ঝালকাঠি জেলা বিএনপিতে বিভক্তি, সাধারণ সম্পাদককে কেন্দ্রের শো-কজ

প্রকাশিত: ১১:২৫ পূর্বাহ্ণ, জুন ৪, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৩১:অপরাহ্ণ, জুন ৪, ২০১৯

দুটি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে পৃথকভাবে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান’র মৃত্যুবার্ষিকী পালন করার মধ্য দিয়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি’র গ্র“পিং দৃশ্যমান হয়েছে। আর এতে অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম এর নেতৃত্ব। জেলা বিএনপি’র সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরের নেতৃত্বে দুই ভাগে বিভক্ত এক সময়ের বিএনপির ঘাটি খ্যাত ঝালকাঠি জেলা কমিটি।

মনিরুল ইসলাম নুপুরের গ্র“পে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃবৃন্দসহ যুবদল, ছাত্রদল, শ্রমিক দল, কৃষক দল ও মৎস্যজীবী দলের নেতৃবৃন্দ রয়েছে। অপর গ্র“প জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর নেতৃত্বেও রয়েছে যুবদল, ছাত্রদল, জেলার উপজেলা ও পৌর বিএনপি নেতৃবৃন্দ । ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জেলা বিএনপির সাধারন সভায় এ বিভক্তি প্রকাশ্য রূপ পায়।

গত ১৬ এপ্রিল মঙ্গলবার বিকেলে শহরের ব্র্যাক মোড়স্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা বিএনপির সাধারন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) বিলকিস জাহান শিরিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবুল হক নান্নু। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টুর সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন সহসভাপতি মিঞা আহমেদ কিবরিয়া, সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান খান বাপ্পি, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হক এলিন, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হাসান তুহিন, নলছিটি উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট আনিসুর রহমান খান হেলাল, সাধারণ সম্পাদক সেলিম গাজী, রাজাপুর উপজেলা বিএনপির অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ, ছাত্রদল নেতা জাহিদ হোসেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যের পরেই জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর সভার সিদ্ধান্ত পাঠ করেন। সভার শেষ পর্যায়ে সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সরদার এনামুল হক এলিন সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করেন। এতে মনিরুল ইসলাম নুপুরের পক্ষে কয়েকজন নেতাকর্মী প্রতিবাদ করলে শুরু হয় হট্টগোল। এ সময় নেতাকর্মীরা দুই পক্ষে অবস্থান নিলে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। সেই সময় থেকে দুটি গ্র“পে বিভক্ত হয়ে পড়ে ঝালকাঠি জেলা বিএনপি।

গত ২৭ মে সোমবার শহরের রোনালসে রোডস্থ একটি রেস্টুরেন্টে জেলা মৎস্যজীবী দলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, জেলা জামায়াতের আমীর অ্যাডভোকেট মুহা. হাফিজুর রহমান, সহসভাপতি ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর বাবুল, অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, অ্যাডভোকেট নুর হোসেন, অ্যাডভোকেট জহুরুল হক খোকন, জেলা কৃষকদল সভাপতি রুস্তম আলী চাষী, যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেন, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন, শহর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন হাওলাদার, বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন, অ্যাডভোকেট ফয়সাল খান, অ্যাডভোকেট শামীম আলম, অ্যাডভোকেট সাইফুদ্দিন হাওলাদার চুন্নু, অ্যাডভোকেট হাসান সিকদার, অ্যাডভোকেট আল আমিন হাওলাদার, অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান, মোঃ শহিদুল ইসলাম, মিন্টু গাজী, গোলাম কিবরিয়া, জেলা যুবদল সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আনিচুর রহমান খান, জেলা ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক গিয়াস সরদার, জেলা শ্রমিক দল সভাপতি টিপু সুলতান, সাধারন সম্পাদক মামুন অর রশিদ, বাসন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোঃ ইউনুচ মিয়া, শেখেরহাট ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোঃ জোবায়ের হোসেন, বশিরুজ্জামান, কামাল খলিফা, জেলা ছাত্রদল নেতা তৌহিদ হোসেন, সাদ্দাম হোসেন।

জেলা মৎস্যজীবী দলের আহŸায়ক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান খান’র সভাপতিত্বে যুগ্ম আহŸায়ক সরদার মোঃ শহিদুল ইসলাম, মোঃ জালাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন। জেলা বিএনপির সাধারন সাধারন সম্পাদক নবগঠিত জেলা মৎস্যজীবী দলের আহŸায়ক কমিটির নেতৃবৃন্দকে পরিচয় করিয়ে দেন। পরে দেশ ও জাতি সমৃদ্ধি কামনা, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রোগমুক্তি কামনা, বিএনপির প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ পরিচিতি সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামাল মন্টু ও সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান খান বাপ্পীসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি।

