এসডিজি বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়া খাতে আরও বেশি বাজেট বরাদ্দের আহ্বান

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৬:৩৩ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ | আপডেট: ৬:৩৪:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭
এসডিজি বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়া খাতে আরও বেশি বাজেট বরাদ্দের আহ্বান

সোহানুর রহমান:: দেশে যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়, মানুষ যাতে তার অধিকার ভোগ করতে পারে, সেটা অবশ্যই নজরে রাখতে হবে। মানুষ যেন নিজেদের মর্যাদা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) নিশ্চিত করতে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এখন যাদের বয়স ১৫ থেকে ২৪ বছর, আগামী ২০ বছর পর তারাই দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের হাল ধরবে। বেসরকারি ব্যক্তি ও সরকারের সমন্বয়ে এসডিজি বাস্তবায়ন করতে হবে। এছাড়া, পিছিয়ে পড়া খাতে আরও বেশি পরিমাণ বাজেট বরাদ্দের আহ্বানও জানান পরামর্শ দিয়েছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে আদিবাসী, শিশু, নারী, দলিত, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, বৃহন্নলা তথা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার পরামর্শ দিয়েছে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম। আজ বুধবার বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে নাগরিক প্লাটফরম বাংলাদেশের উদ্যোগে আয়োজিত ‘নাগরিক সম্মেলন ‘১৭, বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন’ শীর্ষক দিনব্যাপী আলোচনা সভার প্রারম্ভিক অধিবেশনে এসব কথা বলেন বক্তারা। দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘কাউকে পেছনে রাখা যাবে না।’ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে ‘বাংলাদেশে রূপান্তরমুখী অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন অন্বেষণে: তাদেরকে পেছনে রাখা যাবে না’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) রিসার্চ ফেলো তৌফিকুল ইসলাম খান। প্রারম্ভিক অধিবেশনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলা একাডেমির সভাপতি ইমেরিটাস অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বলেন, ‘দেশে যেন সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হয় সেজন্য সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি পরস্পর হাত রেখে এগিয়ে যেতে হবে। মানুষের মর্যাদা যেন প্রত্যেক মানুষ পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।’

তিনি বলেন, বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দেশ বিস্ময়কর অগ্রগতি লাভ করেছে। কিন্তু এর পাশাপাশি মানুষের ব্যর্থতাও কিছু কম নয়। ছোট থেকেই জানি পৃথিবীর তিন ভাগ জল, আর ১ ভাগ স্থল। কিন্তু সুপেয় পানি পায় না এ রূপ মানুষের সংখ্যাও নেহায়েত কম নয়। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসা বিজ্ঞানে বিশ্ব এখন অনেক এগিয়েছে, কিন্তু প্রতিদিন ন্যুনতম চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বহু মানুষ। আমরা দৃষ্টিনন্দন অট্টালিকা দেখে মুগ্ধ হই, কিন্তু ভুলে যাই বহু মানুষ এখনও খোলা আকাশের নিচে বসবাস করে, রাত কাটায়। এ শিক্ষাবিদের মতে মানুষের সাফল্য যেমন অনেক, ব্যর্থতাও কিছু কম নয়। মানুষের প্রতি মানুষের নিষ্ঠুরতা বেড়েছে, তার প্রমান রোহিঙ্গারা, ঘরে ঘরে চলছে নারী নির্যাতন।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াত আইভি, গণ স্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী, তত্বাবধায়ক সরকারেরর সাবেক উপদেষ্টা সুলতানা কামাল, সিপিডির সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান।

প্রারম্ভিক অধিবেশনে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেন, সরকারি ও বেসরকারী সবাইকে সমন্বয়ের মাধ্যমে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে। নজরদারি থাকতে হবে।

মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল বলেছেন, ‘এসডিজির মাধ্যমে সবাইকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। কাউকে পেছনে রাখা যাবে না। এসডিজির মাধ্যমে আমরা যে প্রতিজ্ঞা করেছি, তার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের জীবনে একটা পরিবর্তন নিয়ে আসা যাবে। ফলে প্রত্যেক মানুষের জীবন সাফল্যের সঙ্গে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।’

দিনব্যাপী সম্মেলনে চারটি ইস্যুতে পৃথক সেশন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এগুলো হলো— অর্থনৈতিক, সামাজিক, জলবায়ু ও পরিবেশ প্রসঙ্গ এবং সুশাসন। নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক ও সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিকাল 6 টায় সম্মেলন শেষ হবে। এর আগে বিকাল ৪টায় নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে পাঠ করা হয় ঘোষণাপত্র।