বরিশাল-২ আসনে বিএনপির কান্ডারী হতে চান কর্নেল (অব.) সৈয়দ আনোয়ার

জি এম নিউজ জি এম নিউজ

বাংলার প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ১০:০৫ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৭ | আপডেট: ১০:০৫:অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১, ২০১৭
বরিশাল-২ আসনে বিএনপির কান্ডারী হতে চান কর্নেল (অব.) সৈয়দ আনোয়ার

বানারীপাড়া উপজেলার উদয়কাঠি ইউনিয়নের লবনসাড়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম নেওয়া কর্নেল সৈয়দ আনোয়ার হোসেন স্বাধীনতার পূর্বে বরিশাল জিলা স্কুল ও সরকারী ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে স্কুল ও কলেজ জীবন শেষ করেন পরবর্তীতে বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভারসিটি(বুয়েট) থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ক্যানাডার রয়েল রোডস ইউনির্ভাসিটি থেকে ডিজিটাল টেকনোলজিকস ম্যানেজমেন্টে এম বি এ ডিগ্রী সম্পন্ন করেন । এছাড়াও তিনি ইটালী থেকে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়ন ও চিন থেকে কমব্যাট ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে উ”চ শিক্ষায় প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। ১৯৭৪ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে সেনা সদর সহ বিভিন্ন আর্মি ইউনিট ছাড়াও দেশ ও বিদেশে বিভিন্ন পদে গৌরবোজ্জ্বল দায়িত্ব পালণ শেষে ২০০৩ সালে কর্নেল হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। সেনাবাহিনীতে দায়িত্ব পালণকালীণ তিনি সেনা সদর সহ আর্মির বিভিন্ন ইউনিট ব্যতীত দেশ-বিদেশেও বিভিন্ন পদে গৌরবোজ্জ্বল দায়িত্ব পালণ করেন। একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তিনি জাতি সংঘ শান্তি মিশন মোজাম্বিকে এবং স্বা¯’্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রনালয় প্রধান প্রকৌশলী; এছাড়া প্রতিরক্ষা মন্ত্রনালয়ে প্রকৌশল উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালণ করেন । এছাড়া একজন দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার তিনি বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ণমূলক কর্মকান্ডে বিশেষ ভূমিকা পালণ করেন।

ছাত্র জীবনে রাজনীতিতে হাতে খঁড়ি নেওয়া সৈয়দ আনোয়ার হোসেন ১৯৬৮-৬৯ ও ১৯৭১-৭২ সালে বরিশাল বিএম কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের অকুণ্ঠ ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে শক্তিশালী অন্য সকল সংগঠনের প্রার্থীদের হারিয়ে দু’দফা ক্রীড়া সম্পাদক পদে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন ।

ওয়ান ইলেভেনের পর থেকে অদ্যবদি তিনি বিএনপির দুঃসময়ের কান্ডারীর ভূমিকায় অবর্তীণ হয়ে বানারীপাড়া ও উজিরপুর এলাকায় দলের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন সহ রাজনৈতিক মামলা-হামলায় ক্ষতিগ্র¯’ ও অসু¯’ বিএনপির নেতা-কর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে নানা ভাবে সহায়তা করছেন। ফলে তৃনমূল নেতা-কর্মীদের আ¯’া ও ভালোবাসা অর্জণ করে তিনি রাজনীতির পাদপ্রদীপের আলোয় চলে এসেছেন । নেতা-কর্মীরা দুঃসময়ের বন্ধু হিসেবে ক্লিন ইমেজের কর্নেল(অব.) সৈয়দ আনোয়ার হোসেনকে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে দেখতে চান তিনিও আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-২(বানারীপাড়া-উজিরপুর) আসনে জাতীয়তবাদী দল বিএনপির মনোনয়ন পেতে আগ্রহী। নির্বাচনের সার্বিক বিষয়ে তার সাথে আমার একান্ত আলাপচারিতার উঠে আসা নানা দিক তুলে ধরা হলো রাজনীতিতে আসার কারন হিসেবে কর্নেল আনোয়ার বলেন বলেন- ছাত্র জীবনে তার রাজনীতিতে হাতে খড়ি। দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে এলাকাবাসীর জন্য কিছু করার তাগিদে এবং সেবার মনোবাসনা থেকেই তাঁর রাজনীতিতে আসা। তাঁর রাজনীতির একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে মানুষেরষ কল্যান। বিএনপির রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এর ১৯ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্যই জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে যোগ দেন। তিনি আরও বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সুশাসন, ন্যায় বিচার নিশ্চিত করা ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত ১৯ দফার বাস্তবায়ন ছাড়া বিকল্প নেই। সেনাবাহিনীতে যোগদানের পরে তৎকালীণ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে কাছ থেকে দেখার সৌভাগ্য হওয়ায় জিয়ার কর্ম ও আদর্শ গভীরভাবে তার হৃদয় স্পর্শ করে । তখন থেকেই তিনি এ আদর্শকে বুকে লালণ ও ধারণ করে সিদ্ধান্ত নেন অবসরে গিয়ে বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে প্রিয় নেতার আদর্শের স্বনির্ভর বাংলাদেশ নির্মানে দেশ ও মানবসেবায় জীবনের শেষ দিনগুলো তাঁর প্রিয় এলাকাবাসী দুঃখ দুর্দশা লাঘবে ব্যয় করবেন ।

