মাদারীপুরে ধর্ষণের আলামত নষ্টের অভিযোগ, আ’লীগ নেতার বিরুদ্ধে

নাজমুল হক নাজমুল হক

স্টাফ রিপোর্টার

প্রকাশিত: ৩:৩৮ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ৩:৩৮:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০১৯

নাজমুল হক, মাদারীপুর
01772327799

ধর্ষণ যেন পান্তাভাতে পরিনত হয়েছে। যুবতী থেকে কিশোরী এবং রেহাই পাচ্ছেনা অবুঝ শিশুও। কারন বিত্তশালীরা টাকার বিনিময়ে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিনিয়ত বাড়ছে ধর্ষণ। আর অসহায় গরীব মানুষ হচ্ছে এর বলি। এমনি একটি ঘটনা ঘটছে, মাদারীপুর জেলার ডাসারের বালিগ্রাম ইউনিয়নে। পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া দুই কিশোরীকে দুই দিন আটকে রেখে ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হলেও ধর্ষণের আলামত নষ্টের অভিযোগ উঠেছে ডাসার থানার দুই এসআই এবং স্থানীয় এক আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ জানা গেছে, মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার ডাসার থানার বালিগ্রাম ইউনিয়নের দুই কিশোরীকে আটিপাড়া এলাকার মজিবুর হাওলাদারের ছেলে শাকিব হাওলাদার, জাকির মোল্লার ছেলে নয়ন মোল্লা, মন্নান খানের ছেলে আল-আমিন, হুমায়ুন হাওলাদারের ছেলে হৃদয় হাওলাদার ও তার বন্ধুরা নয়নের চাচা মাহবুব সরদারের নির্জন ফ্ল্যাটে নিয়ে দুইদিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। গত ৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে কিশোরীদের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করে। পরে পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেলেও মামলা না নিয়ে বিষয়টি সালিস মীমাংশার চেষ্টা করে।

ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনা মীমাংসা করার কথা বলে ডাসার থানার এসআই দেলায়ার ও এসআই মান্নান এবং বালিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ নেতা মতিন মোল্লা অভিযুক্তদের পরিবারের কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ আদায় করে। এছাড়া দুই কিশোরীর পরিবারকে মামলা না করা ও এ বিষয়টি কাউকে না জানাতে হুমকি দেয়। এই দীর্ঘ সময় ধর্ষিতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করায় ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা ধর্ষিতার পরিবারের। এছাড়াও মামলা তুলে নিতেও হুমকি দিচ্ছে প্রভাবশালীরা। এদিকে ঘটনার এক সপ্তাহের বেশি পেড়িয়ে গেলেও রহস্যজনক কারনে আসামীরা গ্রেপ্তার হয়নি।

ধর্ষণের শিকার এক কিশোরীর বাবা বলেন, ‘আসামীরা গ্রেফতার হয়নি উল্টে মামলা তুলে নিতে বিভিন্ন হুমকি দিচ্ছে। ঘটনার পরে তৎক্ষনাত মামলা করতে দেয়নি এলাকার প্রভাবশালি মাদবররা। এছাড়াও ধর্ষিতাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষাও করা হয়েছে ঘটনার ৪দিন পরে। এতে করে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হওয়া আশঙ্কার রয়েছে। আমরা গরীব মানুষ, তাই আমাদের পক্ষে কেউ নেই।’

এদিকে সালিস মীমাংসা করে দেয়ার কথা অস্বীকার করেছেন সাবেক চেয়ারম্যান মতিন মোল্লা। টাকা নিয়ে আলামত নষ্টের ব্যাপারে ডাসার থানার এসআই দেলোয়ার বলেন, ‘ধর্ষণের কোন ঘটনাই ঘটেনি। স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো লাগবে কেন?’

অন্যদিকে এ ঘটনায় পুলিশ সুপারের হস্তক্ষেপে ৫ এপ্রিল শুক্রবার গভীর রাতে ৪ জনকে আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা হয় এবং ধর্ষিতারে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হয়।

মানবাধিকার কর্মী ও আইনজীবি আবুল হাসান সোহেল বলেন, ‘ধর্ষণের ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার মধ্যেই ধর্ষিতার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। তা না হলে ধর্ষণের আলামত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।’

এব্যাপারে ডাসার থানার ওসি নাসির উদ্দিন বলেন, ‘মামলা দেরিতে হওয়ায় আসামীরা পালিয়ে গেছে। এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতেও দেরি হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। পুলিশের বিরুদ্ধে আলাতম নষ্টের অভিযোগ সত্য নয়। আলামত নষ্ট হওয়ার সুযোগ নেই।’