এরপর ৩০ মে বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া-মিলাদ এবং ইফতার অনুষ্ঠিত হয়। শহরের ব্র্যাক মোড়স্থ একটি কমিউনিটি সেন্টারে অনুষ্ঠিত এ দোয়ায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু। জেলা বিএনপি’র সহসভাপতি নুরুল আলম গিয়াস, অ্যাডভোকেট নুর হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক ব্যরিস্টার এস মিজানুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদি হাসান খান বাপ্পি, ডক্টর এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর কেন্দ্রীয় নেতা ডা: শাকিল খান, জেলা জামায়াতের আমির এ্যাডভোকেট মোঃ হাফিজুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সরদার এনামুল হক এলিন, সাধারন সম্পাদক অ্যাডভোকেট রেজাউল হক আজিম, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিকুল ইসলাম লিটন, সাধারন সম্পাদক সরদার শাফায়াত হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক সাজু, ছাত্রদলের সভাপতি আরিফুর রহমান খান, রাজাপুর উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আবুল কালাম আজাদ ও সাধারণ সম্পাদক নাসিম আকন, নলছিটি পৌর সভাপতি মজিবুর রহমানসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ইফতার অনুষ্ঠানের ব্যানারে প্রধান অতিথি হিসেবে বিএনপি’র কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ব্যারিষ্টার শাহজাহান ওমরের নাম থাকলেও ব্যস্ততার কারনে তিনি ঢাকা থেকে এ অনুষ্ঠানে আসতে পারেননি বলে আয়োজকরা জানান। তবে এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির উলে­খযোগ্য কয়েকজন সহসভাপতি, সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, যুগ্ম সম্পাদক অ্যাডভোকেট শাহাদাত হোসেনসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে দেখা যায়নি। ঠিক তেমনি পরেরদিন ৩১ মে শুক্রবার ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সম্মানে জেলা বিএনপির ব্যানারে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হলেও জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু, সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান খান বাপ্পীসহ শীর্ষ পর্যায়ের কয়েকজন নেতৃবৃন্দকে দেখা যায়নি।

এ অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর, সহসভাপতি অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবির বাবুল, অ্যাডভোকেট সৈয়দ হোসেন, সহসভাপতি ও জেলা কৃষকদল সভাপতি রুস্তম আলী চাষী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যডভোকেট শাহাদাত হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অ্যাডভোকেট জহুরুল হক খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহেব হোসেন, শহর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট নাসিমুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান তাপু, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেন, দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান মুবিন, শ্রমিক দল সভাপতি টিপু সুলতান, সাধারণ সম্পাদক মামুন আর রশীদ, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক গিয়াস সরদার দীপু উপস্থিত ছিলেন।
এব্যাপারে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর বলেন, জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু’র শারীরিক অসুস্থ্যতা এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান খান বাপ্পী’র ব্যস্ততার কারণে তারা আসতে পারে নি। তাদেরকে উপস্থিত থাকার জন্য বলা হয়েছিলো। বৃহস্পতিবারে জেলা বিএনপির প্রোগ্রামের সব আয়োজন আমি করেছি। শারীরিকভাবে অসুস্থ্য ছিলাম, তারপরেও আসতে চাইলে পুলিশী বাধার কারণে আসা সম্ভব হয়নি।

জেলা বিএনপির সভাপতি মোস্তফা কামাল মন্টু জানান, আমার দায়িত্ব ছিলো বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র মৃত্যু বার্ষিকী পালন করা। আমি তাই করেছি। কে আসছে, না আসছে তা নিয়ে চিন্তার কোন বিষয় নেই।

২৭ মে জেলা মৎস্যজীবী দলের নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা ও ইফতার, ৩০ মে বৃহস্পতিবার জেলা বিএনপির আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান’র মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা এবং বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও রোগমুক্তি কামনা করে দোয়া-মিলাদ এবং ইফতার এবং ৩১ মে শুক্রবার ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সম্মানে জেলা বিএনপির ব্যানারে ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হওয়ার পরে ১লা জুন কেন্দ্র থেকে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নূপুরের নামে কারণ দর্শানোর নোটিশ আসে। ঝালকাঠি জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম গিয়াসকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করার অভিযোগে জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুরকে শো-কজ করেছে কেন্দ্রীয় বিএনপি। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিত রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত কারণ দর্শানোর নিাটিশ ১জুন সন্ধ্যায় ঝালকাঠি এসে পৌছে। যার স্মারক সূত্র নং- বিএনপি/কারণ দর্শাও/৭৭/২০১৮/১৯। আগামী ১০ দিনের মধ্যে উক্ত শো-কজের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে।

শো-কজ লেটারে উলে­খ করা হয়েছে, গত ১৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে ঝালকাঠি জেলা বিএনপির এক সাধারন সভা শেষে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম গিয়াসকে সকলের সামনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়েছে। যা তদন্তে সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ইহা সম্পুর্ণভাবে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থি কর্মকান্ড। সে ক্ষেত্রে কেন আপনার (সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর) বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তার কারণ দর্শিয়ে আগামী ১০ দিনের মধ্যে একটি লিখিত প্রতিবেদন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বরাবরে নয়াপল্টন বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে প্রেরণ করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মনিরুল ইসলাম নুপুর জানান,‘১৬ এপ্রিল জেলা বিএনপির সাধারন সভার সিদ্ধান্তের বিপক্ষে তিনি কথা বলায় তার সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে গালিগালাজ বা লাঞ্ছিত করা হয়নি। শো-কজ লেটার এখনও আমি হাতে পাইনি। হাতে পেলে যথাসময়ে কেন্দ্রে জবাব দেয়া হবে।’