্য অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই, অতিরিক্ত ভাড়া ও বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্য বন্ধ করা যাচ্ছে না। পুলিশ বাস শ্রমিকদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা নিয়ে বাস শ্রমিকদের অনিয়মকে নিয়মে পরিনত করছে। এ ক্ষেত্রে তাদের কঠোর নির্দেশনা থাকলেও প্রশাসন সহযোগিতা না করায় বাস শ্রমিকদের নিয়ন্ত্রন করতে পারছেন না তারা।

পটুয়াখালী জেলা পুলিশ সুপার মইনুল হোসেন এ প্রতিনিধিকে বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়,যাত্রীদের মারধর করা এবং সড়কে বাস শ্রমিকদের নৈরাজ্যের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।