মাদারীপুরে পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে হত্যা,স্বামী আটক

নাজমুল হক নাজমুল হক

ব্যাবস্থাপনা সম্পাদক

প্রকাশিত: ৬:১৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৯ | আপডেট: ৬:৪০:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৮, ২০১৯

নাজমুল হক, মাদারীপুর
01772327799

মাদারীপুরে পরকীয়ায় বাঁধা দেয়ায় সেলিনা আক্তার (৫০) নামে এক গৃহবধূকে স্বামী নৌ-বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হারুন-অর-রশীদ শ্বাসরোধে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে সদর উপজেলার পৌর শহরের দক্ষিণ থানতলী এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে স্বামীকে আটক করেছে সদর থানা পুলিশ।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীরা জানান, প্রায় ৩০ বছর পূর্বে জেলার শিবচর উপজেলার কাদিরপুর ইউনিয়নের মানিক মাস্টারকান্দি গ্রামের জমির আলী উকিলের মেয়ে সেলিনা আক্তারের বিয়ে হয় সদর উপজেলার দুধখালি ইউনিয়নের বড়কান্দি গ্রামের আবু বকর মুন্সীর ছেলে হারুন-অর-রশীদের সাথে। বিয়ের পর থেকে সেলিনাকে অকারনেই মারধর করতো স্বামী হারুন। তাদের সংসারে এক ছেলে ও মেয়ে রয়েছে। দুই বছর ধরে অপর একটি মেয়ের সাথে হারুণ পরকিয়ায় জড়িয়ে পরে। এতে বাঁধা দিলে সেলিনার উপর নির্যাতন আরো বেড়ে যেতো। বৃহস্পতিবার ভোরে এরই ধারাবাহিকতায় সেলিনাকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পাশের আম গাছের ডালের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরে নিহতের মরদেহ সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায় স্বামী হারুন-অর-রশীদ। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মাদারীপুর মর্গে প্রেরণ করেন।
নিহত সেলিনার ছোট ভাই মাজারুল ইসলাম জানান, ‘আমার বোনের সাথে তার স্বামীর প্রায়ই ঝড়গা-বিবাদ হতো। তার স্বামী পরকীয়ার সাথে জড়িত ছিল। আমরা কয়েকবার পারিবারিকভাবে বসেও বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু তার স্বামীর কোন পরিবর্তন হয়নি। এই কারণে আমার বোন তাকে বাঁধা দেয়ায় হত্যা করে, একটি আমগাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। পরে সে নিজেই মাদারীপুর সদর হাসপাতালে মৃতদেহ রেখে পালিয়ে যায়। আমার বোনের মাথা, কপাল ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এটা হত্যা নয়, পুরোপুরি পরিকল্পিত হত্যা। আমরা এই নরপশুর বিচার চাই।’
মাদারীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শশাঙ্ক চন্দ্র ঘোষ বলেন, ‘সকালে হাসপাতালের জরুরী বিভাগে একজন মহিলাকে আনা হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে চেক আপ করে দেখে তিনি মৃত। পরবর্তীতে আমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবহিত করি এবং পুলিশ এসে লাশের ময়না তদন্তের জন্য বললে আমরা ময়না তদন্ত করি। ময়না তদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছুই বলতে পারছিনা।’

অভিযোগের বিষয়ে মুটফোনে গৃহবধূর স্বামী হারুন-আর-রশিদ গ্রেফতারের আগে বলেন, ‘এলাকার মানুষের সাথে আমাদের বিরোধ ছিল। ভোরে আমি নামাজ পড়তে গেলে এলাকার মানুষ আমার স্ত্রীকে মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে।’

এব্যাপারে মাদারীপুর সদর থানার উপ-পরিদর্শক মজিবর রহমান জানান, ‘মৃতদেহটি সদর হাতপাতালে ছিল। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দিলে মৃতদেহটি আমরা ময়নাতদন্তের জন্যে মর্গে পাঠাই। প্রাথমিক সুরতহাল দেখে এটাকে স্বাভাবিক আত্মহত্যা মনে হয়নি। পরে নিহতের স্বজনদের অভিযোগের ভিত্তিতে হারুন অর রশীদকে আটক করা হয়েছে।’
মাদারীপুর সদর থানার ওসি কামরুল হাসান বলেন, ‘হারুনের বসতঘরের পিছনে ছোট একটি আমগাছের ডালের সাথে একটি রশি ঝুলন্ত অবস্থায় পাই। পরে রশিটি পুলিশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এই ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’