শিশুদের পার্ক নাকি ‘শিশু তৈরির পার্ক’ : প্রশ্ন ডয়েচে ভেলের

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৯:৫৩ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯ | আপডেট: ৯:৫৩:অপরাহ্ণ, মার্চ ১৯, ২০১৯

শহুরে শিশুদের বিনোদেনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। কারণ গ্রামের ছেলেমেয়েরা খেলাধুলা-বিনোদনের জন্যে নদী, মাঠ-ঘাট ছাড়াও প্রচুর খোলামেলা জায়গা পায়। কিন্তু শহরে এরই ঠিক উল্টো চিত্র। কিন্তু সেই পরিবেশ যদি বড়দের মাধ্যমে নোংরা হয়ে যায়, তাহলে তো পরবর্তী প্রজন্মের জন্যে তা হুমকি স্বরূপ। তেমনই এক ঘটনার বর্ণনা পাওয়া গেলো ডয়েচে ভেলের প্রতিবেদক আরাফাতুল ইসলামের কাছ থেকে।

রাজধানী ঢাকায় শিশুদের নিয়ে ঘুরতে যাওয়ার নানা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রয়োজনের তুলনায় কম হলেও শিশুপার্কের পাশাপাশি বড় বড় শপিং মলগুলোতে রয়েছে শিশুদের জন্য আলাদা বিনোদন পার্ক। ঢাকার আশেপাশেও একাধিক এরকম পার্ক রয়েছে। কিন্তু রাজধানীর তুলনায় কম গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে শিশুদের জন্য ঘরের বাইরে চিত্তবিনোদনের ব্যবস্থা বলতে শুধু শিশু পার্ক।

খুলনার গিলাতলায় সেরকমই এক শিশুপার্কে যাওয়ার অভিজ্ঞতা হয়েছে এবার। বনবিলাস নামের পার্কটি বাইরে থেকে বেশ পরিচ্ছন্ন মনে হলো। ভেতরে শিশুদের নানারকম রাইডও আছে। কিন্তু সেগুলো ব্যবহার করতে গেলে দেখা যায় নানা বিড়ম্বনা। দাদাদাদির সঙ্গে ঘুরতে যাওয়া দুই শিশুকে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে বোঝা গেল রাইডগুলোর অবস্থা বেশ নাজুক। কোনোটাতে ব্যাটারি নেই, কোনোটা নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না বলে ময়লার আবরণে ঢাকা পড়ে গেছে।

সবচেয়ে বিপজ্জনক ঘটনা ঘটলো যখন শিশু দু’টিকে নিয়ে তাদের দাদাদাদি মেশিনচালিত নাগরদোলায় উঠতে গেলেন। সেটির চালক জানালেন বড়ছোট সবাই সেই নাগরদোলায় উঠতে পারবে। তাদের বারংবার আশ্বাসে সেই নাগরদোলায় উঠতে গিয়ে আহত হলেন দাদি।

নাগরদোলার একটি সিটের হাতলের কাছেই একটি লোহা ভেঙে সুচালো হয়ে ছিল। সেটির উপর হাত রাখতেই তালুর বেশ খানিকটা কেটে গেল তাঁর। ডায়াবেটিসের রোগীদের জন্য এ ধরনের আঘাত বিপজ্জনক।

কিন্তু পার্ক কর্তৃপক্ষকে জানানোর পর তাদের মধ্যে বিশেষ ভাবান্তর দেখা গেল না। তাদের নেই কোনো ‘ফার্স্ট এইডবক্স’ কিংবা প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়ার ব্যবস্থা। বরং পার্কের ম্যানেজারকে বিষয়টি জানানোর পর তিনি নিজের সাবেক সেনা পরিচয় দিয়ে একটি ভীতিকর পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করলেন।

শিশুপার্কটিতে শিশুদের নানা রাইড রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়লেও পার্কটিতে দর্শণার্থীর তেমন একটা অভাব চোখে পড়লো না। বরং তরুণ বয়সিদের আনাগোনা সেখানে বেশি। জোড়ায় জোড়ায় তরুণ-তরুণীদের পার্কের নানা কোনায় অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে সময় কাটাতে দেখা গেল। শিশু পার্কে শিশুদের সামনেই তাদের অতিঘনিষ্ঠ হওয়ার দৃশ্য দৃষ্টিকটু বটে!

বনবিলাস পার্কটি তাই নামে শিশু পার্ক হলেও সেটি যে আসলে একটি ‘ডেটিং স্পট’ তা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। আর তখন রাইডগুলোর দুরাবস্থার কারণ বোঝা গেল। মালিক কর্তৃপক্ষ সম্ভবত ‘শিশু পার্ক’ নামটি ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তরুণ-তরুণীদের প্রেমলীলার এক নিরাপদ আশ্রয় বানিয়েছেন পার্কটিকে। অথচ সেনানিবাসের খুব কাছে অবস্থিতি এই পার্কে শিশুদের জন্য আরো উন্নত পরিবেশ আশা করে সাধারণ মানুষ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেল, শিশু পার্কটিতে যে এরকম কর্মকাণ্ড ঘটছে, তা অতীতে বিচ্ছিন্নভাবে গণমাধ্যমে এসেছে। তবে তাতে পরিস্থিতি তেমন একটা বদলায়নি। বরং ফেসবুকে কেউ কেউ সেটির নাম দিয়েছে ‘শিশু তৈরির পার্ক’।

অবশ্য শুধু বনবিলাস নয়, এরকম অবস্থা কমবেশি আরো অনেক শিশুপার্কে দেখা যায়। বিশেষ করে জেলা শহরগুলোতে শিশুদের জন্য তৈরি পার্কে জোড়ায় জোড়ায় তরুণ-তরুণীদের দেখা মেলে বেশি। তাই, অভিভাবকরা সেসব পার্কে না যাওয়াকেই শ্রেয় মনে করেন। ফলে বঞ্চিত হয় শিশুরা।