সংরক্ষিত আসনের এমপি হলেন নলছিটির কৃতি কন্যা সুবর্ণা মুস্তাফা

প্রকাশিত: ১০:০৫ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯ | আপডেট: ১০:০৫:পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০১৯

সংরক্ষিত আসনে আওয়ামী লীগের এমপি হলেন কৃতি কন্যা সুবর্ণা মুস্তাফা। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার দপদিপয়ার কন্যা সুবর্ণা মুস্তাফা ঢাকা থেকে সংরক্ষিত আসনের এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। মঞ্চ, টেলিভিশন নাটক এবং ঢাকাই সিনেমার সফল অভিনেত্রী ও প্রযোজক সুবর্ণা মুস্তাফা অভিনয়ে বিশেষ অবদান রাখার জন্য গত ৬ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রের শীর্ষ মর্যাদা একুশে পদকে ভূষিত হয়েছেন। এর পরে একাদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলেন তিনি।

তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের আঙিনায় মুগ্ধতা ছড়িয়ে যাচ্ছেন নন্দিত অভিনেত্রী সুবর্ণা মুস্তাফা। বাংলাদেশের নাট্যজগতে বিশেষ মর্যাদার স্থান অধিকার করে আছেন তিনি। আশির দশকে ছিলেন দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিভি অভিনেত্রী। বিশেষ করে আফজাল হোসেন, হুমায়ুন ফরীদি ও আসাদুজ্জামান নূরের সাথে তার জুটি ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিলো আশি-নব্বই দশকে। সেইসাথে হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও চলচ্চিত্রে দারুণ সব চরিত্রে কাজ করে সুবর্ণা পৌঁছে গিয়েছেন সব শ্রেণির মানুষের কাছে।

সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৫৯ সালের ২রা ডিসেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার দপদপিয়া ইউনিয়নে। তার পিতা গোলাম মুস্তাফা ছিলেন একজন প্রখ্যাত অভিনেতা ও আবৃত্তিকার। তার মাতা পাকিস্তান রেডিওতে প্রযোজনার দায়িত্বে ছিলেন। মায়ের সহায়তায় মাত্র ৫/৬ বছর বয়সে বেতার নাটকে কাজ করেন। নবম শ্রেণিতে পড়াকালীন তিনি প্রথম টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত তিনি শিশুশিল্পী হিসেবে নিয়মিত টেলিভিশনে কাজ করেছেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে ডিগ্রি লাভ করেন।

আসাদুজ্জামান নূর অভিনীত কালজয়ী চরিত্র বাকের ভাইয়ের নায়িকা মুনা চরিত্রে দেখা যায় সুবর্ণাকে। তিনি বাজিমাত করে দিয়েছিলেন। তারপর নিয়মিতভাবেই তাকে হুমায়ূনের নাটকে কাজ করতে দেখা যায়। তারমধ্যে দারুণ জনপ্রিয়তা পায় ‘আজ রবিবার’ নাটকটি। ১৯৯২ সালে মুক্তি পাওয়া হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত মুস্তাফিজুর রহমানের ‘শঙ্খনীল কারাগার’ ছবি দিয়েও দর্শকদের মনে দোলা দিয়েছিলেন তিনি। সেখানে আসাদুজ্জামান নূর ও ডলি জহুরের ছোট বোনের চরিত্রে অভিনয় করেন সুবর্ণা। তবে চলচ্চিত্রে সুবর্ণার অভিষেক ঘটে ১৯৮০ সালে সৈয়দ সালাউদ্দিন জাকী পরিচালিত ‘ঘুড্ডি’র মাধ্যমে। নাটকের পাশাপাশি চলচ্চিত্রে সাফল্য পেলেও তিনি নিয়মিত গড়পড়তা চলচ্চিত্রে অভিনয় করেননি। কিছু জীবন ঘনিষ্ঠ চলচ্চিত্রে তার উপস্থিতি দেখা গেছে। তিনি অভিনয় করেছেন। তবে মূলধারার কিছু সিনেমাতেও তার উপস্থিতি লক্ষ্যণীয়। ‘নয়নের আলো’ সিনেমাতে তার অভিনয় সব শ্রেণির দর্শককে নাড়া দিয়েছিল। ১৯৮৩ সালে ‘নতুন বউ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ সহ-অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।