ভোলায় একাধিক স্বামী নিয়ে সংসার করছে কুলসুম

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭ | আপডেট: ১২:১৮:পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ৬, ২০১৭
ভোলায় একাধিক স্বামী নিয়ে সংসার করছে কুলসুম

ভোলার পশ্চিম ইলিশার মালের হাট এলাকায় একাধিক স্বামী নিয়ে সংসার করছে বলে অভিযোগ উঠেছে কুলসুম বেগম নামের এক নারীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে ওই নারীর অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করায় বৃদ্ধা মা ও বাবাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয় কুলসুমের বেপরোয়া জীবন যাপনের বিরুদ্ধে এলাকার কেউ প্রতিবাদ করতেও সাহস পাচ্ছে না। সম্প্রতি মা নুরজাহান বেগমকে মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়ার ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়ে আরও বিপাকে পড়েছেন কুলসুমের মা-বাবা। উল্টো তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে বলে অভিযোগ করেছেন কুলসুমের ভাই হাফেজ আব্দুল মান্নান। সম্প্রতি মালের হাট এলাকার নমকান্দি গ্রামে গিয়ে মোস্তফা মাঝি ও নুরজাহান বেগমের মেয়ে কুলসুম বেগমের নানান অনৈতিক ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়। কুলসুমের স্বজনরা এবং এলাকাবাসী জানায়, ১৯৯৮ সালে প্রথম বিয়ে হয় কুলসুম বেগমের। বিয়ের ৬ মাসের মাথায় স্বামীকে ছেড়ে বরিশালের এক সেন্টুকে বিয়ে করে। এর এক বছর পর তাকে ছেড়ে সেলিম নামের অপর এক ছেলেকে বিয়ে করে। ৪/৫ মাস পর তাকে ছেড়ে বিয়ে করে মফিজল হক নামের এক ব্যক্তিকে। সেই ঘরে জান্নাত নামের এক মেয়ে হয় কুলসুম বেগমের। কিন্তু মেয়র বয়স যখন ৬/৭ মাস তখন কুলসুম আগের আগের স্বামী সেলিমের সাথে গোপন সম্পর্ক গড়ে তোলে। বিষয়টি মফিজলের নজরে এলে তার সাধে ঝগড়া বাধে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে স্বামীর বিরুদ্ধে যৌতুক ও নারী নির্যাতন মামলা দিয়ে স্বামীকে ২ মাস জেল খাটায় এবং স্বামীর কাছ থেকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে। এর পর মফিজলকে ছেড়ে বিদেশ চলে যায়। বিদেশ থেকে ফিরে রুহুল আমিন নামের এক ছেলেকে বিয়ে করে ঢাকায় বসবাস করে। কিছুদিন পর পরপুরুষের সাথে অনৈতিক মেলামেশার কারণে সেই স্বামী তাকে মারধর করে তাড়িয়ে দিয়েছে। দেশে এসে সাইফুল নামের এক ছেলের সাথে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লে জনতার হাতে ধরা পড়লে এলাকাবাসী মারধর করে পুলিশে সোপর্দ করে। পুলিশের কাছ থেকে ছাড়া পেয়ে বিয়ে করে জরু রাড়ীর ছেলে কামালের সাথে। কয়েক সাম পর কামাল ডাকাতি মামলার আসামী হিসেবে জেলে গেলে কামালকে ছেড়ে দিয়ে অপর এক কামাল ড্রাইভারকে বিয়ে করে ঢাকায় চলে যায়। এটা তার ৭ম বিয়ে। এই বিয়ের দুই তিন মাস পর সম্প্রতি ঢাকা থেকে এসে বাবা-মাকে চাপ দেয় স্বামী কামাল ড্রাইভার এক লাখ টাকা যৌতুক চেয়েছে। সেই টাকা দিতে হবে। এদিকে দেশে আসার পর থেকে কুলসুম বেগম তার আগের ৬ষ্ঠ স্বামী জেল থেকে ছাড়া পাওয়া কামালের সাথে আবার ঘনিষ্টতা গড়ে তোলে। এবার এই ডাকাতি মামলার আসামী কামালসহ ১ লাখ টাকার জন্য বাবা মাকে চাপ দিতে থাকে। ওই টাকা দিতে অস্বীকার করায় কুলসুম বেগম তার মাকে বেদম মারধর করে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা বৃদ্ধা নুরজাহানকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়ায় কুলসুম বেগম আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং তাদেরকে বাড়িতে ডুকতে দিচ্ছে না। ধারালো ধা-বাটি নিয়ে তেড়ে আসে। এলাবাসী জানায় কুলসুম বেগম এখন ৭ম স্বামী কামাল ড্রাইভারকে ঢাকায় রেখে ভোলায় ৬ষ্ঠ স্বামী কামাল ডাকাতের সাথে সংসার করছে। কামাল ডাকাত ও কুলসুম বেগমের বিরুদ্ধে স্থানীয় চেয়ারম্যান মেম্বারের কাছে বিচার দিয়েও কোন সুফল পাচ্ছে না। কামাল-কুলসুমের ভয়ে কেউ তাদের বিচার করতে সাহস পাচ্ছে না। কুলসুমরে বাবা-মায়ের আর্তি- তাদের মেয়ের এই অসামাজিক অনৈতিক কার্যকলাপ বন্ধ করতে কেউ কি এগিয়ে আসবেন।