কে এই মাওলানা সিরাজউদ্দৌলা? সাময়িক বরখাস্ত !

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:২৩ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৯ | আপডেট: ৯:২৩:অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০১৯

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার এক ছাত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় মাদ্রাসাটির অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজউদ্দৌলাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

রবিবার (৭ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) পিকেএম এনামুল করিমের নেতৃত্বে তার কার্যালয়ে মাদ্রাসার গভর্নিং বডির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

অধ্যক্ষকে সাময়িক বরখাস্ত করা ছাড়াও সভায় আরও ছয়টি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সিদ্ধান্তগুলো হলো- ওই ছাত্রীর চিকিৎসা সহযোগিতার জন্য মাদ্রাসা তহবিল এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা অনুদান দেওয়া; অগ্নিসংযোগকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার এবং আদালতে সোপর্দ করার জন্য মাদ্রাসার পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা; মাদ্রাসার নিরাপত্তার জন্য দ্রুত সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা; মাদ্রাসার জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব দেওয়া; আলিম পরীক্ষা চলার সময় শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের নিরাপত্তা জোরদার করার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করা হবে।

এর আগে শনিবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওই মাদ্রাসার কেন্দ্রে আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে সেই ছাত্রীর গায়ে আগুন ধরিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। তাৎক্ষণিক তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর জেলা সদর হাসপাতাল, সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই ছাত্রী এখন ঢামেকের বার্ন ইউনিটের আইসিউতে চিকিৎসাধীন। তার চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

জানা গেছে, অভিযুক্ত অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলা জামায়াতের একজন রুকন ছিলেন। ফেনী জেলা জামায়াতের আমীর মো. সামছুদ্দিন বিষয়টির সত্যতা স্বীকার করে গণমাধ্যমকে বলেন, অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদ দৌলাকে বিভিন্ন অপকর্মের জন্য ২০১৬ সালে জামায়াত থেকে বহিস্কার করা হয়েছে, তিনি বর্তমানে আমাদের কোনো সদস্য নন।

প্রসঙ্গত, গতকাল শনিবার (৬ এপ্রিল ২০১৯) ৯টার দিকে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষা দিতে মাদ্রাসা কেন্দ্রে যায় নুসরাত। পরীক্ষার হলে প্রবেশের কিছুক্ষণ পর তার চার জন সহপাঠী তাকে ডেকে তিনতলা মাদ্রাসার ছাদে নিয়ে যায়। ওই চার জন সহপাঠী বোরকা ছাড়াও হাত মোজা পরিহিত ছিল। এছাড়া তাদের মুখমন্ডল ঢাকা ছিল। শুধু দুই চোখ অনাবৃত ছিল। তারা দাহ্য পদার্থ ছুড়ে নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। নুসরাত বাঁচার জন্য চিত্কার করলে শিক্ষক ও পরীক্ষার্থী এবং স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করে শরীরের আগুন নেভাতে সক্ষম হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, পরে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করলে উন্নত চিকিত্সার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে দগ্ধ নুসরাতকে ভর্তি করার পর ওই ছাত্রীর একটি অডিও রেকর্ড সাংবাদিকদের হাতে এসেছে। রেকর্ডে ওই ছাত্রী বলেন, ‘সকালে আরবি প্রথমপত্র পরীক্ষায় অংশ নিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান তিনি। মাদ্রাসায় পৌঁছলে এক ছাত্রী তার বান্ধবী নিশাতকে ছাদের উপর কেউ মারছে বলে ডেকে নেয়। সেখানে আরও চার-পাঁচজন মুখোশধারী ছাত্রী ছিলেন। তারা বলেন, প্রিন্সিপালের উপর যে অভিযোগ করেছিস তা মিথ্যা, বল। আমি বলি না, আমি যা বলেছি সব সত্যি। তারা বলে, তোকে এখনই মেরে ফেলবো। আমরা তোর সব খবর নিছি। তোর প্রেম সম্পর্কিত সব তথ্য আমাদের কাছে আছে। আমি বলি, আমি সব সত্য বলেছি। আমি শিক্ষকদের সম্মান করি, কিন্তু যে শিক্ষক আমার গায়ে হাত দিছে আমি তার প্রতিবাদ করেছি। সঙ্গে সঙ্গে তারা আমার হাত-পা চেপে ধরে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেয়।’

এর আগে গত ২৭ মার্চ ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ দৌলা নুসরাতকে তার কক্ষে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার বাদী হয়ে অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন। এই মামলায় পুলিশ সিরাজ উদ দৌলাকে গ্রেপ্তার করে। অধ্যক্ষ এখন কারাগারে আছেন। ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীদের একটি অংশ অধ্যক্ষের মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করছেন। আরেকটি অংশ অধ্যক্ষের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করছেন। ধারণা করা হচ্ছে, অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করায় তার অনুগত কিছু ছাত্রী নুসরাতকে মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে শরীরে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে।