সড়ক নৈরাজ্য না থামলে বড় আন্দোলন

দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের অবরোধ-বিক্ষোভ, আশ্বাসে ২৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:২২ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৯ | আপডেট: ১০:২২:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ২১, ২০১৯

রাজধানীর প্রগতি সরণিতে বসুন্ধরা গেটের উল্টো দিকে বাসের চাপায় বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) ছাত্র আবরার আহমেদ চৌধুরী নিহত হওয়ার ঘটনার পর গতকাল দ্বিতীয় দিনে আরো বড় পরিসরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে ছাত্র-ছাত্রীরা। বিইউপির শিক্ষার্থীদের আহ্বানে প্রগতি সরণিসহ রাজধানীর ১৬টি স্থানে অন্তত ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা গতকাল বুধবার রাস্তায় নেমে আসে।

প্রগতি সরণি ছাড়াও উত্তরা, বনানী, রামপুরা, তেজগাঁও, ফার্মগেট, শেওড়াপাড়া, শাহবাগ, সোবহানবাগ, ধানমণ্ডি ২৭ নাম্বার, সায়েন্স ল্যাব এবং পুরান ঢাকার রায়সাহেব বাজারে শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। কয়েকটি স্থানে শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ সড়কের আন্দোলনের’ মতোই গাড়ি থামিয়ে চালকদের লাইসেন্স পরীক্ষা করেছে। তবে এদিনও আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহসহ দেশের আরো কয়েকটি স্থানে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা।

গতকাল সকাল থেকেই প্রগতি সরণিতে সড়ক অবরোধ করে দোষীদের বিচার এবং নিরাপদ সড়কের দাবিতে বিইউপির শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দেয় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি (এনএসইউ), ইনডিপেনডেন্ট

ইউনিভার্সিটি (আইইউ), আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ (এআইইউবি), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ), ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি, সিদ্ধেশ্বরী কলেজসহ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। তারা সড়কে নৈরাজ্য বন্ধের দাবির স্লোগানে প্রকম্পিত করে চারপাশ।

এদিকে নিহত আবরারের নামে গতকাল দুর্ঘটনাস্থলের কাছে ফুট ওভারব্রিজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম ও ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। তাঁরা শিক্ষার্থীদের দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। তবে সে আশ্বাস না মেনে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যায়। বিকেলে তাঁদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের ১০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক শেষে কর্মসূচি সাত দিনের জন্য স্থগিত ঘোষণা দিয়ে শিক্ষার্থীরা সড়ক ছেড়ে দেয়। এ সময় জানানো হয়, দাবি পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হলে ২৮ তারিখের পর ক্লাস বর্জনসহ লাগাতার আন্দোলনের ঘোষণা দেবে তারা।

তবে আন্দোলন স্থগিত রাখার ঘোষণা না মেনে চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছে। সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল ছাড়ার সময় নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা এ ঘোষণা দেয়। তারা বলে, দোষী চালকের শাস্তিসহ নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঘোষিত আট দফা দাবি আদায়ে আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও তাদের সড়ক অবরোধ অব্যাহত থাকবে। নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী কাওসার হাবিব বলেন, ‘আমাদের সব দাবি নিয়ে প্রতিনিধিদল কথা বলেনি। তারা আমাদের দাবি নিয়ে কথা বলতে পারেনি।’

মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে ওঠার জন্য বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে বের হয়ে জেব্রাক্রসিং দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন বিইউপির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের প্রথম বর্ষের ছাত্র আবরার। এ সময় সুপ্রভাত পরিবহনের একটি বেপরোয়া বাস তাঁকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় ফুঁসে ওঠে শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার দিনভর তারা প্রগতি সরণি অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল ৮টায় সেখানে জড়ো হয় বিইউপির শিক্ষার্থীরা। ‘জাস্টিস ফর আবরার’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না’, ‘আর কত রক্ত ঝরতে হবে রাস্তায়’—এ রকম নানা স্লোগানে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায় তারা। বেলা বাড়লে আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও সেখানে জড়ো হয়।

সকাল ১১টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছে ফুট ওভারব্রিজ উদ্বোধন করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু সেই বাসটি নয়, আপাতত সুপ্রভাতের কোনো বাস চলবে না। তাদের গাড়ির ফিটনেস দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এ ছাড়া নিরাপদ সড়কের জন্য ‘স্টুডেন্টস কাউন্সিল’ গঠন করা হবে।” তিনি আরো বলেন, এতে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র প্রতিনিধির পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠান থেকে একজন করে শিক্ষক রাখা হবে।

পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, ‘কোমলমতি শিক্ষার্থীদের এই দাবি যৌক্তিক। আমরা জান বাজি রেখে সড়কে শৃঙ্খলা আনতে প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। পাল্লা দিলে, একটা বাসের আগে আরেকটা বাস রেখে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে শক্ত ব্যবস্থা নিতে আমরা বদ্ধপরিকর।’

শিক্ষার্থীদের দাবি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে বলে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানান তাঁরা। তখন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া’, ‘ভুয়া’ বলে চিৎকার করছিল। শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে তাদের আট দফা দাবির গুরুত্বপূর্ণ তিনটি দাবি ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবায়নের সময়সীমা দেওয়া হয়। এই তিন দফা হলো ৩০২ ধারার অধীনে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চার্জশিট তৈরি করে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দোষীদের বিচার করতে হবে; সুপ্রভাত ও জাবালে নূরের সব বাসের রুট পারমিট বাতিল করতে হবে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে আন্ডারপাস, ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রাক্রসিং নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা এবং গেজেট আকারে তা প্রকাশ করতে হবে।

সকাল থেকেই সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের নামে আট দফা দাবির পক্ষে গণস্বাক্ষর সংগ্রহের কর্মসূচি পালন করে শিক্ষার্থীরা। আবরার যেখানে নিহত হন সেই স্থানটি ঘিরে রেখে দিনব্যাপী চলে স্লোগান আর বক্তৃতা। বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা পাশেই মিডিয়া সেল খুলে সেখান থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্য সরবরাহ করে।

বিকেলে বৈঠক শেষে প্রগতি সরণিতে ফিরে আলোচনা করে আন্দোলনকারীদের একটি দল। সেখানে প্রতিনিধি ফয়সাল এনায়েত কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে বলেন, দাবি বাস্তবায়ন না দেখলে ২৮ মার্চের পরে সারা দেশে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হবে। এ ঘোষণায় ভিন্নমত দেখিয়ে একদল শিক্ষার্থী রাস্তায় বসে থাকলেও সন্ধ্যা ৭টায় আলোচনা শেষে সবাই রাস্তা ছাড়ে।

রাজপথে শিক্ষার্থীরা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকাল ৯টার দিকে ফার্মগেটে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করে সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে তারা বাসের চালকদের লাইসেন্স যাচাই শুরু করে। কিছু সময় পরে পুলিশ তাদের প্রধান সড়ক থেকে সরিয়ে বিজ্ঞান কলেজের সামনে নিয়ে যায়। তেজগাঁও থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা প্রধান সড়ক ছেড়ে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করেছে।’

একই সময় উত্তরার হাউস বিল্ডিং এলাকাতে রাস্তা বন্ধ করে বিক্ষোভ করে উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) ও উত্তরা হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এতে ব্যস্ততম সড়কে বিকেল পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ থাকে।

সকাল সাড়ে ১১টার দিকে ধানমণ্ডির সোবহানবাগ, ২৭ নম্বরে মিরপুর-নিউ মার্কেট সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা। তারা বিকেল পর্যন্ত সড়কে অবস্থান নিয়ে থাকে। সকাল ৮টার দিকে রায়সাহেব বাজার মোড় বন্ধ করে বিক্ষোভ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের একটি অংশ। ১১টার দিকে কবি নজরুল সরকারি কলেজের কিছু শিক্ষার্থী তাঁতিবাজার মোড়ে অবরোধ করে।

১১টার দিকে নিউ এলিফ্যান্ট রোড, বাটা সিগন্যাল, সায়েন্স ল্যাব ও সিটি কলেজের সামনের রাস্তা, ধানমণ্ডির কয়েকটি সড়ক বন্ধ করে দেয় শিক্ষার্থীরা। সড়কে অবস্থান নেয় সিটি কলেজ, আইডিয়াল কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সি আব্দুর রউফ কলেজ, খিলগাঁও মডেল কলেজসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এ সময় তারা সব ধরনের গাড়ির ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ নথিপত্র যাচাই করে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিকেল ৩টার দিকে সায়েন্স ল্যাব মোড়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশের নেমপ্লেট লাগানো একটি মোটরসাইকেল (সাতক্ষীরা ল-১১-৩৬৭১) আটক করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা কাগজপত্র দেখতে চাইলে তাদের সঙ্গে বাগিবতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন চালক পুলিশের সদস্য। পরে দায়িত্বরত ট্রাফিক সার্জেন্ট মায়েন উদ্দিন এসে কাগজ দেখতে চাইলে চালক দেখাতে না পারায় মোটরসাইকেলটি নিউ মার্কেট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। মায়েন উদ্দিন কালের কণ্ঠকে বলেন, চালক পুলিশেরই সদস্য।

