নলছিটিতে প্রতি মণ এক হাজার চলি­শ টাকা দরে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু

প্রকাশিত: ৮:১২ অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯ | আপডেট: ৮:১২:অপরাহ্ণ, মে ২১, ২০১৯

প্রতি মন ১হাজার ৪০ টাকা দরে ঝালকাঠির নলছিটিতে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের ধান কেনা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু করে খাদ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যাদের কৃষি কার্ড রয়েছে, কেবল তাদের কাছ থেকে বর্তমান বাজার দরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মূল্যে এই ধান ক্রয় করা হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নলছিটি উপজেলায় ধান কৃষকদের কাছ থেকে ১৫১ মেট্রিক টন ক্রয় করা হবে বলে খাদ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
নলছিটি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা এইচএম আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা কৃষকদের কাছে চিটা ও ময়লা মুক্ত ১৪ ভাগ আর্দ্রতার ধান সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করবেন। কৃষি অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এ বছর ধান কেজি প্রতি ২৬ টাকায় ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত খাদ্য গুদামে প্রভাবশালী চক্রের পাশ কাটিয়ে সরাসরি যাতে কৃষক ধান বিক্রি করতে পারেন সে ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খাদ্য গোডাউনগুলো বরাবরই প্রভাবশালীদের দখলে থাকে। সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য ক্রয় করার জন্য ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক নেতাদের চাপে তা সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে সরকারি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না, শস্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত থাকে সাধারণ কৃষকরা। তবে এবার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ। তারই অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আশ্রাফুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুবিনা পারভীন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
সরাসরি ধান বিক্রিতে তালিকাভুক্ত হওয়া উপজেলার মগড় ইউনিয়নের কৃষক মনির হোসেন বলেন,‘চার বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৭৫ মণ। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে দাম পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মণ। এতে অনেক টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ইউএনও স্যারের মাধ্যমে এক টন ধান গোডাউনে দেয়ার কার্ড পেয়েছি। এতে আমি মণপ্রতি ৫০০ টাকারও বেশি দাম পাবো। আমার কিছুটা হলেও লাভ আসবে।’ তিনি বলেন, এইভাবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হলে দাম এমনিতে বেড়ে যাবে। কৃষকরা জানান, এত বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত ধানের উপজেলায় এত অল্প পরিমাণ ধান ও চাল ক্রয় তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। পৌর এলাকার বৈচন্ডী গ্রামের কৃষক আনিচুর রহমান বলেন,‘আমার নিজস্ব ও বর্গা জমি মিলিয়ে ৪ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন করেছি। শুনেছি সরকার মাত্র দেড় টন ধান নিবে, তাহলে বাকি ধান কম দামে বিক্রি করতে হবে।’
নলছিটি উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন,‘কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করছি। এক্ষেত্রে আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া চাহিদামত ক্রয়ের বাজেট প্রণনয় করা হয়েছে। একজন কৃষক কমপক্ষে ১২০ কেজি ও সর্বোচ্চ ৩টন ধান সরকারি দরে গুদামে দিতে পারবে । কোনো কৃষকের যদি ধানে আদ্রতা বেশি থাকে, সে পরে ধান শুকিয়ে সঠিক আদ্রতায় দিতে পারবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন,‘মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে আগে ধান ক্রয় করতে হবে। সে জন্যই আজ থেকে আমরা ধান ক্রয় অভিযান শুরু করেছি। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে যাতে ধান ক্রয় করতে পারি সেজন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আশা করছি ধান ক্রয় অভিযানের মধ্যে দিয়ে এখানকার কৃষক উপকৃত হবে এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।’
নলছিটিতে প্রতি মণ এক হাজার চলি­শ টাকা
দরে কৃষকের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু
