কী করবেন? গরমে শিশুর ঘামাচি!

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১১:৫৯ পূর্বাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯ | আপডেট: ১২:০১:অপরাহ্ণ, মে ১৫, ২০১৯

গরম আর বৃষ্টি মিলে শিশুরা এমনিতেই দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ওপর ঘামাচির যন্ত্রণায় তারা আরও বেশি অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বৃষ্টি হলে অবশ্য ঘামাচি কম হয়; কিন্তু বৃষ্টি থামার পর যে ভ্যাপসা গরম ছড়িয়ে পড়ে, তাতে শিশুর ঘামাচি হতে পারে। অনেকে আবার সর্দি-কাশির ভয়ে শিশুকে নিয়মিত গোসল করান না। এতেও কিন্তু শিশুর ঘামাচি হতে পারে।

ঘামাচি মূলত ঘর্মগ্রন্থির রোগ। মানুষের শরীরে ঘাম তৈরি হলে ঘর্মগ্রন্থির মাধ্যমে তা ত্বকের উপরিভাগে চলে আসে। প্রচণ্ড গরমে ঘামও বেশি তৈরি হয়। তখন এত বেশি পরিমাণ ঘাম ঘর্মগ্রন্থির ছিদ্রপথে বেরিয়ে আসতে পারে না। ফলে ওই নিঃসরণ ঘর্মগ্রন্থিকে ফুটো করে ত্বকের নিচে এসে জমা হতে থাকে এবং সে স্থান ফুলে ওঠে। একই সঙ্গে থাকে প্রচণ্ড চুলকানি, সামান্য জ্বালাপোড়া ভাব সব মিলিয়ে ঘামাচির সৃষ্টি হয়।

গরমে শিশুকে ঘামাচি থেকে রক্ষার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ঘামাচির স্থানে নখ দিয়ে খোঁচানো যাবে না। পাতলা কাপড় সামান্য ভিজিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিতে হবে। বরফকুচিও ব্যবহার করা যেতে পারে।

শিশুকে যথাসম্ভব ঠাণ্ডা পরিবেশে রাখতে হবে। শিশু যত ছোটই হোক, ফ্যান ব্যবহারে বাধা নেই। ফ্যানের বাতাসে শিশুর ঠাণ্ডা লাগার ভয় নেই। তার চেয়ে গরমে ঘাম থেকে ঠাণ্ডা লাগার আশঙ্কাই বেশি। শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কোনো অ্যান্টিসেপটিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই। শিশুকে হালকা সুতির কাপড় পরাতে হবে। গরমে তেল, লোশন একেবারে ব্যবহার করবেন না। তবে প্রিকলিহিট পাউডার ব্যবহার করতে পারেন।

লালচে দানার মতো দেখতে সব র‌্যাশই কিন্তু ঘামাচি নয়। তাই এ ধরনের র‌্যাশের সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য জটিলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গরমে শিশুদের ঘামাচি থেকে বাঁচাতে করণীয়:

–> পাতলা কাপড় সামান্য ভিজিয়ে শিশুর শরীর মুছে দিন।

–> নিয়মিত শিশুর নখ কেটে দিন যাতে আপনার সন্তান তার নখ দিয়ে ঘামাচি আর র‍্যাশ না চুলকায়। এতে এসব শরীরের অন্যান্য স্থানে সংক্রমিত হতে পারে।

–> শিশুকে যথাসম্ভব শীতল পরিবেশে রাখুন। যদি বাচ্চাকে বাইরে নিয়ে যেতেই হয় তাহলে ছাতা ব্যবহার করুন।

–> গরমের দিনে শিশুকে প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। গোসলের পানিতে কোনো অ্যান্টিসেপ্টিক দেওয়ার প্রয়োজন নেই।

–> নবজাতকের শরীরে মাত্রাতিরিক্ত পাউডার ব্যবহার না করে তাকে সবসময় শুষ্ক স্থানে এবং সুতি কাপড়ে রাখাটাই শ্রেয়।

