তাজিন আহমেদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৫:৩৬ অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯ | আপডেট: ৫:৩৬:অপরাহ্ণ, মে ২২, ২০১৯

তানজিদ শুভ্রঃ অভিনেত্রী ও উপস্থাপক তাজিন আহমেদ গত বছরের আজকের দিনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় বিকাল ৪টা ২০ মিনিট নাগাদ কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

পাবনা জেলায় বেড়ে উঠা তাজিন ঢাকার ইডেন কলেজ থেকে পড়াশোনা করে ১৯৯২ সালে এইচএসসিতে উর্ত্তীর্ণ হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করে পেশা হিসেবে সাংবাদিকতাকে বেছে নেয়। ১৯৯৪ সালে তিনি দৈনিক ভোরের কাগজে যুক্ত হন। ১৯৯৭ সালে প্রথম আলোতে সাংবাদিকতা শুরু করেন ও ১৯৯৮ সালে “নিজস্ব প্রতিবেদক” হন। তিনি আনন্দ ভুবন পত্রিকায় কিছুদিন কলাম লেখক হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০২ সালে তিনি জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে মার্কেন্টাইল ব্যাংক লিমিটেডে যোগ দেন।

দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। তাঁর অভিনীত প্রথম নাটক ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। নাটকের পাশাপাশি তিনি ১৯৯৭ সাল থেকে থিয়েটারে অভিনয় করেছেন। দিলারা ডলি রচিত ও শেখ নিয়ামত আলী পরিচালিত ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে তাজিন আহমেদের অভিনয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। নাটকটি ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হয়েছিল। এরপর তিনি অসংখ্য নাটক-টেলিছবিতে কাজ করেছেন। তাজিন আহমেদের অভিনয়ের শুরুটা হয় টিভি নাটক দিয়ে। ১৯৯৬ সালে বিটিভিতে প্রচার হওয়া ‘শেষ দেখা শেষ নয়’ নাটকের আগেও ১৯৯১ সালে বিটিভির ‘চেতনা’ নামের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উপস্থাপনা শুরু করেন তিনি। তার অভিনীত বিটিভি প্রচারিত ‘আঁধারে ধবল দৃপ্তি’ বেশ সাড়া জাগিয়েছিল। ১৯৯৭ সালে ‘থিয়েটার আরামবাগ’ দিয়ে মঞ্চনাটক শুরু করেন। এরপর ‘নাট্যজন’ থিয়েটারের হয়ে বেশ কিছু নাটকে অভিনয় করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে আরণ্যক নাট্যদলের ‘ময়ূর সিংহাসন’ নাটকে অভিনয় করেছিলেন যা ছিল তাঁর অভিনীত সর্বশেষ মঞ্চনাটক। তার সর্বশেষ অভিনীতি ধারাবাহিক নাটক ‘বিদেশি পাড়া’। হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত নাটক ‘নীলচুড়ি’তে অভিনয় প্রশংসিত হয়েছিলেন তাজিন আহমেদ।

অভিনয় ও উপস্থাপনার বাইরে লেখালেখির কাজও করেছেন। তাঁর লেখা অনেক নাটক টেলিভিশনে প্রচারিত হয়। তাজিনের লেখা ও পরিচালনায় তৈরি হয় ‘যাতক’ ও ‘যোগফল’ নামে দুটি নাটক। তাঁর লেখা উল্লেখযোগ্য নাটকগুলো হচ্ছে ‘বৃদ্ধাশ্রম’, ‘অনুর একদিন’, ‘এক আকাশের তারা’, ‘হুম’, ‘সম্পর্ক’ ইত্যাদি।

তাজিন আহমেদ রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন’ (এনডিএম) যোগ দিয়েছিলেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির বিভাগীয় সম্পাদক (সাংস্কৃতিক) পদে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

ব্যক্তিগতে জীবনে এই অভিনেত্রী নাট্য পরিচালক এজাজ মুন্নাকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তবে তাদের সংসার টিকেনি। এরপরে তাজিন বিয়ে করেন ড্রামার রুমি রহমানকে।

১৯৭৫ সালের ৩০ জুলাই নোয়াখালী জেলায় জন্ম নেওয়া তাজিন আহমেদ ২০১৮ সালের ২২ মে পৃথিবীর মায়া কাটিয়ে অদেখা এক ভুবনে পাড়ি জমায়। পরের দিন নামাজে জানাযা শেষে তাঁকে ঢাকার বনানী কবরস্থানে বাবা কামাল উদ্দিন আহমেদের কবরে পাশে সমাহিত করা হয়। ২০০৩ সালে ‘সেরা টিভি অভিনেত্রী’ ক্যাটাগরিতে ৩২তম বাচসাস পুরস্কার বিজয়ী এই অভিনেত্রীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।