প্রতি মন ১হাজার ৪০ টাকা দরে ঝালকাঠির নলছিটিতে কৃষকদের কাছ থেকে সরকারের ধান কেনা কর্মসূচি শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় শুরু করে খাদ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলা কৃষি বিভাগ ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ধান সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম।
সরেজমিনে দেখা গেছে, যাদের কৃষি কার্ড রয়েছে, কেবল তাদের কাছ থেকে বর্তমান বাজার দরের চেয়ে দ্বিগুণেরও বেশি মূল্যে এই ধান ক্রয় করা হচ্ছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত নলছিটি উপজেলায় ধান কৃষকদের কাছ থেকে ১৫১ মেট্রিক টন ক্রয় করা হবে বলে খাদ্য বিভাগ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে।
নলছিটি উপজেলা ভারপ্রাপ্ত খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা এইচএম আনোয়ার হোসেন বলেন, তারা কৃষকদের কাছে চিটা ও ময়লা মুক্ত ১৪ ভাগ আর্দ্রতার ধান সংগ্রহ করে সংরক্ষণ করবেন। কৃষি অফিস থেকে পাঠানো তালিকা অনুযায়ী কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হচ্ছে। এ বছর ধান কেজি প্রতি ২৬ টাকায় ক্রয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মূলত খাদ্য গুদামে প্রভাবশালী চক্রের পাশ কাটিয়ে সরাসরি যাতে কৃষক ধান বিক্রি করতে পারেন সে ব্যবস্থা গ্রহনে উপজেলা প্রশাসনের তৎপরতা লক্ষ করা যাচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় খাদ্য গোডাউনগুলো বরাবরই প্রভাবশালীদের দখলে থাকে। সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে খাদ্যশস্য ক্রয় করার জন্য ঘোষণা দিলেও রাজনৈতিক নেতাদের চাপে তা সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে সরকারি উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন হয় না, শস্যের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত থাকে সাধারণ কৃষকরা। তবে এবার সেই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্যে যৌথভাবে কাজ শুরু করেছেন উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ। তারই অংশ হিসেবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আশ্রাফুল ইসলাম, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রুবিনা পারভীন ও খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তারা সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
সরাসরি ধান বিক্রিতে তালিকাভুক্ত হওয়া উপজেলার মগড় ইউনিয়নের কৃষক মনির হোসেন বলেন,‘চার বিঘা জমিতে ধান উৎপাদন হয়েছে ৭৫ মণ। কিন্তু বাজারে ধান বিক্রি করতে গেলে দাম পাওয়া যাচ্ছে সাড়ে ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা মণ। এতে অনেক টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় ইউএনও স্যারের মাধ্যমে এক টন ধান গোডাউনে দেয়ার কার্ড পেয়েছি। এতে আমি মণপ্রতি ৫০০ টাকারও বেশি দাম পাবো। আমার কিছুটা হলেও লাভ আসবে।’ তিনি বলেন, এইভাবে প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে ধান ক্রয় করা হলে দাম এমনিতে বেড়ে যাবে। কৃষকরা জানান, এত বিপুল পরিমাণে উৎপাদিত ধানের উপজেলায় এত অল্প পরিমাণ ধান ও চাল ক্রয় তেমন কোনো প্রভাব ফেলবে না। পৌর এলাকার বৈচন্ডী গ্রামের কৃষক আনিচুর রহমান বলেন,‘আমার নিজস্ব ও বর্গা জমি মিলিয়ে ৪ মেট্রিকটন ধান উৎপাদন করেছি। শুনেছি সরকার মাত্র দেড় টন ধান নিবে, তাহলে বাকি ধান কম দামে বিক্রি করতে হবে।’
নলছিটি উপজেলা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষি কর্মকর্তা ইসরাত জাহান মিলি বলেন,‘কৃষি কার্ডের মাধ্যমে আমরা প্রকৃত কৃষক নির্বাচন করছি। এক্ষেত্রে আমার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের দেয়া চাহিদামত ক্রয়ের বাজেট প্রণনয় করা হয়েছে। একজন কৃষক কমপক্ষে ১২০ কেজি ও সর্বোচ্চ ৩টন ধান সরকারি দরে গুদামে দিতে পারবে । কোনো কৃষকের যদি ধানে আদ্রতা বেশি থাকে, সে পরে ধান শুকিয়ে সঠিক আদ্রতায় দিতে পারবে।’ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশ্রাফুল ইসলাম বলেন,‘মন্ত্রণালয়ের কঠোর নির্দেশনা রয়েছে আগে ধান ক্রয় করতে হবে। সে জন্যই আজ থেকে আমরা ধান ক্রয় অভিযান শুরু করেছি। প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে যাতে ধান ক্রয় করতে পারি সেজন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। আশা করছি ধান ক্রয় অভিযানের মধ্যে দিয়ে এখানকার কৃষক উপকৃত হবে এবং সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে।’