স্বামীর কথায় ‘নাচতে অস্বীকার করায়’ নারীর মাথা ন্যাড়া

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৯ | আপডেট: ১০:৪১:পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ৬, ২০১৯
?????????? ??????? ???? ‘????? ???????? ????’ ????? ???? ??????

স্বামী এবং তার বন্ধুদের সামনে নাচতে অস্বীকৃতি জানানোয় পাকিস্তানের এক নারীকে শারীরিক নির্যাতন এবং মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগ উঠেছে। ওই নারী তার স্বামীর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন।

এ ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর পাকিস্তানে নারীদের নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। লাহোরের আসমা আজিজ সামাজিক মাধ্যমে একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন, যেখানে তার ন্যাড়া মাথা এবং চোট পাওয়া মুখমণ্ডলের চিত্র উঠে এসেছে।

আসমা আজিজের স্বামী মিয়া ফয়সাল এবং তার একজন ভৃত্যকে পুলিশের জিম্মায় নেয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ফয়সাল স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে এ ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর পারিবারিক সহিংসতা থেকে নারীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক টুইট বার্তায় লিখেছে, এই ধরনের ঘটনা রোধে ‘কাঠামোগত পরিবর্তন’ জরুরি।

২৬ মার্চ পোস্ট করা ভিডিওতে আসমা অভিযোগ করেন যে, দুইদিন আগে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। স্বামীর আদেশ অনুযায়ী, স্বামীর বন্ধুদের সামনে নাচতে অস্বীকৃতি জানালে ওই বন্ধুদের সামনেই তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।

লাহোরের অভিজাত ডিফেন্স হাউজিং অথরিটি অঞ্চলের একটি বাসায় এ ঘটনা ঘটে। আসমা বলেন, সে (স্বামী) তার কাজের লোকদের সামনেই আমার কাপড় খুলে নেয়। আমার মাথা ন্যাড়া করার সময় কাজের লোকরা আমাকে ধরে রেখেছিল। চুল কাটার পর সেগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, আমার কাপড় রক্তাক্ত হয়ে ছিল। আমাকে একটি পাইপের সাথে বেঁধে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়। সে আমাকে নগ্ন করে ঝুলিয়ে রাখার হুমকি দিয়েছিল।
আসমা জানান, তিনি পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিল করতে গেলে তারা অভিযোগ নিতে গড়িমসি করে।

তবে পুলিশ এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, আসমা থানায় অভিযোগ জানানোর পরপরই তার বাসার দিকে পুলিশের একটি দল পাঠানো হয়, কিন্তু তার বাসা তালাবদ্ধ ছিল এবং ডিফেন্স হাউজিং অথরিটির কর্তৃপক্ষ তাদের ঢুকতে বাধা দেয়।

এদিকে আসমার পোস্ট করা ওই ভিডিওটি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শেহরেয়ার আফ্রিদির চোখে পড়ার পর তিনি পুলিশকে অভিযোগ দাখিল করার নির্দেশ দেন এবং তারপর পুলিশ এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়।

পরদিন অভিযুক্ত ফয়সাল এবং তার এক ভৃত্য রাশিদ আলিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিকভাবে করা একটি মেডিকেল রিপোর্টে আসমার হাত, গাল এবং বাম চোখের কাছে একাধিক আঘাতের চিহ্ন এবং ফোলা ভাব পাওয়ার উল্লেখ ছিল।