–> শিশুকে হালকা সুতির ঢিলেঢালা আরামদায়ক পোশাক পরাবেন। পোশাকের ক্ষেত্রে রঙ ও একটি বড় ব্যাপার। কালো বা গাঢ় রঙের কাপড় তাপ শুষে নেয়, তাই এ সময় হালকা রঙকেই প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

–> গরমে তেল, লোশন একেবারেই ব্যবহার করবেন না। তবে ঘামাচি পাউডার দিতে পারেন।

–> ০-৬ মাসের বাচ্চাকে একটু পরপর বুকের দুধ খাওয়ান যাতে বাচ্চা পানিশূন্যতায় না ভোগে। এছাড়া ডাবের পানি, লাচ্ছি, শরবত, ফলের রস দিন আপনার ছোট সোনামনিকে যাদের বয়স ৬ মাসের বেশি।

–> স্কুলের ড্রেস প্রতিদিন পরতে হয়, ঘামের গন্ধ এড়াতে এক দিন পরপরই ধুয়ে দেবেন। তাহলে ময়লা বা ঘাম সহজে জমতে পারবে না।

–> রাতের বেলায় শিশুর ঘুমাবার স্থানটিতে পর্যাপ্ত বাতাসের ব্যবস্থা রাখুন। তবে খেয়াল করবেন, ফ্যান বা এসির বাতাস যেন শিশুর শরীরে সরাসরি না লাগে, এতে শিশুর ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে, যেন পর্যাপ্ত বাতাস শিশুর শরীরে লাগে।

লালচে দানার মতো দেখতে সব ফুসকুড়ি বা র্যাশই কিন্তু ঘামাচি নয়। তাই এ ধরনের র্যাশের সঙ্গে জ্বর, সর্দি-কাশি বা অন্য জটিলতা থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

গরমে শিশুর যত্ন নেবেন কীভাবে ?

তবে অন্যান্য সময়ের তুলনায় গরম কাল শিশুদের জন্য বেশি কষ্টকর হয়ে ওঠে। এ সময়ে শিশুদের নানা অসুখ-বিসুখ হতে পারে।

এই গরমে বাচ্চার যত্ন নেবেন কীভাবে, আসুন জেনে নিই :

জলবসন্ত বা চিকেন পক্স

এ সময়টায় শিশুদের জলবসন্ত হয়ে থাকে। এটা সাধারণত ১-৫ বছরের শিশুদের বেশি হয়। তবে চিকেন পক্সের টিকা নেয়া থাকলে রোগটি হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। এ অসুখের সময় শিশুর বিশেষ যত্ন নিতে হবে। তাকে নরম হালকা সুতি কাপড় পরাতে হবে। তরল বা নরম জাতীয় খাবার খাওয়াতে হবে। দরকার বেশি করে পানি পান। এর সঙ্গে অবশ্যই মায়ের দুধ খাওয়াতে হবে।

 

চামড়ার র‌্যাশ বা ফুসকুড়ি

শিশুদের গরমকালে এ সমস্যাটা বেশি দেখা যায়। সাধারণত ঘামাচি বা চামড়ার ওপরে লাল দানার মতো ফুসকুড়ি হয়ে থাকে। শিশুকে অবশ্যই পরিষ্কার রাখতে হবে। নিয়মিত গোসল ও পরিষ্কার জামা পরাতে হবে। ফুসকুড়ির জায়গাগুলোয় বেবি পাউডার লাগাতে পারেন। এতে চুলকানি কিছুটা কমে যাবে।

 

প্রতিবার কাপড় বদলানোর সময় শিশুকে নরম ভেজা কাপড় দিয়ে মুছে পাউডার লাগিয়ে দিতে হবে। অনেক সময় ডায়াপায়ের কারণেও হতে পারে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, ভেজা ডায়াপার যেন শিশুর গায়ে বেশিক্ষণ না থাকে। ডায়াপার নষ্ট হয়ে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তা খুলে নতুন ডায়াপার পরিয়ে দিন। তবে গরমের সময় বেশিক্ষণ ডায়াপার না পরিয়ে রাখাই ভালো। অনেক সময় র‌্যাশ বেশি হয়ে গেলে ঘা হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

