আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৭:১১ অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৯ | আপডেট: ৭:১১:অপরাহ্ণ, মার্চ ৭, ২০১৯

ঝালকাঠির কাঠালিয়ার আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে নানান দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন ওই কলেজের শিক্ষক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। বুধবার জেলার গণ মাধ্যমের কাছে এ লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।
অভিযোগে উলে­খ করা হয়, আমুয়া শহীদ রাজা ডিগ্রি কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ আবুল বশার বাদশা ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ উপাধ্যক্ষ পদে যোগদান করে ওই দিনই তিনি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ২০১৭ সালের ১ মে তিনি অধ্যক্ষ পদে পুর্ণাঙ্গ দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হন। নিয়োগ প্রক্রিয়া অস্বচ্ছতার কারণে ঝালকাঠির আদালতে অধ্যক্ষের অবৈধ নিয়োগের ব্যাপারে মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। বাদি পক্ষের সাথে সমঝোতা করে উক্ত মামলা থেকে রক্ষা পেয়ে তার দুর্নীতির মাত্রা আরো বেড়ে যায়।
২০১৬ সাল থেকে এনটিআরসিএ নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে বেসরকারী কলেজের শিক্ষক ও লাইব্রেরিয়ান পদের নিয়োগ প্রচলন হয়। কলেজের কৃষি শিক্ষার কোন বিভাগ নেই, নেই কোন ছাত্রও। চলতি বছরের জানুয়ারী মাসের এমপিওতে ভৌতিকভাবে পলাশ চন্দ্র শীল নামের একজনের ২২ হাজার টাকা স্কেলে বিল পাশ হয়ে আসে। এর নেপথ্যে লক্ষ লক্ষ টাকার ঘুষ বাণিজ্য হয়েছে বলে অভিযোগে উলে­খ করা হয়েছে। এছাড়াও কলেজের লাইব্রেরিয়ান পদে কোন নিয়োগ প্রক্রিয়া গ্রহণ না করে ৩ বছর পূর্বে কর্মরত দেখিয়ে জানুয়ারী মাসেই ২২হাজার টাকা স্কেলে আসাদুল নামের একজনের এমপিও হয়।
অভিযোগপত্রে আরো উলে­খ করা হয়,মহাবিদ্যালয় জনবল কাঠামোর বেশি কর্মচারী থাকা সত্তে¡ও লক্ষ লক্ষ টাকা ঘুষ বাণিজ্যের মাধ্যমে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে ৭জনকে বিধি বহির্ভূতভাবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কলেজের অভ্যন্তরীণ সম্পদ গাছ, পুকুরের মাছ ও কলেজের জায়গায় দোকানঘর তুলে বরাদ্দ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা অধ্যক্ষ আত্মসাত করেন। এছাড়াও বিভিন্ন সময় জেলা পরিষদ ও উপজেলা পরিষদ থেকে মাঠ ভরাট, শহীদ মিনার নির্মাণসহ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ আসা টাকাও আত্মসাত করেন তিনি। এইচএসসি পরীক্ষার সময় নকলের সুযোগ দেয়ার কথা বলে প্রতি শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ২ হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেন। ক্ষমতার অপব্যবহার করে অধ্যক্ষ আবুল বশার বাদশা কলেজ পরিচালনা কমিটির সদস্য, শিক্ষক, কর্মচারীদের সাথে দুর্ব্যবহার করে মিথ্যা বিল ভাউচারের মাধ্যমে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক টাকা আত্মসাত করেন।
এ ব্যাপারে কলেজ অধ্যক্ষ আবুল বশার বাদশা জানান,‘আমি কলেজের সকলকে সকাল ৯টা থেকে ৩ টা পর্যন্ত দায়িত্ব পালনের কঠোর নির্দেশ দেয়ায় তারা আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। এ কারণে তারা আমার নামে বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ ও বিভিন্ন জনের কাছে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ঝালকাঠি- ১ (রাজাপুর-কাঠালিয়া) আসনের সংসদ সদস্য বজলুল হক হারুন’র কাছে জানতে বুধবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে ০১৭৩০০০২৬৭৭ ও ০১৭৩০০০২৭০৭ নম্বরে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।