বিএনপির প্রাথী হওয়ার ব্যাপারে কর্নেল আনোয়ার বলেন দলীয় নেতা-কর্মী ও এলাকার জনগনের দাবীর প্রেক্ষিতে তিনি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হতে চা”েছন । এখানে উল্লেখ্য যে তিনি বিএনপিতে সদস্য পদ গ্রহন করে বিগত প্রায় ৫ বছর যাবৎ এলাকা ও দলীয় সকল কার্যক্রমে নিজেকে সম্পৃক্ত করে তৃণমূল নেতাকর্মীদের দঃসময়ে ও অসুস্ততায় ছায়ার মত পাশে ছিলেন এবং ভবিষ্যতে ও থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এলাকায় অজনপ্রীয়, কর্মীদের থেকে বিচ্ছিন্নতা, কর্মী বানিজ্য্য ও দঃসময়ে যারা বিদেশে থেকেছেন তারা মনোনয়নন বঞ্চিত হবেন দলের হাই কমান্ডের এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে এবার অপেক্ষাকৃতক ক্লিন ইমেজের যৌগ্য এবং জনপ্রিয়তার মাপককাঠিতে এগিয়ে থাকা প্রার্থীকে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তিনি এলাকার নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করায় এলাকার জনগন তার উপর আ¯’া, ভালবাসা, বিশ্বাস স্থাপন করেছেন। তাই তিনি আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেতে উৎসাহীত ও আগ্রহী হয়েছেন। জনগনের রায় পেলে তিনি এই আসনটি তার নেত্রীকে উপহার দিতে পারবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস করেন।

মনোনয়ন পাবার বিষয়ে কর্নেল আনোয়ার বলেন শিক্ষা, দেশ বিদেশে কর্মজীবন ও পেশাগত জীবনের অভিজ্ঞতা, সর্বপরি দঃসময়ে তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশে থাকার বিষয়টি মূল্যায়ন করে দল তাকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিবেন এমন প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, দলের এই দঃসময়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা যেকোনো প্রয়োজনে আমাকে ডাকলে তাদের সহায়তায় পাশে দাড়াচ্ছি।

কর্নেল আনোয়ার বলেন আগামী নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলে তার নির্বাচনী অঙ্গীকার থাকবে- সমাজের বিশিষ্ট নাগরিকদের ও সকল দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত এলাকা গড়ে তোলার এবং এর প্রতিরোধের জন্য সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার অঙ্গীকার । এলাকার সার্বিক উন্নয়ন, সবার জন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা ও দল মত ধর্ম বর্ন নির্বিশেষে সকলকে নিয়ে একটি সুন্দর সামাজিক ও রাজনৈতিক কালচার তৈরী করা ।

বানারীপাড়া জাতীয়তাবাদী শক্তির মূল দলে এবং অন্যান্য অংগসংঘঠনের মধ্যে এখনও অনৈক্য বা দিধাবিভক্তির কারন জিজ্ঞেস করা হলে কর্নেল আনোয়ার বলেন–বানারীপাড়ায় জাতীয়তাবাদী শক্তির মধ্যে অনৈক্যের জন্য ভোটের অধিকার হরন করে পকেট কমিটি তৈরীর করার বিষয়টিকেই মূল কারন হিসাবে দেখছেন। যেখানে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারুন্যের অহংকার, জাতীয়তাবাদী আদর্শে ভবিষৎ কর্নধার তারেক রহমান ও আমাদের প্রান প্রিয় দল বিএনপি ষোল কোটি মানুষের ভোটের অধিকার রক্ষা করে বাংলাদেশে সত্যিকার গনতন্র প্রতিষ্ঠা করতে চান সেখানে আমাদেরই কিছু ব্যক্তি বিশেষ, উপজেলা পর্যায়ে সৎ ও ত্যাগী নেতৃত্বকে অগ্রাহ্য করে নিজ পছন্দের ব্যক্তিদের নিয়ে পকেট কমিটি তৈরী করত। কমিটিবাজী, ক্ষমতার অপব্যবহার ও অগঠনতান্ত্রীক কাজের মাধ্যমে কাউন্সিলদের ভোটের অধিকার হরণ করছে।