 

পেট খারাপ

গরমের সময় সাধারণত বেশি হয়ে থাকে পেট খারাপ। শিশুর পেট খারাপ হলে তাকে ঘন ঘন স্যালাইন খাওয়াতে হবে। সে সঙ্গে পানি অথবা ডাবের পানি খাওয়াতে হবে। একইসঙ্গে তাকে তরল খাবারও দিতে হবে। যতক্ষণ পর্যন্ত শিশুর পায়খানা স্বাভাবিক না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত এ নিয়ম মেনে চলতে হবে।

 

লক্ষ্য রাখতে হবে যেন শিশুর পানিশূন্যতা না হয় এবং তার প্রস্রাবের পরিমাণ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়া শিশুর পায়খানার সঙ্গে যদি রক্ত যায় তবে অবহেলা না করে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে। ছয় মাস বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ সময় কোনো অবস্থায়ই মায়ের দুধ বন্ধ করা যাবে না। সে সঙ্গে পানি ও অন্যান্য খাবারও দিতে হবে।

 

ঠান্ডার সমস্যা

গরমে শিশুদের ক্ষেত্রে ঠাণ্ডার সমস্যাটাও বেশি হতে দেখা যায়। গরমে অতিরিক্ত ঘামের ফলে ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে। তাই শিশু ঘেমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে তার শরীর মুছে দিয়ে কাপড় বদলে দিতে হবে। গরমে শিশুকে নিয়মিত গোসল করাতে হবে। পরিষ্কার রাখতে হবে শরীর ও পরিবেশ। এ সময় ঠাণ্ডা লেগে  শিশুর মামস হতে পারে। মামস অনেক সময় অল্পদিনে সেরে যায়। কিন্তু বেশিদিন গড়ালে শিশুকে এমএমআর ইঞ্জাকশন দেয়া হয়। এছাড়া বিশেষজ্ঞের পরমার্শমতো ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

এছাড়া এ গরমে আদরের ছোট্টমণির চুলের দিকেও নজর দিতে হবে। গরমে চুলের ঘোড়া ঘেমে যায়, সঙ্গে ধুলাবালির আক্রমণ তো রয়েছেই। তাই রোগপ্রতিরোধে প্রথমেই শিশুদের চুলের প্রতি বিশেষ যত্ন নিন। অনেক সময় অতিরিক্ত গরমে চুলের ত্বকে খুশকি বা ঘামাচি বের হয়। তাই গরমের শুরুতেই শিশুর চুল ছেঁটে ছোট করে দিতে হবে। এতে চুলের গোড়া ঘেমে গেলেও তাড়াতাড়ি শুকিয়ে যায়।

 

এক বছর বা তার কম বয়সে শিশুদের গরমের সময় মাথা অবশ্যই ন্যাড়া করে দিতে হবে। আর চুল একান্তই লম্বা রাখতে চাইলে তার প্রতি আরো একটু যত্নশীল হোন। গোসল করার পর চুল ভালোভাবে মুছে দিন। বড় ফাঁকওয়ালা চিরুনি দিয়ে চুলটা ঠিকভাবে আঁচড়ে দিন। এরপর চুল শুকিয়ে গেলে তা ভালোভাবে বেঁধে দিন। শিশুর চুলে তাদের উপযোগী ও ভালোমানের শ্যাম্পু ব্যবহার করতে হবে। তাদের জন্য আলাদা চিরুনি ব্যবহার করা উচিত। সপ্তায় দু-দিন শিশুর চুলে শ্যাম্পু করা ভালো।

 

  • তথ্য ও সূত্র : ইন্টারনেট
[sharethis-inline-buttons]