ঝালকাঠি শহরের শতবর্ষি দুটি সরকারি পুকুর দখল হয়ে যাচ্ছে

প্রকাশিত: ১০:৪৯ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭ | আপডেট: ১০:৪৯:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৭, ২০১৭
ঝালকাঠি শহরের শতবর্ষি দুটি সরকারি পুকুর দখল হয়ে যাচ্ছে

ঝালকাঠি শহরের শতাধিক বছরের পুরাতন ঐতিহ্যবাহী দুটি সরকারি পুকুর দখল করে নিয়েছে প্রভাবশালীরা। পুকুর দুটি রক্ষার দাবি জানিয়েছে ঝালকাঠি নাগরিক ফোরাম। বুধবার দুপুরে ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন নাগরিক ফোরামের সহসভাপতি প্রোফেসর এসএম শাহজাহান।
লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, ঝালকাঠি শহরের প্রধান ডাকঘরের পাসে এবং শহরের কাপুড়িয়াপট্টিতে চার বিঘা জমির ওপর দীর্ঘ দিনের পুরনো দুইটি সরকারি পুকুর চারপাশ থেকে দখল হয়ে যাচ্ছে। প্রভাবশালীরা ময়লা আবর্জনা ফেলে পুকুরের অধিকাংশ জায়গা দখল করে নির্মাণ করা হয়েছে স্থাপনা। এতে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় হচ্ছে। ময়লা আবর্জনায় ভরাট হওয়ার ফলে পুকুরের পানি এখন আর ব্যবহার করতে পারছেন না পার্শবর্তি বাসিন্দারা। তাই সরকারি পুকুর দুটি দখলদারদের হাত থেকে রক্ষার দাবি জানায় নাগরিক ফোরাম।
নাগরিক ফোরামের সহসভাপতি এস এম শাহজাহান বলেন, ১৯১০ সালে ব্রিটিশ সরকার ঝালকাঠি শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে চার বিঘা জমিতে দুইটি পুকুর খনন করেন। পুকুর দুটির পানি স্থানীয় বাসিন্দারা ব্যবহার করতে থাকে। এমনকি শহরের কোন স্থাপনায় আগুন লাগলে ওই পুকুরের পানি দিয়ে তা নেভানো হতো। ১নং খতিয়ানভুক্ত পুকুরের চারপাশে বসবাসকারীরা ধীরে ধীরে পুকুরটি দখল করে নিচ্ছে। ময়লা আবর্জনা ফেলায় দূর থেকে পুকুরের আকার দেখা যাচ্ছে না। কাছে গেলে হয়তো কচুরিপনায় ভড়া ছোট ডোবার মতো দেখা যায়। পোস্ট অফিসের পুকুরের ঘাটলার জায়গা দখল করে গাছপালা লাগানো হযেছে। পুকুরটি এখন ৯৯ বছরের জন্য লিজ নিয়ে দখলের চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী চক্র। তাদের হাত থেকে পুকুর দুটি রক্ষা এবং পরিস্কার করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগী করার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে নাগরিক ফোরামের সহসভাপতি এস এম এ রহমান কাজল ও সাধারণ সম্পাদক আহমেদ আবু জাফর উপস্থিত ছিলেন। হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ ঝালকাঠি শাখার সদস্য সচিব অ্যাড. তরিকুল ইসলাম সিকদার বলেন, জলাধার সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী জনগণের ব্যবহারের জন্য খননকৃত পুকুর ভরাট বা দীর্ঘ মেয়াদি লিজ দেয়ার কোন সুযোগ নেই। কোন কারণে স্বল্প মেয়াদি লিজ দেয়া হলেও জনগণের পুকুর ব্যবহারে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।