ঝালকাঠি সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকার পথের কাটা দুই বিদ্রোহী

প্রকাশিত: ২:৪২ অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৯ | আপডেট: ২:৪২:অপরাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৯

আগামী ২৪মার্চ তৃতীয় ধাপে অনুষ্ঠিতব্য ৫ম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ঝালকাঠি সদর উপজেলায় প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন আওয়ামীলীগের ৩ নেতা। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি খান আরিফুর রহমান। অন্যদিকে (আ’লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান সৈয়দ রাজ্জাক আলী সেলিম এবং সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা ভাইসচেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমান। ঝালকাঠি আওয়ামীলীগের রাজনীতিতে তিনজনই এ আসনের আওয়ামীলীগের এমপি আমির হোসেন আমুর ¯েœহভাজন হিসেবে পরিচিত।
২৮ ফেব্র“য়ারী মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের দিনে তিনজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষনা করে নির্বাচন কমিশন। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে প্রতিক বরাদ্ধের পর থেকেই প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগে নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন ৩ জনেই। নৌকা প্রতিকের প্রার্থী খান আরিফুর রহমানের পাশাপাশি (আ’লীগের বিদ্রোহী) স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ রাজ্জাক সেলিমও সমান তালে নির্বাচনী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছেন। তিনি প্রতিনিয়ত নেতাকর্মীদের নিয়ে শহরের ফাতেমা কমিউনিটি সেন্টারে মতবিনিময় করেছেন ও নির্বাচন পরিচালনার প্রস্তুতিমূলক বৈঠক করে যাচ্ছেন। অপর বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিানিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানও নিজ আঙ্গিকে প্রচার-প্রচারণা ও জনসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে সদর উপজেলার ভোটের মেরুকরনে দেখা যায়, নৌকা প্রতিকের খান আরিফুর ও বিদ্রোহী প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়ী একই এলাকায় বিনয়কাঠি ইউনিয়নে হওয়ায় বিনয়কাঠি ইউনিয়ন সহ পার্শ্ববর্তী নবগ্রাম, গাভারামচন্দ্রপুর ও বাসন্ডা ইউনিয়নের নৌকার ভোট ভাগ হয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। এই কটি ইউনিয়নের আ’লীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার মোস্তাফিজুর রহমানের বেশ সমর্থন রয়েছে বলে জানা গেছে। এই দুইজন প্রার্থী একই এলাকার হওয়ায় সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন সৈয়দ রাজ্জাক সেলিম। রাজ্জাক সেলিমের বাড়ী সদরের কির্ত্তীপাশা ইউনিয়নে। এ ইউনিয়নসহ পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নগুলোতে আর কোন প্রার্থী না থাকায় এসব ইউনিয়নে রাজ্জাক সেলিম এগিয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ভোটের হিসেব যাই থাকুক না কেন বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে দলীয় শীর্ষ নেতা না থাকলেও তৃণমূলের কিছু নেতাকর্মী এবং আওয়ামী বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সমর্থকরা বিদ্রোহীদের সাথে প্রচারণায় অংশ নেন। দলের প্রথম সারির অধিকাংশ নেতাই দলীয় মনোনয়ন পাওয়া খান আরিফুর রহমানের পক্ষে মাঠে রয়েছেন। সবকিছু মিলিয়ে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ঝালকাঠি আ’লীগ বর্তমানে ত্রি ধারায় বিভক্ত হয়ে পড়েছে। কেন্দ্র থেকে ‘বিদ্রোহীদের নির্বাচনে অংশগ্রহনে বাধা নেই’ ঘোষণার কারনেই মূলত বিদ্রোহীরাও আটঘাট বেঁেধ মাঠে রয়েছেন।