ক্ষতিপূরণ না দিলে গ্রীনলাইনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থার কথা জানালো হাইকোর্ট

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৪:১৯ অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ৪:১৯:অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

রাজধানীর যাত্রবাড়ী ফ্লাইওভারের ওপর গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচাপায় পা হারানো প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারকে গত একমাসেও গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ কোনো টাকা না দেওয়ায় হাইকোর্ট অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ক্ষতিপূরণ না দিলে গ্রীনলাইনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যাবস্থার কথা জানালো হাইকোর্ট।

বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতিকে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ বুধবার এ আদেশ দেন। গ্রিন লাইন পরিবহনের পক্ষে সময় চেয়ে আবেদন করায় অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত উল্লেখিত আদেশ দেন।

আদালত আগামী ২২ মের মধ্যে টাকা পরিশোধ করতে নির্দেশ দিয়ে গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষের আইনজীবীকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন করুন। রাসেলকে আরো টাকা দিন। তা না হলে কি করতে হবে তা আমরা জানি। আদালত বলেন, আপনাদের ব্যবসাতো বন্ধ নেই। আমরা কি রিসিভার নিয়োগ করে দেবো?

গ্রিন লাইন পরিবহনে পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. অজি উল্লাহ ও রিট আবেদনকারী পক্ষে ছিলেন খোন্দকার শামসুল হক রেজা। এ সময় রাসেল সরকার উপস্থিত ছিলেন।

বুধবার শুনানিকালে রাসেলের আইনজীবী শামসুল হক রেজা বলেন, আদালতের আদেশের পর এককালিন ৫ লাখ টাকা ও চিকিৎসার জন্য ৩ লাখ টাকা দিয়েছে গ্রিন লাইন। বাকী ৪৫ লাখ টাকা একমাসের মধ্যে দেওয়ার কথা। কিন্তু আর কোনো টাকা দেয়নি।

এরপর গ্রিন লাইন পরিবহনে পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. অজি উল্লাহ আদেশ বাস্তবায়নের জন্য একমাস সময় চান। এ সময় আদালত বলেন, আপনারা ৫ লাখ টাকা দিয়েছেন। বাকী টাকা (৪৫ লাখ) একমাসের মধ্যে দেওয়ার কথা। খালি হাতে চলে এসেছেন। আদেশ বাস্তবায়ন করে আসতেন। কিছু টাকা দিতেন। কিন্তু আর একটাকাও দিলেন না। এটা কি হয়? আদেশ যদি বাস্তবায়ন না করেন তবে কি করতে হয় তা আমরা জানি। এ ছাড়াও চিকিৎসা খরচও দেবেন। আমরা আপনার সমস্যাও দেখছি।

আদালত আরো বলেন, আপনাদের ব্যবসা কি বন্ধ হয়ে গেছে? তাতো না। ব্যবসা চলছে। তাহলে কি আমরা রিসিভার নিয়োগ করে দেবো? আদালত বলেন, আগামী ২২ মে পরবর্তী আদেশের জন্য দিন রাখছি। এরমধ্যে টাকা দিয়ে আসুন।

গতবছর ২৮ এপ্রিল মেয়র মোহাম্মদ হানিফ ফ্লাইওভারে কথা কাটাকাটির জেরে গ্রিন লাইন পরিবহনের বাসচালক ক্ষিপ্ত হয়ে প্রাইভেটকার চালকের ওপর দিয়েই বাস চালিয়ে দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই প্রাইভেটকার চালক রাসেল সরকারের (২৩) বাম পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ ঘটনায় গাইবান্ধার একই এলাকার বাসিন্দা জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সরকার দলীয় সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম স্মৃতি রিট আবেদন করেন। এই রিট আবেদনে হাইকোর্ট গতবছর ১৪ মে রুল জারি করেন। রুলে কেন রাসেলকে এককোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এই রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট গত ১২ মার্চ এক রায়ে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে আরো কয়েকদফা আদেশ হয়েছে।

এসব আদেশের ধারাবাহিকতায় গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্ট এক আদেশে ১০ এপ্রিলের মধ্যে ক্ষতিপূরণ হিসেবে রাসেল সরকারের অনুকুলে ৫০ লাখ টাকা দিতে নির্দেশ দেন। অন্যথায় ১১ এপ্রিলের টিকিট বিক্রি বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন আদালত। এরপরই গত ১১ এপ্রিল ৫ লাখ টাকার চেক দেয় গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। আদালত বাকী ৪৫ লাখ টাকা একমাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেন। কিন্তু রাসেলকে আর এক টাকাও দেয়নি গ্রিন লাইন কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় আজ নতুন করে আদেশ দিলেন আদালত।