রাজাপুরে ৭০ ফুট প্রশস্ত খালে ১৭ ফুট প্রশস্ত কালভার্ট

প্রকাশিত: ১০:২০ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ | আপডেট: ১০:২৭:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ১৬, ২০১৯

বরিশাল-খুলনা আঞ্চলিক মহাসড়কের ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের নৈকাঠি বাজার সংলগ্ন খালটি সরকারী রেকর্ডে ৭০ ফুট প্রশস্ত। নৈকাঠি, কাঠিপাড়া, শুক্তাগড়, সাতুরিয়া, লেবুবুনিয়া, তারাবুনিয়াসহ পার্শবর্তি এলাকার পানির চাহিদা পূরণের একমাত্র মাধ্যম এ খালটির বর্তমানে নাব্যতা রয়েছে ৩০ফুটেরও বেশি। এ খালের উপরের স্টিল ব্রিজটি ঝুকিপুর্ণ হওয়ায় বক্স কালভার্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু পানি সররাহের কোন ব্যবস্থা না করেই প্রবাহমান ৩০ ফুট প্রশস্ত খালে বাধ দিয়ে ১৭ ফুট প্রশস্ত ব্রিজ নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। এতে ক্ষিপ্ত স্থানীয় কৃষক ও সচেতন জনসাধারণ। এলাকাবাসী এ ব্যাপারে প্রতিবাদ কর্মসূচী গ্রহণ করে। প্রতিবাদ কর্মসূচীতে সাতুরিয়া ইউপি চেয়ারম্যান একাত্বতা ঘোষণা করেন। গত বৃহস্পতিবারে এ উপলক্ষ্যে নৈকাঠি বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়। ঘন্টাব্যাপি এ মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান, মনিরউজ্জামান টিপু, তাপস দেউরি, মানিক জমাদ্দার, আনোয়ার হোসেন মিলন, ওবায়দুল রহমান প্রমুখ। বক্তারা বলেন, নৈকাঠি বাজার ভারানি খালটি ৭০ ফুট চওড়া কিন্তু সড়ক ও জনপদ বিভাগ অপরিকল্পিতভাবে মাত্র ১৭ ফুট চওড়া একটি কালভার্ট নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এতে খালটি সংকুচিত হয়ে ওই এলাকার প্রায় ১০ হাজার একর ফসলি জমিতে ফসল উৎপাদনে পানি সংকট দেখা দিবে।
রাজাপুরের নৈকাঠিতে খাল সংকুচিত করে ব্রিজ নির্মাণ করায় সর্বস্তরের জনমনে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। রাজাপুরের সচেতন মহলের কয়েকজনে এ সমস্যার সমাধানে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। যা সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এটি ভাইরাল হয়ে যায়। তাতে খালকে সংকুচিত করায় নিন্দা জ্ঞাপন ও নতুনভাবে নকশা করে পুনরায় কাজ শুরু করার দাবিতে ঝড় তুলেছেন।
আনোয়ার হোসেন মিলন (অহড়ধিৎ ঐড়ংংধরহ গরষড়হ) কমেন্ট করেছেন, বিষয়টি অতি জরুরী ভাবে উর্ধ্বতন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নজরে নিয়ে আশু হস্তক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত, নতুবা ঐ সমস্ত এলাকার মানুষ চরম বিপর্যয়ের মুখে পতিত হবে। এ ব্যাপারে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও উদগ্রীব, তবে তাহারা বলেন আমাদের কিছু করার নাই হয়তবা কোন ইঞ্জিনিয়ার খালের ডিজাইন পরিবর্তন করলে আমরা পরিবর্তিত ডিজাইনেই কাজ করতে পারবো।
গোলাম মেসবাহ উদ্দিন (এড়ষধস গবংনধয টফফরহ)কমেন্ট করেছেন, সংশ্লিষ্ট স্টিল ব্রীজের পরিবর্তে ওখানে ছোট কালভার্ট না করে পাড়গোপালপুর বিশ্বাস বাড়ি সংলগ্ন ব্রীজ এর মতো আরো বড় এবং ব্রীজটি প্রশস্ত করা সময়ের দাবী। বিশ্বাস বাড়ীর ব্রীজ ঠিক আছে কিন্তু নৈকাঠী ব্রিজ টি ছোট একটি কালভার্ড করতেছে, অথচ বিশ্বাস বাড়ীর খালের চেয়ে নৈকাঠী খাল অনেক বড় এবং গুরুত্বপূর্ণ।
উদয়ন মিস্ত্রি (টফধুধহ গরংঃৎু) কমেন্ট করেছেন, নৈকাঠি বাজার সংলগ্ন খালের উপর যে কালভার্টটি বর্তমানে নির্মাণ কাজ চলছে তা গ্রাম্য ভাষায় ব্যার বা নৌকা রাখার জোরের উপর নির্মাণ করা হতো। যা মোটোও গ্রহণযোগ্য নয় এই খালটি সন্ধ্যা নদীর শাখা খাল।এটি এই এলাকার তথা অত্র এলাকার কৃষকের প্রাণ।
মো. আবুল বাশার (গউ অনঁষ ইধংযধৎ) কমেন্ট করেন, আশা করি জেলা প্রশাসক মহোদয় বিষয়টি বিবেচনা করবেন এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগ দিবেন।