দুপুরে রামপুরা ব্রিজের কাছে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটি, মিরপুরের শেওড়াপাড়ায় গ্রিন ইউনিভার্সিটি, তেজগাঁওয়ে আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বনানীতে নর্দান ইউনিভার্সিটি ও প্রাইম এশিয়া ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। ১১টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তাদের বিক্ষোভের কারণে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সড়কটি বন্ধ ছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংহতি শাহবাগে

১১টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগে অবস্থান নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থী। তারা প্রায় পাঁচ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে নিরাপদ সড়কের দাবিতে স্লোগান দেয়। বিকেল ৪টার দিকে পরবর্তী আন্দোলন কর্মসূচি দেওয়া হবে জানিয়ে রাস্তা ছেড়ে যায়। শিক্ষার্থীদের পক্ষে দর্শন বিভাগের শাহরিয়ার হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা যে আট দফা দাবি দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন না হলে আমরা আবার সড়কে নামব। আমাদের দাবিগুলো মেনে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে লিখিতভাবে দিতে হবে। এর আগেও অনেক আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো কাজ হয়নি, সড়কে মানুষ মরছেই।’

শাহবাগে গিয়ে সংহতি জানান ডাকসুর নতুন ভিপি নূরুল হক নুর। তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষার্থীদের এই যৌক্তিক আন্দোলনের দাবিগুলো মেনে নিয়ে তা বাস্তবায়নে আপনার কার্যকর ভূমিকা চাই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি শিক্ষার্থী এই যৌক্তিক আন্দোলনের সঙ্গে রয়েছে। শিক্ষার্থীরা যে আট দফা দাবি দিয়েছে তার প্রত্যেকটি দফা মানতে হবে। গত নিরাপদ সড়ক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছিল তা আজকের মধ্যেই তুলে নিতে হবে।’

ডাকসুর নবনির্বাচিত এজিএস ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, ‘ছাত্রদের সব ধরনের যৌক্তিক আন্দোলনের পাশে থাকবে ডাকসু। যত দিন সড়কে মৃত্যুর মিছিল বন্ধ না হবে, তত দিন আমাদের এই আন্দোলন চলবে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আছি।’

দেশের অন্যত্র বিক্ষোভ-অবরোধ

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল সোয়া ৯টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করে।  ‘আজকে আবরার কালকে তুমি, নিরাপদ সড়ক চাই, কাল আপনার সুপ্রভাত না-ও হতে পারে’ লেখা প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মানববন্ধন করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসগুলোতেও নিরাপদ সড়কের পোস্টার লাগানো হয়। পাশাপাশি সড়কে তারা প্রতীকী লাল রং লাগায়। দুপুর দেড়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে সমাবেশে বলা হয়, ‘কেন্দ্রের আন্দোলনের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের সামনে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের পাশে মানববন্ধন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করে।

ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জয় বাংলা ভাস্কর্যের সামনে নতুন সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করে। পরে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেয়।

প্রসঙ্গত, সাড়ে সাত মাস আগে বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের বাসের চাপায় রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের দুই শিক্ষার্থী নিহতের পরে টানা আট দিন রাজপথে এভাবেই আন্দোলন করে শিক্ষার্থীরা। গতকালও একই দাবিতে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। এবার দাবি বাস্তবায়ন না হলে ক্লাসে না ফেরার প্রত্যয় ছিল সবার কণ্ঠে।

আজ বিইউপিতে শোকসভা

বিইউপির গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসে আবরারের স্মরণে এক শোকসভার আয়োজন করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। গতকাল বিকেলেও বসুন্ধরার ফটকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা আবরারের রুহের মাগফেরাত কামনায় এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছিল।

  • কালের কন্ঠ