কর্নেল আনোয়ার মনে করেন নেতৃত্ব জনগনের মধ্য থেকে আসে। ভোটের মাধ্যমে আগ্রহী নেতাদের সততা যোগ্যতা, সক্রিয়তার মাপকাঠিতে পরীক্ষিত হয়। একিভুত গনতন্ত্র তথা সব শ্রেনি পেশার মানুষকে দলের মধ্যে গুরুত্ব অনুসারে সংঘঠিত করতে না পারলে এবং তাদেরকে কাজে লাগাতে ব্যার্থ হলে আমাদের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত হবে। তিনি মনে করেন এটা যারা করছেন আর যারা সমর্থন করছেন তারা দলের গঠনতন্র ও আদর্শের বিরুদ্ধে কাজ করছেন।

কর্নেল আনোয়ার তৃনমূল পর্যায়ে সৎ ও ত্যাগী নেতৃবৃন্দের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন এলাকবাসী কতৃর্ক বজ্রকঠিন ভাষায় এর প্রতিবাদ বা প্রতিরোধের পূর্বে জেলা বা কেন্দ্রের নেতৃত্ব নিশ্চয়ই এগিয়ে এসে আমাদের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা করবেন। অন্যথায় এই অনৈক্য বা দিধাবিভক্তির কারনে বরিশাল-২ আসনটি হাত ছাড়া হওয়ার সম্ভাবনা আছে । তবে আমাদের হতাশ হলে চলবে না সামনে দুটি বড় অস্ত্র আছে তাহলো শহীদ জিয়ার আদর্শ ও জিয়া পরিবারের, বিশেষ করে আমাদের দেশনেত্রী ও তারুন্যের অহংকার তারিক জিয়ার নেতৃত্ব দ্বিতীয়টি হলো সচেতন জনগন। গণতন্ত্র মনা এই জনগনের মধ্য থেকে নেতৃত্ব গড়ে তুলে এবং সংগঠনকে শক্তিশালি করতে পারলেই লক্ষ্য অর্জন সহজ সাধ্য হবে বলে কর্নেল আনোয়ার মনে করেন।
দেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের বেশিরভাগ প্রতিনিধি বিনাভোটে নির্বাচিত হওয়ায় তাদের মধ্যে জনগনের কাছে জবাব দিহিতা নেই। এজন্য দেশে আইনের শাসন নেই। গুম-হত্যা বেড়ে গেছে। নারী ও শিশু নির্যাতন ভয়াবহ আকার ধারন করেছে। বিরোধী মতকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে। আমরা বন্ধুহীন হয়ে পড়েছি। তিনি বলেন, দেশের জনগণ এই অবস্থা থেকে মুক্তি চায়। তাই আমি বলব নাগরিক হিসেবে আমাদের মৌলিক অধিকার আদায়ে আরও সোচ্চার হতে হবে। দেশের জনপ্রিয় দল হিসেবে বিএনপিকেও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের গণতান্ত্রিক পথে আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। আগামী নির্বাচনে দলের দুঃসময়ে যারা বিদেশে সফর করে সময় পার করেছেন তাদের পরিবর্তে দুঃসময়ে তৃনমূল নেতাকর্মিদের পাশে থাকা ত্যাগী, নিবেদিত ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে হবে। এক্ষেত্রে দল জনগনের রায়ের বিরুদ্বে কোনো ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তার খেসারত দলকেই দিতে হবে। এইপ্রসংঙ্গে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন সমস্ত দিক বিবেচনা করে যার উপর তারা তাদের আস্থা বিশ্বাস স্থাপন করতে পারবেন তাকেই যেন তারা নিজের পছন্দের জনপ্রতিনিধি হিসাবে নির্বাচিত করতে নির্ভয়ে ভোট কেন্দ্রে যান। কোনো বাধা-বিপত্তি আসলে প্রতিবাদ করার, নিজের ভোটটি স্বাধীনভাবে প্রদান করা সবার গণতান্ত্রিক অধিকার।

  • বরিশাল ক্রাইম নিউজ